নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় চর দখল নিয়ে চলমান বিরোধে গুলিবর্ষণ ঘটেছে, যার ফলে ছয়জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। গৃহীত তথ্য অনুযায়ী, গৃহহীন জঙ্গলের গভীরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যা পূর্বে গুলিবর্ষণের পর পাওয়া পাঁচটি দেহের সঙ্গে যুক্ত।
হাতিয়া থানার ওসি মো. সাইফুল আলমের মতে, সন্ধ্যাবেলায় পুলিশ দল জঙ্গলের অগভীর অংশে গিয়ে মৃতদেহগুলো উদ্ধার করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, দেহগুলো সনাক্তকরণের পর পরিবারকে জানানো হয়েছে এবং মৃতদেহগুলোকে সঠিকভাবে দাফন করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মৃতদেহগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিলেন সামছুদ্দিন, যাকে স্থানীয়ভাবে কোপা সামছু বা কোপা সামছুর নামে পরিচিত। তিনি হাতিয়া উপজেলার জাহাজমারা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ছিলেন এবং চর এলাকায় বিভিন্ন অবৈধ কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয় মানুষ তাকে জানতো।
বাকি মৃতদের মধ্যে রয়েছে হাতিয়ার সুখচর ইউনিয়নের চর আমানউল্যাহ গ্রামের মহিউদ্দিনের ছেলে, সামছু বাহিনীর নেতা মো. আলাউদ্দিন (৩৫), চানন্দী ইউনিয়নের নলের চরের সেকু মিয়ার ছেলে কামাল উদ্দিন (৪০), হাতিয়া পৌরসভার পশ্চিম লক্ষিদিয়া এলাকার শাহ আলমের ছেলে হক সাব (৫৫), সুবর্ণচর উপজেলার দক্ষিণ চর মজিদের জয়নাল আবেদিনের ছেলে আবুল কাশেম (৬২) এবং সামছুদ্দিনের ছেলে মোবারক হোসেন সিহাবের (২৩)।
এই ঘটনার পটভূমি হল মঙ্গলবার সকাল থেকে দিনভর চলা গুলিবর্ষণ, যেখানে হাতিয়ার সুখচর ইউনিয়নের জাগলার চর দখল নিয়ে সামছু বাহিনী ও আলাউদ্দিন বাহিনীর মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ ঘটেছিল। উভয় পক্ষের মধ্যে গুলিবর্ষণ ও হাতে-হাতে লড়াইয়ের ফলে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু এবং দশজনের বেশি আহতের খবর পাওয়া গিয়েছে।
সেই গুলিবর্ষণের পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি মৃতদেহ উদ্ধার করে, তবে কোপা সামছুর দেহ তখনও অজানা ছিল। তার পরিবার দাবি করেছিল, গুলিবর্ষণের পর দেহটি গোপনে গোপন করা হয়েছে। এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ জঙ্গলের গভীরে অনুসন্ধান চালিয়ে গিয়ে শেষ পর্যন্ত কোপা সামছুর দেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
পুলিশের মতে, গুলিবর্ষণের সময় ব্যবহার করা অস্ত্র ও গুলি-ধ্বংসাবশেষ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে। সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সদস্যদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে।
অধিক তদন্তে দেখা যাবে, গুলিবর্ষণের মূল কারণ এবং চর দখল নিয়ে উভয় গোষ্ঠীর মধ্যে কী ধরনের ক্ষমতার লড়াই চলছে। বর্তমানে পুলিশ গুলিবর্ষণের সময় উপস্থিত থাকা সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার ও জিজ্ঞাসাবাদে মনোনিবেশ করেছে।
স্থানীয় প্রশাসনও ঘটনাস্থলকে নিরাপদ রাখতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং ভবিষ্যতে এমন সংঘর্ষ রোধে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।
এই ঘটনায় মৃতদেহের সনাক্তকরণ, পরিবারকে জানানো এবং দাফন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর, সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে। পুলিশ ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মতে, গুলিবর্ষণের দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
অবশেষে, এই ধরনের চর দখল সংক্রান্ত বিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং শান্তিপূর্ণ সমাধান নিশ্চিত করার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।



