গাজীপুরের কালিগঞ্জে আজ বিকেল ৪:৩০ টার দিকে একটি ট্রেনের ধাক্কায় তিনজন পথচারী নিহত হয়। ঘটনাটি আরিখোলা রেলস্টেশনের নিকটবর্তী আরিখোলা সেতু ও দেয়ালটেক রোডের মাঝামাঝি ঘটেছে। ভিকটিমরা রেললাইন বরাবর বাড়ি ফেরার পথে হেঁটে যাচ্ছিলেন এবং ট্রেনের গতি ও শব্দ শোনার আগে ধাক্কা খেয়ে গেছেন। ট্রেনটি নোয়াখালী দিকে চলমান উপকূল এক্সপ্রেস, যা টঙ্গি-ভৈরব লাইনে চলাচল করে।
উপকূল এক্সপ্রেসটি আরিখোলা স্টেশন পার হয়ে গিয়ে ট্র্যাকের দিকে অগ্রসর হয়। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, ট্রেনটি ৪:৩০ টার দিকে স্টেশনের কাছাকাছি পৌঁছায় এবং ভিকটিমদের সামনে অপ্রত্যাশিতভাবে গতি বাড়ায়। ট্রেনের গতি ও সিগন্যালের কারণে পথচারীরা সময়মতো ট্রেনের উপস্থিতি লক্ষ্য করতে পারেনি এবং তৎক্ষণাৎ আঘাত পায়।
মৃতদেহের মধ্যে দুইজন নারী ও একজন ছোট ছেলে ছিলেন, যা স্টেশন ম্যানেজার মানিক মিয়ার বর্ণনা অনুযায়ী নিশ্চিত হয়েছে। ভিকটিমদের পরিচয় তখনো নির্ধারিত হয়নি, তবে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত পুলিশকে জানায়। পুলিশ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে।
আরিখোলা স্টেশন ম্যানেজার মানিক মিয়া জানান, ট্রেনের গতি ও সিগন্যালের ত্রুটির কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি, তবে রেললাইন বরাবর অপ্রয়োজনীয় হেঁটে চলা একটি ঝুঁকি। তিনি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানোর আহ্বান জানান।
কালিগঞ্জ থানা অফিসার ইন চার্জ মোঃ জাকির হোসেন ঘটনাটিকে “দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর মামলা” হিসেবে রেজিস্টার করে জানান, মৃতদেহের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর আইনি প্রক্রিয়া চালু হবে। তিনি উল্লেখ করেন, রেলওয়ে বিভাগ ও পুলিশ সমন্বয়ে তদন্ত চলবে এবং দায়িত্বশীলদের ওপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশের মতে, মৃতদেহের পরিচয় নিশ্চিত করতে পরিবারিক তথ্য, নিকটস্থ বাসিন্দাদের সাক্ষ্য এবং রেজিস্ট্রেশন ডেটা ব্যবহার করা হবে। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর মৃতদেহকে পরিবারকে হস্তান্তর করা হবে এবং আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। একই সঙ্গে রেলওয়ে বিভাগকে ট্রেনের গতি, সিগন্যাল সিস্টেম এবং রেললাইন নিরাপত্তা ব্যবস্থার পর্যালোচনা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা রেললাইন বরাবর হেঁটে চলার ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্কতা প্রকাশ করেছেন। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে যে, রেললাইন পারাপারের নির্দিষ্ট স্থানে সিগন্যাল ও ফেন্সিং বাড়িয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক। এছাড়া, রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় সঠিক চিহ্নিতকরণ ও সতর্কতা সাইন স্থাপন করা জরুরি বলে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন।
গাজীপুরের কালিগঞ্জে এই ট্রেন দুর্ঘটনা রেললাইন নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত চলমান থাকায়, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে তা শীঘ্রই জানানো হবে।



