আফ্রিকার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট কিলিমাঞ্জারোতে বুধবার সন্ধ্যায় একটি রেসকিউ হেলিকপ্টার ধসে পাঁচজনের প্রাণ নেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনা ঘটেছে বারাফু ক্যাম্প ও কিবো শীর্ষের মধ্যে, যেখানে উচ্চতা ৪,০০০ মিটারের উপরে। টানজানিয়ার পুলিশ জানিয়েছে, হেলিকপ্টারটি রোগী উদ্ধার করার উদ্দেশ্যে গিয়েছিল, তবে উড্ডয়নের সময় তা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধসে পড়ে।
বিক্রিত তথ্য অনুযায়ী, দুইজন বিদেশি রোগী, যাদেরকে চিকিৎসা সেবার জন্য হেলিকপ্টারে তুলে নেওয়া হয়েছিল, তাদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। উভয় রোগীই চেক প্রজাতন্ত্রের নাগরিক এবং জিম্বাবুয়ের। তাদের পাশাপাশি, একটি স্থানীয় ডাক্তার, একটি ট্যুর গাইড এবং পাইলটের মৃত্যুও ঘটেছে।
হেলিকপ্টারটি কিলিমাঞ্জারো এভিয়েশন কোম্পানির মালিকানাধীন, তবে কোম্পানি এখনো ঘটনায় কোনো মন্তব্য করেনি। টানজানিয়া সিভিল এভিয়েশন অথরিটি বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসারে তদন্ত শুরু হয়েছে, যাতে দুর্ঘটনার কারণ ও পরিস্থিতি নির্ণয় করা যায়।
এই ধরনের বিমান দুর্ঘটনা মাউন্ট কিলিমাঞ্জারোতে বিরল। শেষবারের মতো এমন ঘটনা ঘটেছিল নভেম্বর ২০০৮-এ, যখন চারজনের মৃত্যু হয়েছিল। তবুও, শীর্ষে আরোহণকারী পর্যটকদের সংখ্যা প্রতি বছর হাজার হাজারে পৌঁছায়, এবং উচ্চতার কারণে সৃষ্ট অসুস্থতা প্রায়শই সমস্যার সৃষ্টি করে।
আঞ্চলিক পর্যটন শিল্পের উপর এই ঘটনার প্রভাব স্পষ্ট। টানজানিয়ার পর্যটন মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে, কিলিমাঞ্জারোকে দেশের প্রধান পর্যটন আকর্ষণ হিসেবে রক্ষা করতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতি জরুরি। একই সঙ্গে, চেক প্রজাতন্ত্র ও জিম্বাবুয়ের দূতাবাসগুলোও প্রভাবিত পরিবারগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কনসুলার সহায়তা প্রদান করছে।
একজন আন্তর্জাতিক বিমান নিরাপত্তা বিশ্লেষক উল্লেখ করেছেন, “আফ্রিকায় উচ্চ-উচ্চতার রেসকিউ অপারেশনগুলোতে বিশেষ প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জামের প্রয়োজন, যা প্রায়শই সীমিত সম্পদের কারণে চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়ায়।” তিনি আরও বলছেন, টানজানিয়ার কর্তৃপক্ষের দ্রুত তদন্ত ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের অনুসরণ ভবিষ্যতে অনুরূপ দুর্ঘটনা রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কিলিমাঞ্জারোতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতির জন্য বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে রেসকিউ হেলিকপ্টারের রক্ষণাবেক্ষণ ও পাইলট প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত। তবে, এই দুর্ঘটনা দেখায় যে উচ্চ-উচ্চতার পরিবেশে অপারেশন চালানোর সময় অতিরিক্ত সতর্কতা প্রয়োজন।
টানজানিয়ার কিলিমাঞ্জারো রিজিয়নাল পুলিশ কমান্ডার সাইমন মাইগোয়া মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলার সময় জানান, “দুর্ঘটনা ঘটেছে যখন হেলিকপ্টারটি বারাফু ক্যাম্প থেকে কিবো শীর্ষের দিকে উড়ছিল, এবং আমরা এখনো সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ণয়ের জন্য সব প্রমাণ সংগ্রহ করছি।” তিনি অতিরিক্তভাবে উল্লেখ করেন, “প্রতিটি রেসকিউ মিশনকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা মানদণ্ডে পরিচালনা করা আমাদের দায়িত্ব।”
এই ঘটনার পর, টানজানিয়ার সরকার ও পর্যটন সংস্থাগুলো আন্তর্জাতিক পর্যটন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা প্রোটোকল পুনর্বিবেচনা করার পরিকল্পনা করেছে। একই সঙ্গে, চেক ও জিম্বাবুয়ের দূতাবাসগুলোও তাদের নাগরিকদের জন্য কনসুলার সহায়তা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার প্রভাব কমানো যায়।
অবশেষে, মাউন্ট কিলিমাঞ্জারোর মতো উচ্চ-উচ্চতার পর্যটন গন্তব্যে রেসকিউ অপারেশন চালানোর সময় নিরাপত্তা ও প্রস্তুতির গুরুত্ব পুনরায় জোরদার হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন ও সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে, টানজানিয়া এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে পর্যটকদের নিরাপদে শীর্ষে পৌঁছানোর সুযোগ নিশ্চিত করতে পারে।



