২৪ ডিসেম্বর, বুধবার সকাল আটটায় সুরাটের জাহাঙ্গীরপুরা এলাকায় অবস্থিত টাইমস গ্যালাক্সি ভবনের দশম তলার এক ফ্ল্যাটে ঘুমিয়ে থাকা ৫৭ বছর বয়সী নীতিনভাই আদিয়া হঠাৎ করে জানালার কাছ থেকে নিচে গিয়ে পড়েন। দুই তলা নিচে অষ্টম তলার একটি ফ্ল্যাটের জানালার গ্রিলে তার পা আটকে যায়, ফলে মৃত্যুর ঝুঁকি তীব্র হয়ে ওঠে। ঘটনাস্থলে দ্রুত ফায়ার ব্রিগেডের দল পৌঁছে, এক ঘণ্টারও বেশি সময়ের মধ্যে তাকে নিরাপদে বের করে আনা হয়।
নীতিনভাই আদিয়া তার নিজের ফ্ল্যাটের জানালার পাশে শুয়ে ছিলেন, যেখানে তিনি ঘুমের মধ্যে হঠাৎ করে অস্থির হয়ে পড়ে যান। জানালার সীমানা অতিক্রম করে তিনি নিচের তলায় নেমে যান, কিন্তু অষ্টম তলার গ্রিলের মধ্যে পা আটকে যাওয়ায় তার দেহ নিচে নামতে পারে না। এই অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি তার জীবনকে হুমকির মুখে ফেলে দেয়।
পড়ে যাওয়ার পরপরই আশেপাশের প্রতিবেশীরা ঘটনাটির খবর ফায়ার ব্রিগেডের কর্মকর্তাদের জানায়। জাহাঙ্গীরপুরা, পালানপুর এবং আদাজান তিনটি ফায়ার স্টেশন থেকে দল একত্রিত হয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। উদ্ধারকর্মীরা প্রথমে পা আটকে থাকা অবস্থায় নীতিনভাইকে স্থিতিশীল করে, তারপর দড়ি ও সুরক্ষা বেল্ট ব্যবহার করে তাকে ধীরে ধীরে উপরে টেনে আনে।
উদ্ধার প্রক্রিয়ায় দড়ি ও সুরক্ষা বেল্টের পাশাপাশি বিশেষ গ্রিপিং যন্ত্রও ব্যবহার করা হয়, যাতে পা আটকে থাকা গ্রিল থেকে কোনো অতিরিক্ত আঘাত না হয়। দমকল কর্মীরা সতর্কতার সঙ্গে কাজ চালিয়ে গিয়ে এক ঘণ্টারও বেশি সময়ের মধ্যে নীতিনভাইকে নিরাপদে তলার ফ্ল্যাট থেকে বের করে আনে। উদ্ধারকৃত ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল, তবে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়।
ফায়ার ব্রিগেডের কর্মকর্তারা জানান, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর তারা প্রথমে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে, তারপর নিরাপত্তা বেল্ট ও রোপের মাধ্যমে উদ্ধার পরিকল্পনা তৈরি করেন। তিনটি ফায়ার স্টেশনের সমন্বিত প্রচেষ্টা এবং দমকল কর্মীদের দ্রুত প্রতিক্রিয়া এই সফল উদ্ধারকে সম্ভব করেছে।
স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাটির পরিপ্রেক্ষিতে একটি তদন্ত শুরু করেছে। ভবনের নিরাপত্তা মান, জানালার গঠন এবং গ্রিলের নকশা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হবে। এছাড়া, ভবনের মালিক ও রক্ষণাবেক্ষণ দায়িত্বশীলদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করে ভবনের নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ মানদণ্ডের সাথে সামঞ্জস্য যাচাই করা হবে।
আইনি দিক থেকে, এই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে ভবন নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিধি লঙ্ঘনের সম্ভাবনা থাকে। যদি তদন্তে দেখা যায় যে জানালার সুরক্ষা ব্যবস্থা বা গ্রিলের নকশা যথাযথ না হয়, তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। এছাড়া, ভবনের মালিককে ভবনের নিরাপত্তা রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়মিত পরিদর্শনের দায়িত্ব পালন করতে হবে, তা না হলে জরিমানা বা অন্যান্য শাস্তি আরোপিত হতে পারে।
অধিকন্তু, স্থানীয় পুলিশ ও ফায়ার সেবা দল জনসাধারণকে সতর্ক করেছে যে, উচ্চতর তলায় ঘুমানোর সময় জানালার কাছে অতিরিক্ত বসা বা শোয়া নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়াতে পারে। ভবনের জানালার সুরক্ষা গ্রিলের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিয়মিত পরিদর্শন করা জরুরি, যাতে অনিচ্ছাকৃতভাবে কোনো ব্যক্তি নিচে না পড়ে।
এই ঘটনার পর, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভবনের নিরাপত্তা মানদণ্ডের পুনঃমূল্যায়ন এবং ভবন মালিকদের জন্য সচেতনতামূলক কর্মশালা আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে। ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বাসিন্দাদের নিরাপদ ঘুমের পরিবেশ প্রদান করা এই ধরনের দুর্ঘটনা রোধে গুরুত্বপূর্ণ বলে জোর দেওয়া হয়েছে।
তদন্ত চলমান থাকায়, ভবনের নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো ত্রুটি বা অবহেলা প্রকাশিত হলে তা দ্রুত আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধান করা হবে। নীতিনভাই আদিয়ার পরিবারকে ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে, এবং ভবিষ্যতে এধরনের দুর্ঘটনা না ঘটার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



