লন্ডনে ১৭ বছর কাটিয়ে তারেক রহমান ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে আসেন, যা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, তারেকের প্রত্যাবর্তন বিএনপির জন্য বড় সাফল্য এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তাকে প্রধানমন্ত্রীর শীর্ষ প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, তারেকের ফিরে আসা রাজনৈতিক প্রভাব, জনসমাবেশের সম্ভাবনা এবং দেশের স্থিতিশীলতার ওপর নতুন ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।
রয়টার্সের প্রথম প্রতিবেদনে শিরোনাম দেয়া হয়েছে, “বাংলাদেশের সম্ভাব্য পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাসন থেকে নির্বাচনের আগে দেশে ফিরছেন”。 এতে বলা হয়েছে, তারেকের প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে বিএনপি বিশাল জনসমাবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেখানে বিমানবন্দর থেকে সংবর্ধনা স্থান পর্যন্ত প্রায় পাঁচ লাখ সমর্থককে একত্রিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই সংখ্যাটি দলের এক জ্যেষ্ঠ নেতার মতে, দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অনন্য একটি মুহূর্তের সূচনা নির্দেশ করে।
একই প্রতিবেদনে ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) এর মুখপাত্রের মন্তব্যও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, চরম চাপ ও হুমকির মুখে তারেককে নির্বাসনে যেতে হয়েছিল, তাই তার দেশে ফিরে আসা একটি প্রতীকী ঘটনা। তিনি আরও বলেন, তারেকের আগমন বিএনপি কর্মী ও সমর্থকদের মনোবল বাড়াবে এবং রাজনৈতিক প্রতিযোগিতাকে তীব্র করবে।
১৯৯১ সাল থেকে বাংলাদেশে মূলত দুই দল—খালেদা জিয়া নেতৃত্বাধীন বিএনপি এবং শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ—এর মধ্যে ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটেছে। স্বল্প সময়ের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারও ছিল। তবে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারবে না, ফলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন যে এই নির্বাচনে বিএনপি প্রভাবশালী অবস্থানে থাকবে।
রয়টার্সের দ্বিতীয় প্রতিবেদনে তারেকের দেশে পৌঁছানোর পরের দৃশ্য বর্ণনা করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে, তিনি খালি পায়ে মাটিতে পা রাখেন এবং এক মুঠো মাটি হাতে তুলে নেন, যা তার দেশের প্রতি গভীর সংযুক্তি প্রকাশ করে। এরপর তিনি সমর্থকদের সামনে হাসি দিয়ে স্বাগত জানিয়ে, দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
বিএনপির অভ্যন্তরীণ সূত্র অনুযায়ী, তারেকের ফিরে আসা পার্টির সংগঠন ও প্রচার কার্যক্রমকে নতুন দিক দেবে। দলটি এখন নির্বাচনের আগে জনসাধারণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের জন্য বৃহৎ সমাবেশের পরিকল্পনা করছে, যেখানে রেলওয়ে, সড়ক ও বিমানবন্দর থেকে সমর্থকদের আনা হবে। এই সমাবেশের লক্ষ্য শুধুমাত্র ভোটার সংখ্যা বাড়ানো নয়, বরং রাজনৈতিক ঐক্য ও নেতৃত্বের স্বীকৃতি নিশ্চিত করা।
প্রতিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে, আওয়ামী লীগের কিছু বিশ্লেষক তারেকের প্রত্যাবর্তনকে রাজনৈতিক অস্থিরতার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখছেন। তারা সতর্ক করছেন যে, দীর্ঘ সময়ের নির্বাসন শেষে ফিরে আসা নেতার উত্সাহ ও জনপ্রিয়তা স্বল্পমেয়াদে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে, যা দেশের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করতে পারে।
অন্যদিকে, এনসিপি এবং অন্যান্য ছোট দলগুলোও তারেকের ফিরে আসা নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেছে, তাকে দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করার সুযোগ হিসেবে দেখেছে। তারা আশা প্রকাশ করেছে, তারেকের উপস্থিতি রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা বাড়াবে।
রয়টার্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আগামী মাসে অনুষ্ঠিত হবে একাধিক রাজনৈতিক সমাবেশ, যেখানে তারেকের উপস্থিতি কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করবে। এই সমাবেশগুলোতে পার্টির কর্মী, সমর্থক এবং সাধারণ নাগরিকদের অংশগ্রহণ প্রত্যাশিত, যা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও জোরালো করে তুলবে।
সারসংক্ষেপে, তারেক রহমানের দেশে ফিরে আসা এবং সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী পদে তার প্রোফাইল, দেশের রাজনৈতিক গতিপথে নতুন মোড় আনতে পারে। ২০২৬ সালের নির্বাচনের পূর্বে তারেকের ভূমিকা, বিএনপির কৌশল এবং অন্যান্য দলের প্রতিক্রিয়া দেশের ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্কতা ও আশাবাদ উভয় দিক থেকে এই ঘটনার পরিণতি পর্যবেক্ষণ করছেন, যাতে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে চলতে পারে।



