বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ২৫ ডিসেম্বর রাত একটায় অর্ধেক মিনিটে নিজের যাচাই‑কৃত ফেসবুক পেজে একটি ধর্মীয় বার্তা প্রকাশ করেন। পোস্টে তিনি আল্লাহকে “সার্বভৌম শক্তির মালিক” বলে সম্বোধন করে, ক্ষমতার দান‑ও প্রত্যাহার, সম্মান‑হীনতা এবং সর্বশক্তিমত্তার কথা উল্লেখ করেন। তিনি লিখেছেন, ‘হে সার্বভৌম শক্তির মালিক আল্লাহ্! আপনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমতা প্রদান করেন এবং যার থেকে ইচ্ছা ক্ষমতা কেড়ে নেন; যাকে ইচ্ছা আপনি সম্মানিত করেন আর যাকে ইচ্ছা আপনি হীন করেন। কল্যান আপনারই হাতে। নিশ্চয়ই আপনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান।’
তারেক রহমানের এই পোস্টটি তার দীর্ঘ ১৭‑বছরের নির্বাসন‑পরবর্তী দেশে ফিরে আসার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি যুক্তরাজ্যের লন্ডন থেকে বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে সিলেটের দিকে রওনা হন, যা সকাল নয়টায় পঞ্চান্ন মিনিটে সিলেটের বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সিলেট থেকে ঢাকা হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তার যাত্রা বেলা এগারোটা তেত্রিশ মিনিটে শেষ হয়, যেখানে তিনি সরাসরি হোয়াটসঅ্যাপ ও সামাজিক মাধ্যমে উপস্থিতি জানিয়ে দেন।
বিএনপি’র উচ্চপদস্থ নেতা হিসেবে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন গতিপথ তৈরি করতে পারে। ২০০৮ সালে তিনি প্রথমবারের মতো দেশের বাইরে গিয়ে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে গিয়েছিলেন এবং এরপর থেকে তিনি বিভিন্ন দেশে বাস করে আসা‑যাওয়া করছিলেন। তার দীর্ঘদিনের নির্বাসন‑পরবর্তী এই প্রত্যাবর্তন, বিশেষ করে তার সামাজিক মিডিয়ায় প্রকাশিত ধর্মীয় মন্তব্য, সমর্থক ও বিরোধী উভয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
বিএনপি’র অভ্যন্তরে তারেকের এই পদক্ষেপকে দলীয় নেতৃত্বের সমর্থন হিসেবে দেখা হচ্ছে। পার্টির অন্যান্য উচ্চপদস্থ নেতারা তার ফিরে আসা ও দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহণের পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন। তবে বিরোধী দল, বিশেষ করে আওয়ামী লীগ, তার মন্তব্যকে ধর্মীয় সংবেদনশীলতা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের মিশ্রণ হিসেবে সমালোচনা করেছে। সরকারী সূত্রে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য না থাকলেও, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এই ঘটনার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আলোচনা করছেন।
তারেকের ফেসবুক পোস্টে ব্যবহৃত ভাষা ও ধর্মীয় রেফারেন্স দেশের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক আলোচনার মঞ্চে নতুন এক দৃষ্টিকোণ যোগ করেছে। তিনি আল্লাহকে সর্বশক্তিমান হিসেবে উল্লেখ করে, ক্ষমতার দান‑ও প্রত্যাহারকে মানবিক আচরণের সঙ্গে যুক্ত করেছেন, যা তার রাজনৈতিক অবস্থানকে ধর্মীয় নীতির সঙ্গে সমন্বয় করার ইঙ্গিত দেয়। এই ধরনের প্রকাশনা রাজনৈতিক বক্তৃতায় ধর্মীয় উপাদান যুক্ত করার প্রবণতা বাড়িয়ে তুলতে পারে, বিশেষ করে নির্বাচনী সময়ে ভোটারদের মনোভাব গঠন করতে।
তারেকের দেশে ফিরে আসা এবং সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যের ফলে ভবিষ্যতে তার রাজনৈতিক কৌশল কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তিনি কি পার্টির অভ্যন্তরে নতুন নীতি প্রস্তাব করবেন, নাকি বিদ্যমান কাঠামোর মধ্যে কাজ চালিয়ে যাবেন, তা সময়ই বলবে। তবে স্পষ্ট যে, তার উপস্থিতি বিএনপি’র সংগঠনগত কাঠামোকে পুনর্গঠন ও নতুন জোট গঠনের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, তারেক রহমানের ১৭‑বছরের নির্বাসন‑পরবর্তী দেশে প্রত্যাবর্তন এবং তার ফেসবুক পোস্টে প্রকাশিত ধর্মীয় মন্তব্য দেশের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় পরিবেশে নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এই ঘটনাটি পার্টির অভ্যন্তরে ও বহির্ভূত উভয় স্তরে বিশ্লেষণ ও প্রতিক্রিয়ার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, এবং আগামী সময়ে দেশের রাজনৈতিক গতিপথে এর প্রভাব কী হবে, তা পর্যবেক্ষণ করা হবে।



