22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধওড়িশায় 'বাংলাদেশি' সন্দেহে পশ্চিমবঙ্গের যুবককে পিটিয়ে হত্যা

ওড়িশায় ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে পশ্চিমবঙ্গের যুবককে পিটিয়ে হত্যা

ওড়িশার সম্বলপুর জেলার দানিপালি গ্রামে বুধবার রাত ৮:৩০ টার দিকে একটি নির্মাণ শ্রমিককে ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ১৯ বছর বয়সী জুয়েল রানা, পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার সুতি অঞ্চলের বাসিন্দা, কাজের জন্য ওড়িশা গিয়েছিলেন। তার দুই সহকর্মীও একই সময়ে মারধর সহ্য করে আহত হয় এবং স্থানীয় হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

জুয়েল রানা পাঁচ দিন আগে বাড়ি থেকে কাজের উদ্দেশ্যে ওড়িশা গিয়েছিলেন এবং স্থানীয় নির্মাণ সাইটে শ্রমিক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। তার পরিবার জানায়, তিনি একা না গিয়ে দুইজন সহকর্মীর সঙ্গে গিয়েছিলেন এবং সন্ধ্যাবেলায় বাড়িতে খাবার শেষ করে বেরিয়ে গিয়েছিলেন।

সাক্ষী পল্টু শেখের মতে, রাতের অন্ধকারে কিছু লোক তাদের বাড়ির সামনে এসে বিড়ি চাওয়ার জন্য অনুরোধ করে। বিড়ি পাওয়ার পরেই তারা জুয়েল ও তার সঙ্গীদের ‘বাংলাদেশি’ বলে সন্দেহ করে এবং পরিচয়পত্র দেখার দাবি করে। একজন শ্রমিককে আদার কার্ড আনতে বাড়িতে পাঠানো হয়, তখনই হিংসা শুরু হয়।

শহরের কিছু বাসিন্দা জানান, হিংসাকারীরা জুয়েল ও তার সঙ্গীদের গলা চেপে ধরতে থাকে এবং শারীরিক আঘাতের পাশাপাশি হুমকি দেয় যে তারা ‘বাংলাদেশি’ হলে শাস্তি পাবে। এক কর্মী বলেন, হিংসা চলাকালীন একজন শ্রমিক পালিয়ে গিয়ে অন্যদের জানায় যে তারা মারধর করা হচ্ছে এবং সাহায্য চায়।

হিংসা শেষ হওয়ার পর জুয়েল রানা গুরুতর আঘাতে মৃত্যুবরণ করে। তার দুই সহকর্মী, সাদ্দাম হুসেন ও অন্য এক শ্রমিক, আহত অবস্থায় নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। স্থানীয় চিকিৎসকরা জানান, তাদের শারীরিক ক্ষতি মারাত্মক না হলেও তীব্র শারীরিক আঘাতের ফলে তীব্র ব্যথা ও শক অবস্থায় রয়েছে।

স্থানীয় পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও শারীরিক প্রমাণের ভিত্তিতে ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সম্বলপুরের মহকুমা পুলিশ অফিসার, এসডিপিও, উল্লেখ করেন, গ্রেফতারের মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দা ও কিছু অপরিচিত ব্যক্তি অন্তর্ভুক্ত। তারা বর্তমানে জেলখানায় রাখা হয়েছে এবং তদন্ত চলমান।

পুলিশের মতে, অপরাধের মূল কারণ ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহের ওপর ভিত্তি করে পরিচয়পত্র চাওয়া এবং তা না পেলে হিংসা করা। তদন্তকারী কর্মকর্তারা হিংসাকারীদের উদ্দেশ্য ও সংগঠন সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহের জন্য স্থানীয় জনগণ ও শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে সাক্ষাৎকার চালিয়ে যাচ্ছেন।

পরিবহন শ্রমিকদের একটি সংগঠন বলছে, কেন্দ্রীয় সরকারের ‘বাংলাদেশি’ ও ‘রেহিঙ্গা’ ধরার বিশেষ প্রক্রিয়ার ফলে বাংলাভাষী মুসলমান শ্রমিকদের উপর বৈষম্য বাড়ছে। তারা উল্লেখ করে, পূর্বে একই ধরনের হুমকি ও হিংসা ঘটলেও এত গুরুতর মারধর আগে দেখা যায়নি।

এই ঘটনা দেশের বিভিন্ন অংশে ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে গৃহীত হিংসার ধারাকে পুনরায় আলোচনার মুখে এনেছে। মানবাধিকার সংস্থা ও শ্রমিক সংগঠনগুলো স্থানীয় প্রশাসনকে অনুরোধ করেছে, সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে।

গৃহীত আইনি পদক্ষেপের মধ্যে, গ্রেফতারের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং মামলার শুনানি শীঘ্রই শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি ও আদালতের রায়ের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের উপর কঠোর শাস্তি আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments