নটিংহাম ফরেস্ট এবং স্কটল্যান্ডের প্রাক্তন ফুটবলার জন রবার্টসন ৭২ বছর বয়সে মারা গেছেন। তার মৃত্যু ক্লাবের ভক্ত ও সমর্থকদের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে।
রবার্টসন ১৯৭০-এর দশকে ব্রায়ান ক্লফের অধীনে ফরেস্টের উত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ক্লফের নেতৃত্বে দলটি দ্বিতীয় বিভাগ থেকে শীর্ষে উঠে একাধিক বড় ট্রফি জিতে, বিশেষ করে পরপর দুই বছর ইউরোপীয় কাপ জয় করে।
ইউরোপীয় কাপের প্রথম বিজয়ে রবার্টসন গুরুত্বপূর্ণ গোলের সহায়তা করেন, আর দ্বিতীয় বিজয়ে তিনি নিজেই ম্যাচের নির্ধারক গোলটি করেন। এই দু’টি মুহূর্ত তাকে ব্রিটিশ ফুটবলের অন্যতম স্মরণীয় খেলোয়াড়ের মর্যাদা এনে দিয়েছে।
স্কটল্যান্ডের হয়ে তিনি মোট ২৮টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে অংশ নেন এবং মে ১৯৮১-এ ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে হোম চ্যাম্পিয়নশিপের জয় নিশ্চিতকারী গোলটি তিনি করেন। এই গোলটি দেশের ফুটবলের ইতিহাসে বিশেষ স্থান দখল করে।
নটিংহাম ফরেস্টের পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “জন রবার্টসন আমাদের ক্লাবের সত্যিকারের কিংবদন্তি এবং প্রিয় বন্ধু। দু’বারের ইউরোপীয় কাপ বিজয়ী, তার অসাধারণ প্রতিভা, বিনয় এবং ক্লাবের প্রতি অটুট নিবেদন কখনো ভুলবে না।” পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে ক্লাবের কর্মকর্তারা শোক প্রকাশ করেছেন।
জন রবার্টসন ১৯৫৩ সালের জানুয়ারিতে স্কটল্যান্ডের ল্যানার্কশায়ার, উদ্ডিংস্টন শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ড্রামচ্যাপেল অ্যামেচার এফসিতে তরুণ বয়সে ফুটবলে পা রাখেন, এরপর ১৯৭০ সালের মে মাসে নটিংহাম ফরেস্টে যোগ দেন।
ফরেস্টে যোগদান করার পর প্রথমদিকে তিনি দলের প্রথমে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারেননি। তার পেশাদারিত্বের অভাব, অতিরিক্ত মদ্যপান, ধূমপান এবং তেলযুক্ত খাবারের প্রতি আসক্তি তার পারফরম্যান্সকে বাধাগ্রস্ত করছিল।
পরিবর্তনের সূচনা আসে গ্রীষ্মের ১৯৭৬-এ, যখন ক্লফের সহকারী পিটার টেইলর রবার্টসনকে কঠোরভাবে সতর্ক করেন। টেইলর স্পষ্টভাবে জানান, না হলে তাকে সঙ্গে সঙ্গে ক্লাব থেকে বের করে দেওয়া হবে। এই কথায় রবার্টসন তার জীবনধারা পরিবর্তন করতে বাধ্য হন।
সম্পূর্ণভাবে সব অভ্যাস ত্যাগ না করলেও, রবার্টসন তার অনুশীলন ও ম্যাচে মনোযোগ বাড়িয়ে দেন। দুই পা দিয়ে খেলতে পারা, কল্পনাশক্তি ও পরিশ্রমের সমন্বয় তাকে ফরেস্টের আক্রমণাত্মক পরিকল্পনার মূল স্তম্ভে পরিণত করে।
ক্লফের অধীনে ফরেস্ট ১৯৭৮ সালে প্রথম বিভাগ (ফার্স্ট ডিভিশন) শিরোপা জেতে, যা তাদের প্রমোশন থেকে মাত্র এক বছর পরের ঘটনা। রবার্টসনের অবদান এই সাফল্যের ভিত্তি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ফুটবলের জগতে রবার্টসনের ছাপ শুধু তার গোল বা সহায়তায় নয়, তার কাজের নীতি ও দলের প্রতি অটুট নিবেদনেও দেখা যায়। বহু তরুণ খেলোয়াড় তার থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েছে এবং ক্লাবের ইতিহাসে তার নাম চিরকাল গৌরবময় থাকবে।
জন রবার্টসনের মৃত্যু ফুটবলের একটি বড় ক্ষতি, তবে তার স্মৃতি ও অর্জন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে রয়ে যাবে। পরিবার, বন্ধু এবং সকল ভক্তের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে, ক্লাব ও সমর্থকরা তার শান্তি কামনা করছেন।



