লালমনিরহাটে রাত্রিকালীন গাড়ি থামিয়ে ভারতীয় পণ্য জব্দের ঘটনা ঘটেছে। গাড়িটি AJR কুরিয়ার সার্ভিসের একটি ঢাকা-কুড়িগ্রাম রুটের কভারড ভ্যান, যা থানা পুলিশ ও ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চের দু’বার অনুসন্ধান ও মুক্তি পাওয়ার পর বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) পুনরায় থামায়।
বিজিবি ১৫ ব্যাটালিয়নের লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদি ইমাম আজ বিকালের সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, ভ্যানটি টিপ-অফের ভিত্তিতে গত রাত ১০:৩০ টার দিকে স্টেশন রোডে আটক করা হয়। গাড়িতে মোট ২,৫১১ কেজি ভারতীয় জিরা এবং ১৮০টি শাল অন্তর্ভুক্ত ছিল, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ২৮ লক্ষ টাকার বেশি।
ভ্যানটি কুড়িগ্রাম থেকে লালমনিরহাটের দিকে চলছিল। মঙ্গলবার রাত ১১:৩০ টায় লালমনিরহাট সদর থানা, বারাবাড়ি এলাকায় প্রথমবার থামানো হয়। তবে গাড়িটিকে পুলিশ স্টেশনে নিয়ে না গিয়ে আলোরুপা মোড়ের নিকটবর্তী গোপন স্থানে রাখা হয়। পরের দিন সন্ধ্যা ৯ টার দিকে ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চের দল আবার গাড়িটি অনুসন্ধান করে এবং প্রায় এক ঘন্টার বেশি সময় পর ১০:৩০ টায় মুক্তি দেয়। মুক্তির কিছুক্ষণ পরই বিজিবি গাড়িটিকে পুনরায় থামিয়ে জব্দ করে।
কুড়িগ্রামের কিছু ব্যবসায়ী গাড়িতে কেবল জিরা নয়, ভারতীয় কসমেটিক্সও ছিল বলে জানান। কসমেটিক্স ব্যবসায়ী মারুফ হোসেন উল্লেখ করেন, গাড়িতে তার মালিকানাধীন প্রায় এক লক্ষ টাকার কসমেটিক্স ছিল এবং একই গাড়িতে ৮ থেকে ১০ জন অন্য ব্যবসায়ীর পণ্যও ছিল।
মসলা ব্যবসায়ী তানভীর হোসেন বলেন, গাড়িতে ভারতীয় জিরা বীজ ছিল, যা তিনি বিভিন্ন আমদানিকর্তা থেকে কিনে ঢাকায় বৈধভাবে পাঠাচ্ছিলেন। তবে তিনি গাড়িতে থাকা কসমেটিক্স ও শালের বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন।
লালমনিরহাট সদর থানা এসআই আকতার হোসেনের মতে, গাড়িটি প্রথম থামানোর পর থেকে বিভিন্ন পর্যায়ে অনুসন্ধান করা হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত বিজিবি গাড়িটিকে পুনরায় আটক করে জব্দের কাজ সম্পন্ন করেছে।
এই ঘটনার পর আইনগত প্রক্রিয়া চালু হয়েছে। গাড়ি ও জব্দকৃত পণ্যের মালিকদের বিরুদ্ধে শুল্ক লঙ্ঘনের অভিযোগে তদন্ত চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গাড়ির গন্তব্য ও পণ্যের গুদামজাতকরণ প্রক্রিয়া যাচাই করবে এবং প্রয়োজনীয় শাস্তি আরোপের জন্য আদালতে মামলা দায়েরের সম্ভাবনা রয়েছে।
বিজিবি ও থানা পুলিশ উভয়ই গাড়ির পুনরায় মুক্তি পাওয়ার পরেও অবিলম্বে পুনরায় অনুসন্ধান চালিয়ে জব্দের কাজ সম্পন্ন করার জন্য প্রশংসা পেয়েছে। তবে এই ঘটনা শুল্ক লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা পুনরায় তুলে ধরেছে।
অধিক তথ্যের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে। ভবিষ্যতে এ ধরনের লঙ্ঘন রোধে কাস্টমস ও নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বিত কাজের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।



