উত্তর আয়ারল্যান্ডের বিভিন্ন কর্মস্থলে কাজ করা কুকুরগুলো ছুটির দিনেও তাদের দায়িত্ব পালন করছে। বিশেষ করে ক্রিসমাসের সময়, যখন অধিকাংশ মানুষ পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে বিশ্রাম নেয়, এই চার পা বিশিষ্ট সহায়ক কর্মীরা স্বাভাবিক রুটিনে ব্যাহত হয় না।
বছরের যে কোনো সময়ের মতোই, ছুটির দিনেও তারা রাস্তায়, হাসপাতাল ও জরুরি সেবার কেন্দ্রে কাজ চালিয়ে যায়। তবে এই সময়ে তাদের পরিবারগুলোও বিশেষ যত্ন নেয়, যাতে কুকুরগুলোকে উৎসবের আনন্দ ও খাবার উপভোগের সুযোগ থাকে।
ক্রিসমাসের উজ্জ্বল আলো, শোরগোল এবং ভিড়ের পরিবেশ কিছু মানুষের জন্য আনন্দের উৎস, তবে অটিজম ও টুরেট সিনড্রোমে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য অতিরিক্ত চাপের কারণ হতে পারে। এ ধরনের চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় সহায়ক কুকুরের ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
ক্লুমলিন, কাউন্টি অ্যান্ট্রিমের ১৭ বছর বয়সী লুসিয়া কেন, অটিজম এবং টুরেট সিনড্রোমে আক্রান্ত। তার দৈনন্দিন জীবনে মানসিক চাপের মাত্রা বাড়লে, তার পাশে থাকে জোজো নামের সাত বছর বয়সী কালো ল্যাব্রাডর, যা Assistance Dogs NI-এর সমর্থন কুকুর হিসেবে প্রশিক্ষিত।
জোজো কেবল একটি পোষা প্রাণী নয়; সে লুসিয়ার মানসিক অবস্থার পরিবর্তন দ্রুত সনাক্ত করে। যখন লুসিয়ার স্ট্রেস বাড়ে, জোজো তার পাশে শুয়ে থাকে অথবা দেহের ওপর বসে থাকে, যা স্বাভাবিকভাবে শান্তি প্রদান করে। এই শারীরিক উপস্থিতি লুসিয়ার উদ্বেগ কমাতে সহায়তা করে।
লুসিয়া জোজোর প্রতি গভীর স্নেহ প্রকাশ করে এবং তাকে নিজের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে বিবেচনা করে। তিনি উল্লেখ করেন যে জোজোর উপস্থিতি তাকে নিরাপদ ও স্বস্তি বোধ করায়, বিশেষ করে ভিড়পূর্ণ পরিবেশে।
লুসিয়ার মা, এলিজাবেথ কেন, পাঁচ বছর আগে জোজোকে পরিবারের সদস্য হিসেবে গ্রহণের পর থেকে তার মেয়ের জীবনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন লক্ষ্য করেছেন। জোজো লুসিয়ার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয় এবং অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ করে। তিনি বলেন, জোজোর উপস্থিতি যেকোনো পরিস্থিতিকে শতগুণ শান্ত করে।
এছাড়া, ক্রিসমাসের সময় বাড়ি ও রাস্তায় মানুষ ও শব্দের সংখ্যা বেড়ে যায়, যা লুসিয়ার জন্য অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। তবে এলিজাবেথের মতে, জোজো কখনোই লুসিয়ার পাশে থেকে সরে যায় না, ফলে মেয়ের জন্য উৎসবের দিনগুলোও নিরাপদ থাকে।
সম্প্রতি জোজো একটি গুরুতর অসুস্থতার সম্মুখীন হয়। একটি পাথর গিলে ফেলায় তার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে, ফলে লুসিয়া ঘুমাতে না পারা এবং বাড়ি ছাড়তে না পারার মতো মানসিক কষ্টে ভুগে। তবে দ্রুত চিকিৎসা ও যত্নের ফলে জোজো সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ফিরে এসেছে।
সুস্থ হয়ে ওঠার পর জোজোকে এই ক্রিসমাসে বিশেষভাবে লালন-পালন করা হবে। পরিবার পরিকল্পনা করেছে যে লুসিয়া নিজেই জোজোর জন্য উপহার মোড়াবে এবং জোজো নিজেই সেগুলো খুলবে। এছাড়া, টার্কি ও হ্যামসহ প্রচুর খাবার প্রস্তুত থাকবে, যা কুকুরের জন্যও অতিরিক্ত আনন্দের বিষয়।
উত্তর আয়ারল্যান্ডের কাজের কুকুরগুলো ছুটির দিনে যেভাবে দায়িত্ব পালন করে, তেমনি তাদের পরিবারগুলোও উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নিতে সচেষ্ট। লুসিয়া ও জোজোর গল্প দেখায় যে, মানব ও প্রাণীর পারস্পরিক সমর্থন কিভাবে কঠিন সময়ে সান্ত্বনা ও স্থিতিশীলতা এনে দেয়। এই ধরনের সমন্বয় ভবিষ্যতে আরও বেশি পরিবারকে সহায়তা করতে পারে, বিশেষ করে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য।



