ব্রিসবেন, অস্ট্রেলিয়া – ৬৪ বছর বয়সী রসেল গাওয়ার, দক্ষিণ ওয়েল্সের বাসিন্দা, ১০,০০০ মাইল দূরত্ব অতিক্রম করে ২৩ ঘন্টার দীর্ঘ যাত্রার পর তার ৬৯ বছর বয়সী বড় ভাই পিটারের সঙ্গে প্রথমবার মুখোমুখি হলেন। দুইজনের পুনর্মিলন ৬০ বছরের বেশি সময়ের বিচ্ছিন্নতার পর ঘটেছে এবং ক্রিসমাসের পারিবারিক সমাবেশের মূল আকর্ষণ হয়ে দাঁড়াবে।
রসেল গাওয়ার ২০২৪ সালের শেষের দিকে ওয়েল্সের ল্লানহারান থেকে অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনে পৌঁছান, যেখানে পিটার ইতিমধ্যে বসবাস করছিলেন। উভয়ের মুখোমুখি হওয়া মুহূর্তকে রসেল স্বাভাবিক ও আনন্দময় বলে বর্ণনা করেছেন, কোনো অস্বস্তি বা অনিশ্চয়তা ছাড়াই।
দুই ভাইয়ের জন্ম লন্ডনে, রে এবং জিলের গৃহে। জিল যখন মাত্র পনেরো বছর বয়সী ছিলেন, তখন পিটারের জন্ম হয় এবং দম্পতি তখনো বিবাহিত ছিলেন না। ১৯৫০-এর দশকে অবৈধ সন্তানের সামাজিক কলঙ্কের কারণে পিটারকে দত্তক নেওয়া হয় এবং অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানো হয়।
পিটারের দত্তক গ্রহণকারী পরিবারে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় বড় হন, তার জন্ম পরিবার সম্পর্কে কোনো তথ্য না জেনে। অন্যদিকে রে ও জিল পরে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন, রসেলকে কয়েক বছর পরে গড়ে তোলেন এবং জ্যাকি নামে একটি মেয়েরও জন্ম দেন, যিনি পরবর্তীতে মৃত্যুবরণ করেন।
পিটারের অস্ট্রেলিয়ায় জীবন স্বাভাবিকভাবে চলতে থাকে, যতক্ষণ না তার দত্তক বোন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তার জন্ম পরিবারের সত্য প্রকাশ করে। বোনের এই তথ্যের পর পিটারের নাতি, অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসকারী, রসেলকে অনুসন্ধান করেন এবং ল্লানহারানে ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে বসবাসকারী রসেলকে খুঁজে বের করেন।
দুইজনের সম্পর্ক নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়, যার ফলাফল দুজনের ভাইবোনের সঠিক সংযোগ নিশ্চিত করে। রসেলকে শৈশবে তার বোন জানিয়েছিল যে তার একটি দত্তক নেওয়া ভাই আছে, তবে মা সরাসরি পিটারের কথা কখনো প্রকাশ করেননি।
২০০৭ সালে রসেলের মা টার্মিনাল ক্যান্সারে আক্রান্ত হন এবং রসেলকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বলার ইচ্ছা প্রকাশ করেন, তবে তার মৃত্যুর আগে তা প্রকাশের সুযোগ পাননি। রসেল বিশ্বাস করেন, তার মা সম্ভবত পিটারের কথা জানাতে চেয়েছিলেন, তবে সময়ের অভাবে তা সম্ভব হয়নি।
ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত এই পুনর্মিলনকে উভয় পরিবারের জন্য একটি বড় উৎসবের রূপে উদযাপন করা হবে, যেখানে ক্রিসমাসের দিন একটি বিশাল পারিবারিক পার্টি পরিকল্পিত। এই অনুষ্ঠানটি দুই পরিবারের নতুন সংযোগকে দৃঢ় করবে এবং দীর্ঘ সময়ের বিচ্ছিন্নতা শেষ করবে।
ব্রিটিশ-অস্ট্রেলিয়ান পারিবারিক ইতিহাসের এই অনন্য গল্পটি বাংলাদেশে বসবাসকারী অভিবাসী সম্প্রদায়ের জন্যও প্রাসঙ্গিক, কারণ এটি দত্তক, অভিবাসন এবং পারিবারিক পুনর্মিলনের মানবিক দিকগুলোকে তুলে ধরে। স্থানীয় বাঙালি পাঠকরা এই গল্প থেকে পারিবারিক সৎতা ও সংযোগের গুরুত্ব সম্পর্কে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি পেতে পারেন।
এই ধরনের আন্তঃমহাদেশীয় পুনর্মিলন ভবিষ্যতে আরও বেশি পরিবারকে অনুপ্রাণিত করতে পারে, বিশেষ করে যখন প্রযুক্তি ও জেনেটিক টেস্টিংয়ের মাধ্যমে দূরবর্তী আত্মীয়দের সনাক্ত করা সহজ হয়ে উঠেছে। রসেল ও পিটারের গল্প এই সম্ভাবনার এক বাস্তব উদাহরণ, যা মানবিক বন্ধনের অদম্য শক্তিকে প্রমাণ করে।



