27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধমগবাজার ফ্লাইওভারে ককটেল বিস্ফোরণে ২১‑বছরের সিয়াম মজুমদার নিহত

মগবাজার ফ্লাইওভারে ককটেল বিস্ফোরণে ২১‑বছরের সিয়াম মজুমদার নিহত

ঢাকা, ২৫ ডিসেম্বর – মগবাজার ফ্লাইওভারের কাছাকাছি নিউ ইস্কাটন এলাকায় সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে ছোড়া ককটেল বিস্ফোরণে ২১ বছর বয়সী সিয়াম মজুমদার নিহত হয়। সিয়াম ছিলেন ইস্কাটন এলাকার একটি মোটর পার্টস ডেকোরেশন দোকানে কর্মরত, এবং তার মৃত্যুর ফলে তার পরিবার সম্পূর্ণ ধ্বংসপ্রাপ্ত অবস্থায় পড়ে।

সিয়াম ও তার পরিবার চার বছর আগে খুলনার দিঘলিয়ার দেয়াড়া দেবনগর গ্রাম থেকে ঢাকায় স্থানান্তরিত হয়। পরিবারের প্রধান আলী আকবর মজুমদার রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন, স্ত্রী সিজু বেগম বিভিন্ন বাড়িতে কাজ করতেন, এবং দুই সন্তান—সিয়াম ও সেজান—ইস্কাটন এলাকার দুটি মোটর পার্টস ডেকোরেশন শপে কর্মরত ছিলেন। ঋণমুক্তি ও ভবিষ্যতে বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে তারা একত্রে চেষ্টা করছিল।

বিক্রিত ককটেল বিস্ফোরণের ফলে সিয়াম মৃত্যুবরণ করে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন সিয়াম, যিনি মগবাজার‑নিউ ইস্কাটন রোডের কেন্দ্রীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড কাউন্সিলের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ডিএমপি (ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ) কর্তৃক প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বিস্ফোরকটি অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতকারীদের দ্বারা ছোড়া হয়েছে এবং প্রাথমিক তদন্তে এটি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পরিকল্পিত ও ধারাবাহিক ককটেল সন্ত্রাসের অংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিকেলের সময় সিজু বেগম ভাড়া বাড়িতে কাঁদতে কাঁদতে জানিয়েছেন, “আমি আর ঢাকায় থাকব না। ঢাকায় এসে সব শেষ হয়ে গেছে।” তিনি ন্যায়সঙ্গত বিচার চেয়ে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এই দেশে কেউ সুষ্ঠু বিচার করে না, আমি চাই সরকার হত্যাকারীদের বের করে ন্যায়বিচার করুক।”

সেজান মজুমদার, সিয়ামের ছোট ভাই, জানিয়েছেন যে পরিবারটি জীবিকার সন্ধানে ঢাকায় এসেছিল এবং ঋণ পরিশোধের পর বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিল। সিয়ামের মৃত্যুর ফলে পুরো পরিবার ভেঙে পড়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, “আমরা এখানে কাজের জন্য এসেছি, এখন সব কিছু নষ্ট হয়ে গেছে।”

সিয়ামের পিতা আলী আকবর মজুমদার ঘটনাস্থল থেকে ফিরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে গিয়ে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। তিনি ফোনে জানান, “যদি জানতাম ঢাকায় এসে ছেলেকে হারাতে হবে, তবে কখনোই ঢাকায় আসতাম না।” তার এই মন্তব্য পরিবারকে শোকের মধ্যে আরও গভীর করে তুলেছে।

ডিএমপি কর্তৃক প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ঘটনাস্থল, সময় ও শিকার সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হয়েছে। বিস্ফোরকের সুনির্দিষ্ট ধরন ও দায়ী ব্যক্তিদের পরিচয় এখনো অজানা, তবে তদন্তের প্রথম পর্যায়ে তা নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পরিকল্পিত সন্ত্রাসী কার্যক্রমের অংশ বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে ফরেনসিক দল পাঠিয়ে প্রমাণ সংগ্রহ করেছে এবং সংশ্লিষ্ট ফ্লাইওভার ক্যামেরা রেকর্ডও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

অধিক তদন্তের জন্য ডিএমপি বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করেছে। তদুপরি, ডিএমপি ও ডিএমপি (গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগ) উভয়ই ঘটনাটি জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে, সংশ্লিষ্ট দায়ী ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেফতার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বর্তমানে পুলিশ গোপনীয় সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি, স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করছে।

শিকারের পরিবার আইনি সহায়তা ও শোকসন্তাপের জন্য স্থানীয় সিভিল সোসাইটি সংস্থার সহায়তা নিচ্ছে। সিজু বেগম ও সেজান উভয়ই শোকের মধ্যে আদালতে ন্যায়বিচার চেয়ে আছেন, যেখানে শিকারের পরিবারকে শোকের পাশাপাশি আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, ঢাকা শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা ও জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে ত্বরিত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানানো হচ্ছে। তদন্ত চলাকালীন সময়ে, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশিত হলে তা জনসাধারণের জানার জন্য প্রকাশ করা হবে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments