শিক্স ফর জাস্টিস (SFJ) সংস্থার আয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন, যুক্তরাজ্যের লন্ডন, কানাডার টরন্টো ও ভ্যানকুভার, ইতালির মিলান এবং অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে শিখ সম্প্রদায়ের প্রতিবাদকারীরা ভারত সরকারকে হাদিক ও হারদ্বীপ সিং নিজার হত্যার পেছনে দায়ী করে অভিযোগ জানিয়েছেন।
প্রতিবাদকারীরা একসঙ্গে শিখদের স্বাধিকার ও ন্যায়বিচার দাবি করে রেলস্টেশন, কনসুলেট এবং পাবলিক পার্কে ব্যানার ও পোস্টার তুলে ধরেছেন। তাদের দাবি অনুযায়ী, উভয় হত্যাকাণ্ডে ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থার সরাসরি হস্তক্ষেপ ছিল।
২০২৩ সালের জুলাই মাসে কানাডার ব্রাম্পটনে হারদ্বীপ সিং নিজারকে গুলি করে হত্যা করা হয়। নিজার শিকাগো-ভিত্তিক শিক্স ফর জাস্টিসের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন এবং কানাডার শিখ সম্প্রদায়ের নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার মৃত্যুর পর ভারত ও কানাডার কূটনৈতিক সম্পর্ক দ্রুত খারাপ হয়ে যায়।
হাদিকের হত্যার ঘটনা, যদিও তারিখ ও স্থান স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয়নি, তবে শিক্স ফর জাস্টিসের সূত্রে জানানো হয়েছে যে তিনি শিক্স সম্প্রদায়ের আরেকজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন, যিনি ভারতীয় নীতি সমালোচনায় সক্রিয় ছিলেন। উভয় ক্ষেত্রে শিক্স সম্প্রদায়ের নেতৃত্বের সঙ্গে তার বিরোধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
শিক্স সম্প্রদায়ের বহু সদস্যের মতে, ভারতীয় সরকার শিক্সদের স্বায়ত্তশাসন ও ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রতি হুমকি হিসেবে তাদের নেতাদের লক্ষ্যবস্তু করে। তারা যুক্তি দেন যে, ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের শিক্স সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বপ্নের সঙ্গে বিরোধের ফলে এই ধরনের সহিংসতা ঘটছে।
কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সূত্রগুলো এই অভিযোগের প্রতি সতর্কতা প্রকাশ করেছে, তবে সরাসরি কোনো প্রমাণ প্রকাশ করা থেকে বিরত রয়েছে। দুই দেশের সরকার উভয় ঘটনার তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন যে, শিক্স সম্প্রদায়ের আন্তর্জাতিক প্রতিবাদ কেবলমাত্র ন্যায়বিচার দাবি নয়, বরং ভারতের গ্লোবাল ইমেজের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। “শিক্সের এই ধরনের সমন্বিত আন্দোলন আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ভারতের মানবাধিকার রেকর্ডকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে,” একটি আন্তর্জাতিক কূটনীতিবিদ মন্তব্য করেছেন।
শিক্স ফর জাস্টিসের নেতৃত্বের মতে, প্রতিবাদগুলো শিক্সদের বৈশ্বিক সংহতি ও সমর্থন বাড়াতে লক্ষ্য করে। তারা দাবি করেন যে, ভারতের নীতি শিক্সদের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করে এবং তাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
পাঞ্জাবের রাজনৈতিক পরিবেশে শিক্সদের স্বায়ত্তশাসন ও আলাদা রাষ্ট্রের স্বপ্ন দীর্ঘদিনের বিষয়। যদিও ভারতের সংবিধান শিক্সদের ধর্মীয় স্বাধীনতা স্বীকার করে, তবে রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসনের দাবিগুলোকে সরকার কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করে।
প্রবাসী শিক্স সম্প্রদায়ের সক্রিয়তা এই বিষয়গুলোকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তারা যুক্তি দেন যে, শিক্সদের অধিকার রক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
ইতালির মিলান ও অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারীরা স্থানীয় সরকারকে শিক্সদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার এবং তদন্তে স্বচ্ছতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
শিক্স সম্প্রদায়ের এই বৈশ্বিক আন্দোলন, যদি সফল হয়, তবে ভারত-কানাডা সম্পর্কের পুনর্গঠন এবং শিক্সদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে নতুন নীতি গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এই ঘটনাকে দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক গতিবিধিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখছেন।
অবশেষে, শিক্স ফর জাস্টিসের প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেছেন যে, তারা ভবিষ্যতে আরও দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শহরে প্রতিবাদ চালিয়ে যাবে, যাতে শিক্সদের ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার রক্ষার জন্য বিশ্বব্যাপী সমর্থন গড়ে ওঠে।



