প্রিমিয়ার লীগ এবং ইংলিশ ফুটবল লীগ (ইএফএল) আগামী বছর শুরুর দিকে একসাথে বৈঠক করবে, যাতে শনিবার বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিত সব ম্যাচকে লাইভ টেলিভিশনে দেখার অনুমতি দেওয়া যায়। বর্তমানে যুক্তরাজ্য ইউরোপের শেষ দেশ, যেখানে এই সময়ে ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার নিষিদ্ধ। উভয় লিগই আগামী টেলিভিশন অধিকার চক্রে সব গেম বিক্রি করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে, এবং নতুন চুক্তি স্বাক্ষরের আগে এই বিষয়টি পরিষ্কার করতে চায়।
ইএফএল ও প্রিমিয়ার লীগ উভয়ই এই সিজনে দেশীয় টিভিতে রেকর্ড সংখ্যক ম্যাচ দেখাচ্ছে। প্রিমিয়ার লীগে এই মৌসুমে ২৭০টি ম্যাচ স্কাই স্পোর্টসের মাধ্যমে সম্প্রচারিত হয়েছে, আর ইএফএল তার ১,০৫৯টি ম্যাচ একই নেটওয়ার্কে দেখাচ্ছে। যদিও উভয় লিগের বর্তমান চুক্তি ২০২৮-২৯ মৌসুমের শেষ পর্যন্ত চলবে, ইএফএল ২০২৭ সালের শুরুর দিকে নতুন অধিকার দরকারের জন্য বাজারে বের হতে চায়। প্রিমিয়ার লীগও একই বছর পরে তার অধিকার নিলাম করার পরিকল্পনা করেছে।
ইএফএল বর্তমানে স্কাই স্পোর্টসের সঙ্গে পাঁচ বছরের চুক্তিতে £৯৩৫ মিলিয়ন মূল্যের চুক্তি করেছে। এই চুক্তিতে স্কাই স্পোর্টসকে চ্যাম্পিয়নশিপ, লিগ ওয়ান, লিগ টু, কারাবাও কাপ এবং ইএফএল ট্রফি সহ মোট ১,০৫৯টি গেমের একচেটিয়া লাইভ সম্প্রচার অধিকার দেওয়া হয়েছে। লিগের মোট ১,৮৯১টি গেমের মধ্যে যদি ব্ল্যাকআউট সরিয়ে দেওয়া যায়, তবে সব গেমই টেলিভিশনে দেখানো সম্ভব হবে।
প্রিমিয়ার লীগও সব গেম বিক্রির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছে, কারণ ইউরোপে মিডিয়া অধিকারগুলোর মূল্য হ্রাস পাচ্ছে। স্কাই স্পোর্টস ও টিএনটি স্পোর্টসের সঙ্গে বর্তমান চুক্তি চার বছরের জন্য রেকর্ড £৬.৭ বিলিয়ন মূল্যের, তবে গেমের সংখ্যা ২১৫ থেকে বাড়িয়ে ২৭০ করা হয়েছে এবং চুক্তিতে এক বছর যোগ করা হয়েছে। বাস্তবে, ২০২২-২০২৫ চক্রের তুলনায় বাস্তব মূল্যের হ্রাস প্রায় ২৩ শতাংশ।
অনেক প্রিমিয়ার লীগ ক্লাবের আমেরিকান মালিকরা সব গেমের সরাসরি সম্প্রচারকে সমর্থন করছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের স্পোর্টস সংস্কৃতিতে সাধারণ। তারা যুক্তি দেন যে, সম্পূর্ণ টেলিভিশন কভারেজ দর্শকসংখ্যা বাড়াবে এবং ক্লাবের আয় বৃদ্ধি করবে। এই দাবিগুলো লিগের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় প্রভাব ফেলছে।
ব্ল্যাকআউটের মূল ভিত্তি ইউইএফএর ধারা ৪৮, যা লাইভ সম্প্রচারকে নির্দিষ্ট সময়ে সীমাবদ্ধ করে। এই বিধানটি মূলত ছোট ক্লাবগুলোকে টিকিট বিক্রি বাড়াতে এবং স্টেডিয়াম উপস্থিতি নিশ্চিত করতে তৈরি করা হয়েছিল। তবে ডিজিটাল মিডিয়ার বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে এই নীতি নিয়ে পুনর্বিবেচনার চাহিদা বাড়ছে।
ইএফএল ও প্রিমিয়ার লীগ উভয়ই নতুন অধিকার চক্রে সব গেম বিক্রি করে আয় বাড়ানোর লক্ষ্য রাখছে। ইএফএল যদি সব ১,৮৯১টি গেমের লাইভ সম্প্রচার অনুমোদন পায়, তবে স্কাই স্পোর্টসের বর্তমান চুক্তি পুনর্নবীকরণে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। একই সঙ্গে, প্রিমিয়ার লীগ যদি সব গেমের টেলিভিশন অধিকার বিক্রি করে, তবে বর্তমান £৬.৭ বিলিয়ন চুক্তির তুলনায় নতুন চুক্তির মূল্য নির্ধারণে নতুন মানদণ্ড তৈরি হবে।
লিগের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, আলোচনায় উভয় পক্ষই টেলিভিশন আয়, স্টেডিয়াম উপস্থিতি এবং ভক্তদের অভিজ্ঞতা বিবেচনা করবে। তারা উল্লেখ করেছেন যে, কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ফিফা ও ইউইএফএর সঙ্গে সমন্বয় প্রয়োজন হবে।
ইউইকিপিডিয়া ও অন্যান্য পাবলিক সূত্রে দেখা যায়, ইউরোপের বেশিরভাগ দেশই শনিবার বিকেল ৩টায় লাইভ সম্প্রচার অনুমোদন করেছে। যুক্তরাজ্য এই নিয়ম থেকে একমাত্র বাদে রয়েছে, তাই এই আলোচনাকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য করার সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রিমিয়ার লীগ ও ইএফএল উভয়েরই লক্ষ্য হল নতুন অধিকার চক্রে সর্বোচ্চ আয় নিশ্চিত করা, যাতে ক্লাবের আর্থিক স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য তারা টেলিভিশন অধিকার, স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সম্ভাবনা বিশ্লেষণ করছে।
শেষে, উভয় লিগের সিদ্ধান্ত কেবল ভক্তদের টিভি অভিজ্ঞতাকে নয়, বরং ক্লাবের আর্থিক কাঠামো, স্পনসরশিপ এবং ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের দিকেও প্রভাব ফেলবে। এই আলোচনার ফলাফল আগামী বছরগুলিতে ইংলিশ ফুটবলের দিগন্তকে নতুনভাবে গঠন করতে পারে।



