বিশ্বব্যাংক ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশে যুব কর্মসংস্থান ও মাইক্রো‑উদ্যোক্তা সমর্থন বাড়াতে অতিরিক্ত ১৫০.৭৫ মিলিয়ন ডলার তহবিল অনুমোদন করেছে। এই অর্থায়ন রিকভারি অ্যান্ড অ্যাডভান্সমেন্ট অফ ইনফরমাল সেক্টর এমপ্লয়মেন্ট (RAISE) প্রকল্পের অংশ, যা নিম্ন-আয়ের যুব ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য কাজের সুযোগ সৃষ্টি ও আয় বাড়াতে লক্ষ্য রাখে।
RAISE প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হল অনানুষ্ঠানিক খাতের কর্মসংস্থানকে স্থায়ী করা এবং যুবকদের দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো। বর্তমানে এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রায় ২৩৩,০০০ যুবকে সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে, যার মধ্যে বেশিরভাগই নগর ও উপশহরীয় এলাকায় কেন্দ্রীভূত।
নতুন তহবিলের মাধ্যমে অতিরিক্ত ১,৭৬,০০০ যুবকে প্রকল্পের সুবিধা দেওয়া হবে, ফলে মোট উপকারভোগীর সংখ্যা ৪০৯,০০০‑এর কাছাকাছি পৌঁছাবে। এই সম্প্রসারণের মূল উদ্দেশ্য হল কর্মসংস্থান বাধা দূর করা এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করা।
প্রকল্পের সেবা প্যাকেজে দক্ষতা প্রশিক্ষণ, শিখন‑অনুশীলন (অ্যাপ্রেন্টিসশিপ), উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং মাইক্রোফাইন্যান্সে প্রবেশাধিকার অন্তর্ভুক্ত। এসব উপাদান একত্রে যুবকদের বাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা অর্জন ও নিজস্ব ব্যবসা শুরু করার সক্ষমতা বাড়াবে।
বিশেষভাবে নারীর ক্ষমতায়নকে কেন্দ্র করে নতুন উদ্যোগ চালু করা হবে। এর মধ্যে গুণগত মানের শৈশবকালীন যত্ন সেবা, গৃহভিত্তিক চাইল্ডকেয়ার প্রশিক্ষণ এবং স্টার্ট‑আপ অনুদান অন্তর্ভুক্ত, যা নারীর শ্রমশক্তি অংশগ্রহণ বাড়াতে এবং যত্ন খাতের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা করবে।
অতিরিক্ত তহবিলের মাধ্যমে প্রকল্পটি নগর কেন্দ্রের বাইরে গ্রামীণ এলাকায়ও প্রসারিত হবে। গৃহভিত্তিক চাইল্ডকেয়ার সেবা পাইলট হিসেবে চালু হবে, যেখানে প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে, ফলে গ্রামীণ নারীরা কর্মসংস্থান ও পারিবারিক দায়িত্বের মধ্যে সমন্বয় করতে পারবে।
এই উদ্যোগের ফলে নারীর কর্মসংস্থান হার বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে, পাশাপাশি যত্ন সেবার চাহিদা পূরণে নতুন চাকরির সুযোগ সৃষ্টি হবে। কর্মসংস্থান সংযোগকে শক্তিশালী করতে নিয়োগ মেলা, নিয়োগকর্তা নেটওয়ার্ক এবং চুক্তি আলোচনায় সহায়তা প্রদান করা হবে।
নতুন তহবিলের যোগে RAISE প্রকল্পের মোট বিশ্বব্যাংক সমর্থন ৩৫০.৭৫ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এই আর্থিক সমর্থন প্রকল্পের স্কেল বাড়িয়ে দেশের অনানুষ্ঠানিক খাতের উৎপাদনশীলতা ও আয় বৃদ্ধি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাজারের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান, মাইক্রোফাইন্যান্স সংস্থা এবং স্থানীয় ব্যবসা গুলোর জন্য চাহিদা বাড়বে। তদুপরি, নারীর কর্মসংস্থান বাড়ার ফলে গৃহস্থালী আয় বৃদ্ধি পাবে, যা ভোক্তা ব্যয়ের সম্প্রসারণে সহায়তা করবে।
দীর্ঘমেয়াদে এই প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন গ্রামীণ যুবকদের জন্য নতুন আয়ের উৎস তৈরি করতে পারে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় স্থিতিশীল জীবিকা প্রদান করবে এবং লিঙ্গ সমতা অর্জনে অবদান রাখবে। তবে, বাস্তবায়ন ক্ষমতা, তহবিল শোষণ হার এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিবেশের অস্থিরতা ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করা দরকার।
সারসংক্ষেপে, বিশ্বব্যাংকের অতিরিক্ত তহবিল বাংলাদেশে যুব কর্মসংস্থান ও মাইক্রো‑উদ্যোক্তা সমর্থনের পরিধি বাড়িয়ে দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।



