27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধওড়িশা রম্ভা বন এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর আক্রমণে শীর্ষ মাওবাদী কমান্ডার গনেশ উইক...

ওড়িশা রম্ভা বন এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর আক্রমণে শীর্ষ মাওবাদী কমান্ডার গনেশ উইক সহ পাঁচজন নিহত

বৃহস্পতিবার সকাল প্রায় ৯টায় ওড়িশা রাজ্যের রম্ভা বন অঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনীর দল একটি সশস্ত্র মাওবাদী দলকে ঘিরে গুলি চালায়। গুলিবর্ষণের পর দুপুরের দিকে গনেশ উইক (৬৯), যিনি কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (মাওবাদী) কেন্দ্রীয় কমিটির উচ্চপদস্থ সদস্য এবং ওড়িশা অভিযানের প্রধান, সহ মোট ছয়জন মাওবাদী নিহত হয়। ঘটনাস্থলে দুই নারী বিদ্রোহীও প্রাণ হারায়।

বিএসএফ (বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স) ও সিআরপিএফ (সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ) এর সমন্বিত টিম রম্ভা বন ও গঞ্জাম জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় মাওবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্র অনুযায়ী, গনেশ উইক এবং তার সঙ্গীরা একটি সশস্ত্র স্কোয়াড হিসেবে কাজ করছিল, যা পূর্বে বহু আক্রমণ পরিকল্পনা করেছিল।

গনেশ উইককে ভারতের নিষিদ্ধ মাওবাদী পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির উচ্চপদস্থ সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তার মাথার উপর এক কোটি দশ লাখ রুপি পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। তিনি তেলেঙ্গানা রাজ্যের নালগোন্ডা জেলার বাসিন্দা এবং পূর্বে পাক্কা হনুমন্ত, রাজেশ তিওয়ারি ও রূপা নামেও পরিচিত ছিলেন। তার নেতৃত্বে ওড়িশার মাওবাদী গোষ্ঠী বহু বছর ধরে সশস্ত্র কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল।

সকাল ৯টায় নিরাপত্তা বাহিনী মাওবাদী স্কোয়াডকে ঘিরে ফেলা হলে, উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র গুলিবর্ষণ শুরু হয়। গুলির গর্জন শোনার পর নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত আক্রমণ চালিয়ে গনেশ উইকসহ পাঁচজন মাওবাদীকে নিহত ঘোষণা করে। গুলিবর্ষণের পর সন্ধ্যায় মৃতদেহগুলো উদ্ধার করা হয় এবং স্থানীয় চিকিৎসা কেন্দ্রে প্রেরণ করা হয়।

ঘটনাস্থল থেকে দুটি ইনসাস রাইফেল, একটি থ্রিন-থ্রি রাইফেল এবং অন্যান্য আধুনিক অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর মতে, এই অস্ত্রগুলো মাওবাদী গোষ্ঠীর সামরিক ক্ষমতা বাড়াতে ব্যবহৃত হচ্ছিল। উদ্ধারকৃত অস্ত্রের তালিকায় উচ্চমানের স্নাইপার রাইফেল এবং স্বয়ংক্রিয় গুলিবর্ষণ ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত।

অধিকাংশ বিশ্লেষক এই ঘটনার গুরুত্বকে মাওবাদী বিদ্রোহের বিরুদ্ধে কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় আঘাত হিসেবে মূল্যায়ন করছেন। গনেশ উইকের মৃত্যুকে ওড়িশা সরকারের মাওবাদী গোষ্ঠীর ‘মেরুদণ্ড ভাঙা’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। পূর্বে ২৩ ডিসেম্বর মালকানগিরি জেলায় ২২জন মাওবাদী, যার মধ্যে দশজন নারী যোদ্ধা, আত্মসমর্পণ করেছিল, যা এই অঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনীর ধারাবাহিক সাফল্যের ধারাকে নির্দেশ করে।

ভারত সরকার ৩১ মার্চ ২০২৬ তারিখের মধ্যে মাওবাদী বিদ্রোহ সম্পূর্ণভাবে নির্মূলের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এই লক্ষ্যের অধীনে নিরাপত্তা বাহিনী মধ্যাঞ্চলীয় মাওবাদী প্রভাবিত রাজ্যগুলোতে ব্যাপক অভিযান চালাচ্ছে। গত মে মাসে মাওবাদী পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব বাসবরাজ এবং নভেম্বর মাসে শীর্ষ বিদ্রোহী কমান্ডার মাদভি হিদমা নিহত হয়, যা সরকারের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতে স্থানীয় পুলিশ ও ফৌজদারি তদন্ত বিভাগ দ্রুত তদন্ত শুরু করেছে। মৃতদেহের পরিচয় নিশ্চিত করার পর, মৃতদেহের পরিবারকে জানানো হবে এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে একই ধরনের সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সংঘর্ষ এড়াতে অতিরিক্ত নজরদারি ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ বাড়ানো হবে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments