বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান পূর্বাচলে ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে গঠিত বৃহৎ সমাবেশে উপস্থিত লক্ষাধিক মানুষের সামনে তার বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সমাবেশকারী, জাতীয় নেতৃবৃন্দ ও মিডিয়া প্রতিনিধিরা একত্রিত হয়। তারেকের ভাষণে নিরাপদ ও সংহত বাংলাদেশ গড়ার জরুরি প্রয়োজনের ওপর জোর দেওয়া হয়।
বক্তব্যের সূচনায় তিনি উপস্থিত সকলকে “প্রিয় বাংলাদেশ” বলে সম্বোধন করে, একসাথে নিরাপদ দেশ গড়ার সময় এসেছে বলে ঘোষণা করেন। তিনি উপস্থিত বয়স্ক, যুবক, নারী-পুরুষ এবং দেশের দূরদূরান্তের দর্শকদের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়ে, আল্লাহর কৃপায় মাতৃভূমিতে ফিরে আসার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তারেকের মতে, বাংলাদেশের ভূগোলিক বৈচিত্র্যকে স্বীকৃতি দিয়ে, পাহাড়ি ও সমতল অঞ্চলের মানুষ, পাশাপাশি মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও হিন্দু সহ সব ধর্মীয় গোষ্ঠী একসাথে কাজ করলে দেশকে নিরাপদ ও সমৃদ্ধ করা সম্ভব। তিনি এক মা যে স্বপ্ন দেখেন, তেমনই একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের কথা স্মরণ করে বলেন, লক্ষাধিক শহীদদের রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল। একইভাবে, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনার মাধ্যমে আধিপত্যবাদী শক্তির হাত থেকে দেশের রক্ষা করা হয়েছিল। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তগুলোকে দেশের স্বায়ত্তশাসন রক্ষার ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।
১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানকে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে তুলে ধরে, তিনি বলেন, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে জনগণ তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধার করেছে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, ষড়যন্ত্রের ছায়া এখনও বিদ্যমান এবং তা দূর করতে জাতীয় সংহতি প্রয়োজন।
তারেকের ভাষণে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের প্রতিবাদকে উল্লেখ করা হয়। তিনি বলেন, ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক, গৃহবধূ, নারী, পুরুষ, মাদ্রাসা শিক্ষার্থীসহ সব স্তরের মানুষ একত্রে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য পদক্ষেপ নিয়েছে। এই ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর) উপস্থিত ছিলেন। তারা সকলেই তারেকের বক্তব্যে সমর্থন জানিয়ে, ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে একসাথে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
বিএনপি নেতারা উল্লেখ করেন, দেশের বহুমুখী সংস্কৃতি ও ধর্মীয় বৈচিত্র্যকে সংহত করে একটি শক্তিশালী জাতীয় পরিচয় গড়া সম্ভব। তারা সকল গোষ্ঠীর সমন্বয়ে নীতি নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন, যাতে কোনো গোষ্ঠীকে বাদ না রেখে সমগ্র দেশের মঙ্গলের দিকে অগ্রসর হওয়া যায়।
তারা ভবিষ্যতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ বাড়াতে, তরুণদের রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে এবং গ্রামীণ ও নগর এলাকায় উন্নয়নমূলক প্রকল্প চালু করতে পরিকল্পনা করছেন। বিশেষ করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সামাজিক সেবা সম্প্রসারণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
বিএনপি এই সমাবেশকে দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে দেখছে। তারা দাবি করে, বর্তমান সরকার যদি নিরাপত্তা ও সংহতির দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন না করে, তবে জনগণের আস্থা হারাবে। তাই তারা সমন্বিত নীতি ও কার্যকরী পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে চায়।
বিএনপি চেয়ারপার্সনের এই বক্তব্যের পর, সমাবেশে উপস্থিত জনগণ তালি ও উল্লাসের মাধ্যমে তারেকের আহ্বানকে স্বাগত জানায়। তিনি শেষ করে বলেন, “একসাথে আমরা একটি নিরাপদ, সমৃদ্ধ ও ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলব” এবং সকলকে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানান।



