ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীরা অনলাইন আয়কর রিটার্ন (ই‑রিটার্ন) দাখিলের সুবিধা পাবেন, যদিও শুক্রবার‑শনিবার উভয়ই সরকারি ছুটি। এনবিআর বৃহস্পতিবার প্রকাশিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় রিটার্ন দাখিল প্রক্রিয়া সহজ করার লক্ষ্যে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এনবিআরের ই‑ট্যাক্স ম্যানেজমেন্ট ইউনিটের সহযোগিতায় সাহায্যকেন্দ্র (হেল্পডেস্ক) গঠন করা হবে, যা রাজধানীর রমনা এলাকায় অবস্থিত ইঞ্জিনিয়ারস ইনস্টিটিউট (আইইবি) ভবনের সপ্তম তলায় কার্যকর হবে। এই কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রার্থীরা ই‑রিটার্ন সংক্রান্ত প্রযুক্তিগত সহায়তা ও তথ্য পেতে পারবেন।
হেল্পডেস্কের কাজের সময়সূচি নির্ধারিত হয়েছে: শুক্রবার দুপুর ২টা থেকে ৫টা পর্যন্ত এবং শনিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। উভয় দিনই সেবা চলবে, ফলে ছুটির দিনেও প্রার্থীরা তাদের রিটার্ন সম্পন্ন করতে পারবেন। এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হল রেজিস্ট্রেশন ও দাখিল প্রক্রিয়ার দেরি কমিয়ে নির্বাচনী সময়সূচি মসৃণ করা।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুসরণ করে বাংলাদেশ ব্যাংকও শনিবার সারাদেশে ব্যাংকগুলো খোলা রাখবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, তফসিলি ব্যাংকের সব শাখা ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত খোলা থাকবে, যাতে প্রার্থীরা জামানত, ভোটার তালিকার সিডি ইত্যাদি ক্রয়ের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ ব্যাংক ড্রাফট, পে‑অর্ডার অথবা ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে জমা দিতে পারেন।
প্রার্থীদের জন্য নিরাপদ আর্থিক লেনদেন নিশ্চিত করতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যাতে জমা প্রক্রিয়ায় কোনো বাধা না থাকে। তফসিল অনুযায়ী, নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৯ ডিসেম্বর নির্ধারিত, আর এর আগে ২৫ ডিসেম্বর বড়দিনের ছুটি, এবং ২৬‑২৭ ডিসেম্বর শুক্রবার‑শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকবে।
এই ছুটির দিনেও সেবা চালু রাখার মাধ্যমে এনবিআর ও বাংলাদেশ ব্যাংক উভয়ই নির্বাচনী প্রস্তুতিতে সহায়তা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। প্রার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই দ্রুত রিটার্ন দাখিল করতে পারবে, ফলে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা মেনে চলা সহজ হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, এই ধরনের প্রশাসনিক সহায়তা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়াবে। প্রার্থীদের আর্থিক দায়বদ্ধতা দ্রুত সম্পন্ন হলে, নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের অন্যান্য দিক, যেমন ভোটার সংযোগ ও প্রচার, তে মনোযোগ বাড়বে।
এছাড়া, ব্যাংকগুলো ছুটির দিনেও খোলা থাকায় প্রার্থীদের জন্য নগদ প্রবাহের সমস্যাও কমে যাবে। তফসিলি ব্যাংকের শাখাগুলোতে জমা, ড্রাফট বা পে‑অর্ডার গ্রহণের ব্যবস্থা থাকবে, যা প্রার্থীদের জন্য সময়সীমা মেনে চলা সহজ করবে।
সামগ্রিকভাবে, ই‑রিটার্ন হেল্পডেস্কের চালু হওয়া এবং ব্যাংকগুলোর ছুটির দিনেও খোলা থাকা, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি প্রার্থীদের আর্থিক দায়িত্ব দ্রুত সম্পন্ন করতে সহায়তা করবে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে।
ভবিষ্যতে, এনবিআর ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার এই ধরনের সেবা ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়া নির্বাচন সংক্রান্ত প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় মডেল হিসেবে কাজ করতে পারে।



