বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন আজ, ২৫ ডিসেম্বর, জাতীয় প্রাসাদ বাংলাভবনে ক্রিসমাসের শুভেচ্ছা জানাতে সমাবেশের আয়োজন করেন। এই অনুষ্ঠানটি দেশের গৃহস্থ ও বিদেশে বসবাসকারী খ্রিস্টান সম্প্রদায়কে উদ্দেশ্য করে, যেখানে রাষ্ট্রপতি সরাসরি শুভেচ্ছা জানিয়ে ধর্মীয় সহনশীলতার বার্তা পুনর্ব্যক্ত করেন।
প্রাসাদের প্রধান হলের মধ্যে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, কূটনৈতিক মিশন, হাই কমিশনার এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিতির তালিকায় বেশ কয়েকটি দেশের দূতাবাসের প্রতিনিধি, পাশাপাশি জাতিসংঘ ও অন্যান্য বহুপাক্ষিক সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যা অনুষ্ঠানটির আন্তর্জাতিক মাত্রা তুলে ধরেছে।
উপস্থিতির সময় রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন ধর্মীয়, জাতিগত ও বর্ণগত পার্থক্য নির্বিশেষে দেশের সকল নাগরিকের মধ্যে ঐক্য ও শান্তি বজায় রাখার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তিনি উল্লেখ করেন, “দেশের সমগ্র জনসংখ্যা একসঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ভিত্তিতে এগিয়ে চলা উচিত; ধর্ম বা বর্ণের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য না করে সমান অধিকার নিশ্চিত করা দরকার।” এই বক্তব্যটি দেশের বহুমুখী সমাজে সমন্বয় ও সংহতির বার্তা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রতিবছরের মতোই, এই ক্রিসমাস শুভেচ্ছা অনুষ্ঠানটি রাষ্ট্রপতির অফিসের বার্ষিক প্রথা হিসেবে চালু রয়েছে। পূর্বের বছরগুলোতেও একই সময়ে বিভিন্ন ধর্মীয় গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে মিলিত হয়ে জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে এই অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই ধারাবাহিকতা দেশের ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানের বাস্তবায়ন এবং সকল ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতি সমান সম্মান প্রদর্শনের একটি স্পষ্ট উদাহরণ।
অনুষ্ঠান সংক্রান্ত তথ্য রাষ্ট্রপতি অফিসের পাবলিক ডিভিশনের সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি সাব্বির আহমেদ আকুনজীর প্রকাশিত প্রেস রিলিজে উল্লেখ করা হয়েছে। রিলিজে উল্লেখ আছে যে, রাষ্ট্রপতি ও উপস্থিত অতিথিরা একত্রে ক্রিসমাসের পবিত্রতা ও মানবিক মূল্যবোধের ওপর আলোকপাত করেছেন এবং ভবিষ্যতে দেশের সাম্প্রদায়িক সাদৃশ্য বজায় রাখার জন্য যৌথ প্রচেষ্টা করার আহ্বান জানিয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেন, এই ধরনের উচ্চ-প্রোফাইলের ধর্মীয় অনুষ্ঠান রাষ্ট্রের ধর্মনিরপেক্ষ নীতি ও আন্তর্জাতিক চিত্রকে শক্তিশালী করে। বিশেষ করে, যখন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ধর্মীয় সহনশীলতা নিয়ে আলোচনা বাড়ছে, তখন রাষ্ট্রপতির এই উদ্যোগটি দেশীয় শান্তি প্রক্রিয়ার একটি ইতিবাচক সূচক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এছাড়া, বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনের অংশগ্রহণ দেশীয় নীতির প্রতি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও সমর্থন বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
সারসংক্ষেপে, রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিনের ক্রিসমাস শুভেচ্ছা ও সাম্প্রদায়িক ঐক্যের আহ্বান দেশের ধর্মীয় বৈচিত্র্যের প্রতি সম্মান ও সংহতির প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের উদ্যোগের ধারাবাহিকতা দেশের সামাজিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।



