ইস্তাম্বুলে বৃহস্পতিবার ইস্তাম্বুলের প্রধান কৌঁসুলির অফিস থেকে জানানো হয় যে, ইসলামিক স্টেট (আইএস) গোষ্ঠীর সন্দেহভাজন প্রায় একশত পনেরো জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারের মূল কারণ হল, সন্দেহ করা হচ্ছে তারা বড়দিন ও নববর্ষের সময় সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছিল।
প্রধান কৌঁসুলির মুখপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আইএসের সদস্যরা এই উৎসবের সময়ে সশস্ত্র আক্রমণ গড়ে তুলতে চেয়েছিল। এই তথ্যের পরিপ্রেক্ষিতে, নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে ১৩৭ জন সন্দেহভাজনকে আটক করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
অবশেষে, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ১১৫ জনের নাম নিশ্চিত করা হয়েছে, অন্য ২২ জনের অবস্থান বা মুক্তি সম্পর্কে এখনও স্পষ্টতা নেই। গ্রেফতারের পর, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইনি প্রক্রিয়ার অধীনে আদালতে হাজির করা হবে।
তুরস্কের সিরিয়ার সঙ্গে প্রায় ৯০০ কিলোমিটার (৫৫৯ মাইল) দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে, যেখানে জিহাদি গোষ্ঠীগুলো দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়। এই সীমান্ত অঞ্চলটি নিরাপত্তা সংস্থার জন্য বিশেষভাবে সংবেদনশীল, কারণ এখানে সশস্ত্র গোষ্ঠীর চলাচল ও সরবরাহের সম্ভাবনা থাকে।
ডিসেম্বরে ওই সীমান্তে সংঘটিত এক হামলায় দুইজন মার্কিন সৈনিক এবং একজন বেসামরিক নাগরিকের প্রাণ ত্যাগ করে। তুর্কি কর্তৃপক্ষ সেই ঘটনার দায়িত্ব আইএসের ওপর আরোপ করে এবং তা থেকে সৃষ্ট নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবেলায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে তুর্কি আইন অনুযায়ী সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ধারা প্রয়োগ করা হবে। সংশ্লিষ্ট প্রমাণ সংগ্রহের পর, প্রসিকিউশন অফিসে মামলাটি দাখিল করা হবে এবং বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রেফতারের পরপরই নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে যাচ্ছে এবং অতিরিক্ত তথ্য সংগ্রহের জন্য আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করছে।
আইএসের পরিকল্পিত আক্রমণ রোধে তুর্কি নিরাপত্তা বাহিনীর ত্বরিত পদক্ষেপকে প্রশংসা করা হয়েছে, তবে তারা উল্লেখ করেছে যে তদন্ত এখনও চলমান এবং আরও সন্দেহভাজন সনাক্ত করা হতে পারে।
এই ঘটনার পর, তুর্কি সরকার সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার জন্য সীমান্তে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা জানিয়েছে। একই সঙ্গে, গৃহে নিরাপত্তা সচেতনতা বাড়াতে জনগণকে সতর্কতা অবলম্বন করতে আহ্বান জানানো হয়েছে।
অবশেষে, গ্রেফতারকৃতদের আইনি অবস্থান ও প্রমাণের ভিত্তিতে আদালতে দায়ের করা হবে, এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে এমন কোনো সন্ত্রাসী পরিকল্পনা রোধে ত্বরিত পদক্ষেপ নেবে। এই বিষয়টি তুরস্কের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



