20 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাবাজার সংস্কারের প্রথম বছর: শেয়ারবাজারে মন্দা ও অনিশ্চয়তা

বাজার সংস্কারের প্রথম বছর: শেয়ারবাজারে মন্দা ও অনিশ্চয়তা

ঢাকা শেয়ারবাজার ২০২৫ সালের সূচনা একটি আশাবাদী সুরে করেছিল, তবে সংস্কার‑প্রক্রিয়ার প্রাথমিক পর্যায়ে বিনিয়োগকারীরা বড় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।

গত বছরের আগস্টে দেশের ব্যাপক প্রতিবাদ আন্দোলন শেষমেশ আর্থিক নীতিতে পরিবর্তনের দাবি ত্বরান্বিত করে। এই রাজনৈতিক উত্থান বাজারে স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার জন্য দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা জাগিয়ে তুলেছিল।

বিনিয়োগকারীরা আশা করছিলেন যে নতুন নীতি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করবে, শেয়ারবাজারকে ন্যায়সঙ্গত করবে এবং লেনদেনে স্বচ্ছতা আনবে।

বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে বেশ কয়েকটি মূল সংস্কার কার্যকর হয়। পারস্পরিক তহবিল ও মার্জিন ঋণের জন্য নতুন নিয়মাবলি প্রকাশিত হয়, নগদ লভ্যাংশের প্রক্রিয়া সরলীকৃত হয় এবং বার্ষিক BO অ্যাকাউন্ট ফি হ্রাস করা হয়।

এছাড়া, পূর্বে অপ্রতিরোধ্য বলে বিবেচিত কিছু ব্যক্তির ওপর বাজার লঙ্ঘনের জন্য শাস্তি আরোপ করা হয়, যা নিয়ন্ত্রক সংস্থার দৃঢ়তা প্রকাশ করে।

তবে সংস্কারের প্রাথমিক পর্যায়ে বাধ্যতামূলক বিক্রয়, পোর্টফোলিও ক্ষতি এবং শেয়ার মূল্যের তীব্র পতন দেখা যায়। এই পরিস্থিতি বিনিয়োগকারীদের জন্য শারীরিক শল্যচিকিৎসার পরবর্তী পুনরুদ্ধারের অপেক্ষার মতো অনুভূতি তৈরি করে।

ডিএসইএক্স সূচক জানুয়ারিতে ৫,২০০ পয়েন্টের উপরে শুরু হয়, তবে কয়েক মাসের মধ্যে তীব্রভাবে নেমে আসে। সেপ্টেম্বর মাসে সূচক সাময়িকভাবে ৫,৬৩৬ পয়েন্টে ফিরে আসে, তবে ব্যাংক মর্জ এবং অ-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর তরলীকরণ ঘোষণার পর আবার ৫,০০০ পয়েন্টের নিচে নেমে যায়।

এই ওঠানামা শুধুমাত্র স্বাভাবিক বাজারের অস্থিরতা নয়; এটি নতুন নিয়মাবলীর সাথে বাজার অংশগ্রহণকারীদের মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াকে প্রতিফলিত করে।

বিনিয়োগকারীর দৃষ্টিকোণ থেকে সংস্কার মিশ্র সংকেত দেয়। যদিও বেশিরভাগই স্বীকার করে যে দীর্ঘস্থায়ী দুর্বলতাগুলো সমাধান করা প্রয়োজন, তবে পরিবর্তনের গতি এবং খরচের দায়িত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা বিনিয়োগে সংকোচন সৃষ্টি করে।

এই অনিশ্চয়তা বিশেষভাবে আর্থিক খাতে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পাঁচটি ব্যাংক মর্জ প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করে, আর তালিকাভুক্ত নয়টি অ-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আটটি তরলীকরণের পথে যায়।

শেয়ারহোল্ডারদের দৃষ্টিকোণ থেকে এই মর্জ ও তরলীকরণে মুখ্য ক্ষতি প্রায় ৫,৫০০ কোটি টাকার সমান, যা বাজারের আস্থা হ্রাসের একটি বড় কারণ।

বাজারের বর্তমান অবস্থা নির্দেশ করে যে, সংস্কারকে কার্যকর করতে স্পষ্ট সময়সূচি এবং খরচের বণ্টন সম্পর্কে নির্দিষ্ট নীতি প্রয়োজন। না হলে বিনিয়োগের প্রবাহ স্থবির থাকবে এবং শেয়ারবাজারের পুনরুদ্ধার ধীর হবে।

বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দেন যে, নিয়ন্ত্রক সংস্থার ধারাবাহিক তদারকি এবং স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীর আস্থা পুনর্গঠন করা সম্ভব। তবে তা অর্জনের জন্য নীতির ধারাবাহিকতা এবং বাস্তবায়নের গতি বাড়াতে হবে।

সারসংক্ষেপে, ২০২৫ সালের প্রথম বছরটি বাজার সংস্কারের জন্য পরীক্ষামূলক পর্যায় হিসেবে রয়ে গেছে; শেয়ারবাজারের অস্থিরতা, আর্থিক খাতের মর্জ ও তরলীকরণ, এবং শেয়ারহোল্ডারদের উল্লেখযোগ্য ক্ষতি ভবিষ্যতে নীতি নির্ধারকদের জন্য সতর্কতা স্বরূপ কাজ করবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments