23 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিতারেক রহমানের ঢাকা সফর: গণসংবর্ধনা, হাসপাতাল পরিদর্শন ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

তারেক রহমানের ঢাকা সফর: গণসংবর্ধনা, হাসপাতাল পরিদর্শন ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আজ বিকাল ঢাকা‑এর পূর্বাঞ্চলে অনুষ্ঠিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন। তিনি শাহীজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে লাল‑সবুজ রঙের বাসে করে সরাসরি গণসংবর্ধনা স্থলে পৌঁছান এবং প্রায় তিনটায় মঞ্চে উঠে বক্তব্য দেন। তারেকের এই সফর দু’টি মূল উদ্দেশ্য নিয়ে—একটি হল পার্টির সমর্থকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, অন্যটি হল এভারকেয়ার হাসপাতালে খালেদা জিয়া (সাবেক প্রধানমন্ত্রী)কে দেখার জন্য ভিজিট।

শাহীজালাল থেকে বেরিয়ে লাল‑সবুজ রঙের বাসে করে তারেকের গাড়িবহর পূর্বাচলের গণসংবর্ধনা স্থলের দিকে অগ্রসর হয়। বিকেল দুইটায় গাড়িবহরটি রাস্তায় প্রবেশের দৃশ্য দেখা যায়, যেখানে পার্টির কর্মী ও সমর্থকরা উল্লাসের সঙ্গে স্বাগত জানায়। গন্তব্যে পৌঁছানোর পর তারেককে ভিড়ের মধ্যে নিয়ে গিয়ে মঞ্চে ওঠানো হয়।

বিকেল তিনটায় তারেক মঞ্চে উঠে প্রথমেই “প্রিয় বাংলাদেশ” বলে সমাবেশকে অভিবাদন জানিয়ে তার ভাষণ শুরু করেন। তিনি দেশের বর্তমান অবস্থা, পার্টির লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সংক্ষিপ্তভাবে কথা বলেন। তার বক্তৃতা চলাকালীন বিএনপির অন্যান্য নেতারা মঞ্চের পাশে উপস্থিত ছিলেন, যারা হাত নাড়ার মাধ্যমে সমর্থকদের উৎসাহ বাড়িয়ে দেন।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মঞ্চে তারেকের স্বাগত জানিয়ে পার্টির ঐক্য ও শক্তি তুলে ধরেন। আলমগীরের স্বাগত বক্তব্যের পর তারেকের বক্তৃতা ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকে, যেখানে তিনি পার্টির সংগঠনের পুনর্গঠন ও নির্বাচনী প্রস্তুতির কথা উল্লেখ করেন।

বক্তব্যের পর তারেক খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলমান এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়ে তার স্বাস্থ্য অবস্থা সম্পর্কে জানার জন্য ভিজিট করেন। হাসপাতালের সামনে পার্টির কর্মী ও সমর্থকদের বিশাল ভিড় জমে, যারা তারেককে একনজর দেখার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে। ভিড়ের মধ্যে বিভিন্ন বয়সের মানুষ, ছাত্র, কর্মী ও গৃহিণী উপস্থিত ছিলেন।

হাসপাতালের সামনে উপস্থিত সমর্থকদের পোশাক ও সজ্জা পার্টির রঙের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল; অনেকের কাঁধে পার্টির পতাকা, ক্যাপ, ব্যান্ড ও লোগোযুক্ত ব্যাজ দেখা যায়। কিছু সমর্থক দলের জার্সি পরিধান করে, অন্যরা হাতে পতাকা ও প্ল্যাকার্ড ধরে ছিলেন। ভিড়ের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা মানুষদের উপস্থিতি পার্টির জাতীয় পর্যায়ে প্রভাব দেখায়।

বিএনপির কিছু কর্মী, যেমন বগুড়া থেকে আসা আজিজুল হক, পার্টির প্রতি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে এবং তারেকের উপস্থিতি দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন উদ্দীপনা আনবে বলে মন্তব্য করেন। অন্যদিকে, বাড্ডা থেকে আসা নুসরাত জাহান, যিনি স্বীকার করেন যে তিনি সাধারণভাবে বিএনপি সমর্থক নন, তবু তারেককে একবার দেখার জন্য উপস্থিত হয়েছেন এবং এই সফরকে “ঈদের মতো” বর্ণনা করেন।

শরীফুজ্জামান পরিবারও তারেককে দেখতে হাসপাতালে গিয়ে সন্তানদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন, যাতে তারা সরাসরি পার্টির নেতাকে দেখতে পারে। পরিবারটি মমতাজ বাজারের নিকটবর্তী বাসা থেকে গিয়ে হাসপাতালের সামনে ভিড়ের সঙ্গে যুক্ত হয়।

হাসপাতালের সামনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে; পুলিশ ও বাংলাদেশ সীমান্ত গার্ড (বিজিবি) সদস্যরা সমাবেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মোতায়েন করা হয়েছে। ভিড়ের আকার ও সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনা করে অতিরিক্ত নিরাপত্তা কর্মী উপস্থিত রয়েছে।

সামগ্রিকভাবে তারেকের ঢাকা সফর পার্টির সমর্থকদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন এবং খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য অবস্থা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের দু’টি লক্ষ্য পূরণ করেছে। তারেকের উপস্থিতি এবং সমাবেশের বিশাল ভিড় ভবিষ্যৎ নির্বাচনী প্রচারণায় পার্টির সংগঠনের শক্তি ও জনমত গঠনে সহায়ক হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, তারেকের এই সফর পার্টির অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও বাহ্যিক সমর্থন বাড়ানোর একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। তিনি যখন পার্টির মূল কাঠামোকে পুনর্গঠন ও নতুন নেতৃত্বের বিকাশের কথা বলেন, তখন এটি আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেখা যায়।

বিএনপির নেতা‑কর্মীরা আগামী সপ্তাহে আরও সমাবেশ ও ভ্রমণ পরিকল্পনা করছেন, যা পার্টির জনমত সংগ্রহ ও নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তারেকের এই সফরকে কেন্দ্র করে পার্টির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও রাজনৈতিক প্রভাবের বিশ্লেষণ অব্যাহত থাকবে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments