ব্রিটিশ-ইন্ডিয়ান ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান, যিনি দীর্ঘদিনের পরও জাতীয় দলে ফিরে আসেননি এবং বর্তমানে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে সক্রিয়, ২৫ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার তার ফেসবুক প্রোফাইলে একটি পোস্ট শেয়ার করেন। পোস্টে তিনি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিশুদের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে সামাজিক দায়িত্বের ওপর প্রশ্ন তোলেন।
সাকিবের ক্যারিয়ারকে যদি দেখি, তিনি এক সময় বাংলাদেশের টিমের মূল স্তম্ভ ছিলেন, তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক ম্যাচে অংশ না নিয়ে তিনি বিদেশি লিগে খেলছেন। তবুও তার সামাজিক সচেতনতা এবং দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ তার পোস্টে স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি রাজশাহীর পঙ্গু মাসুদের ছোট্ট শিশুর কথা উল্লেখ করেন, টাঙ্গাইলের মোমিনের সন্তান, সদ্য নৃশংস হত্যার শিকার দীপু দাশের সন্তান, গোপালগঞ্জের দীপ্ত সাহার সন্তান, ওসমান হাদির সন্তানসহ আরও শত শত শিশুর অস্থির অবস্থার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি বলেন, এই শিশুরা যদি সঠিকভাবে লালন-পালন না পায়, তবে তাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ডুবে যাবে, যা পুরো জাতির দায়িত্ব।
এরপর তিনি মাগুরার ধর্ষিত শিশুরা, বিশেষ করে আছিয়ার কষ্টের কথা উল্লেখ করে বলেন, “এরা না রাজনীতি জানে, না ধর্মের কোনো ধারণা, তবু তাদের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলতে হচ্ছে।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, শিশুদের নিরাপদ ও স্বাভাবিক জীবনের অধিকার নিশ্চিত করা, তাদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার জন্য সমাজের প্রত্যেকের দায়িত্ব।
সাকিব শেষাংশে প্রশ্ন তোলেন, “শিশুদের জন্য, তাদের ভবিষ্যতের জন্য, মানুষ হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন করতে, এবং একটি বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়তে আমরা কি যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করছি?” এই প্রশ্নের মাধ্যমে তিনি নাগরিকদের মধ্যে আত্মপর্যালোচনার আহ্বান জানান।
পোস্টের সমাপ্তিতে তিনি সকলকে বড় দিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে, “ভালো থেকো, সুস্থ থেকো—আগামী গড়ার কারিগর, আমাদের আগামী প্রজন্ম,” বলে শেষ করেন। এই শুভেচ্ছা তার সামাজিক দায়িত্বের প্রতি অটুট বিশ্বাসকে আরও জোরদার করে।
সাকিবের এই প্রকাশনা ক্রীড়া জগতের বাইরে তার মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং সমাজের প্রতি অবদানকে তুলে ধরে। যদিও তিনি বর্তমানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মঞ্চে নেই, তবু তার মতামত এবং সামাজিক সচেতনতা দেশের জনমত গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে। ভবিষ্যতে তিনি কীভাবে এই উদ্বেগকে বাস্তব পদক্ষেপে রূপান্তরিত করবেন, তা সময়ই বলবে।



