উত্তর প্রদেশের আলীগড়ে অবস্থিত আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের (এএমইউ) ক্যাম্পাসে বুধবার রাত প্রায় ৮:৫০ টায় এক স্কুল শিক্ষক গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। শিকারের নাম দানিশ রাও, যিনি এবি হাইস্কুলে কম্পিউটার বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক হিসেবে একের অধিক দশক ধরে কাজ করছিলেন।
দানিশ রাও ১১ বছর ধরে এএমইউ ক্যাম্পাসের এবি হাইস্কুলে শিক্ষাদান করছিলেন এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে তার নাম পরিচিত ছিল। তিনি সন্ধ্যাবেলা দুই সহকর্মীর সঙ্গে ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী পথে হাঁটছিলেন।
সেই সময় স্কুটারে দুই যুবক তাদের পথে এসে থামিয়ে পিস্তল দেখিয়ে হুমকি জানায়। হুমকির সময় এক যুবক দানিশ রাওকে বলে, “তুমি আমাকে এখনো চেনো না, এখন চেনবে,” এরপর গুলি চালায়।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী দানিশ রাওকে কমপক্ষে তিনটি গুলি করা হয়েছে, যার মধ্যে দুইটি গুলি সরাসরি তার মাথায় আঘাত করে। গুলির ফলে তিনি গুরুতরভাবে আহত হন এবং সঙ্গে সঙ্গে ক্যাম্পাসের নিকটস্থ জওহরলাল নেহরু মেডিকেল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়।
চিকিৎসা সেবা গ্রহণের পর ডাক্তাররা দানিশ রাওকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির কাছাকাছি, যেখানে গুলিবিদ্ধের শিকার হওয়ার পর দ্রুত পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পৌঁছায়।
আলীগড়ের পুলিশ সুপারিন্টেন্ডেন্ট নীরজ যাদব জানান, স্কুটারে থাকা দুই যুবকই গুলি চালিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। গুলিবিদ্ধের পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে।
পুলিশের মতে, গুলিবিদ্ধের পর ছয়টি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে এবং ক্যাম্পাসের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজনদের সনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। বর্তমানে গুলিবিদ্ধের অপরাধী সনাক্তকরণে প্রযুক্তিগত সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোহাম্মদ ওয়াসিম আলি জানান, গুলির খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।
গুলিবিদ্ধের মামলাটি স্থানীয় থানা থেকে রেজিস্টার করা হয়েছে এবং তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী অপরাধীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হবে। সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার না হওয়া পর্যন্ত আদালতে রিকোয়েস্ট পেন্ডিং থাকবে এবং তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
পুলিশের জানামতে, গুলিবিদ্ধের অপরাধী সনাক্ত না হওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য অতিরিক্ত গার্ড এবং সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। শিক্ষার্থী ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জরুরি সভা চালু করেছে।
এই ঘটনার পর শিক্ষার্থী ও কর্মীদের মধ্যে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শোকস্মরণী আয়োজনের পাশাপাশি মানসিক সহায়তা প্রদান করার পরিকল্পনা করেছে।
গুলিবিদ্ধের তদন্ত চলমান থাকায়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো নতুন তথ্য প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জনসাধারণকে আপডেট করা হবে।



