ময়মনসিংহের যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. রাসেল পাঠান (৫০) কে বৃহস্পতিবার সকাল দশটায় বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্টের ইমিগ্রেশন ডেস্কে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ভারতে যাত্রা করার উদ্দেশ্যে পাসপোর্ট জমা দিয়েছিলেন, তবে ইমিগ্রেশন সিস্টেমে তার নাম ‘স্টপলিস্টে’ পাওয়ায় তাকে আটক করা হয়।
ইমিগ্রেশন পুলিশ অফিসার শাখাওয়াত হোসেনের মতে, গ্রেপ্তারটি ইমিগ্রেশন ডেস্কের কর্মীদের সতর্কতা অনুসরণে করা হয়। সকাল দশটায় পাঠানকে চেকপোস্টের ইমিগ্রেশন ডেস্কে থামানো হয় এবং পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজেকে ময়মনসিংহের যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক বলে পরিচয় দেন।
রাসেল পাঠান ময়মনসিংহ সদর উপজেলার সংকিপাড়া গ্রাম থেকে, আবদুর রাজ্জাক পাঠানের পুত্র। তিনি ময়মনসিংহ মহানগর যুবলীগের সহ-আহ্বায়ক পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার বিরুদ্ধে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনসহ দুইটি অপরাধের মামলা দায়ের আছে।
ইমিগ্রেশন সিস্টেমে ‘স্টপলিস্টে’ নামের উপস্থিতি সাধারণত নিরাপত্তা ঝুঁকি বা পূর্বে দায়ের করা অপরাধের সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়। এই তালিকায় নাম পাওয়া ব্যক্তিকে ইমিগ্রেশন সেবা প্রদান না করে আটক করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট আইন অনুসারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
গ্রেপ্তার প্রক্রিয়ার সময় পাঠানকে তার পাসপোর্ট ও পরিচয়পত্র যাচাই করা হয়। ইমিগ্রেশন কর্মীরা তার তথ্য সিস্টেমে অনুসন্ধান করে ‘স্টপলিস্টে’ চিহ্নিত হওয়া নিশ্চিত করেন। এরপর তাকে আটক করে বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়।
হস্তান্তরের পর পাঠানকে বেনাপোল পোর্ট থানার জেলখানায় রাখা হয়। সেখানে তাকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানানো হয়। তার বিরুদ্ধে থাকা পূর্বের মামলাগুলি এই গ্রেপ্তারকে সমর্থন করে এবং তদন্তের ভিত্তি গঠন করে।
ইমিগ্রেশন পুলিশ অফিসার শাখাওয়াত হোসেন উল্লেখ করেন, “স্টপলিস্টে থাকা ব্যক্তির ক্ষেত্রে নিরাপত্তা রক্ষার জন্য অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে হয়।” তিনি অতিরিক্তভাবে জানান, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসারে আদালতে হাজির করা হবে।
প্রতিবেদন অনুসারে, পাঠানকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ধারা ৩৯(১) অনুযায়ী গ্রেফতার করা হয়েছে, যা দেশের নিরাপত্তা হুমকি সৃষ্টিকারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা হয়। সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী তাকে ৭ দিনের মধ্যে আদালতে উপস্থাপন করতে হবে।
বৈধভাবে গ্রেপ্তার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর, তদন্তকারী দল তার অতীত অপরাধের রেকর্ড, যুবলীগে তার ভূমিকা এবং ভ্রমণ পরিকল্পনা ইত্যাদি বিষয়গুলো বিশদভাবে পরীক্ষা করবে। এই তদন্তের ফলাফল ভবিষ্যতে সম্ভাব্য অতিরিক্ত অভিযোগের ভিত্তি হতে পারে।
ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ‘স্টপলিস্টে’ অনুসন্ধান নিয়মিতভাবে চালু থাকে। এই তালিকায় নাম থাকা ব্যক্তির পাসপোর্ট জমা দিলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে আটক করা হয়, যা দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা বজায় রাখতে সহায়ক।
এই ঘটনার পর, বেনাপোল চেকপোস্টের ইমিগ্রেশন বিভাগ নিরাপত্তা প্রোটোকল পুনরায় পর্যালোচনা করার কথা জানিয়েছে। তারা ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করবে।
বর্তমানে, রাসেল পাঠানের বিরুদ্ধে থাকা দুইটি মামলা এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে তার গ্রেফতার আইনি প্রক্রিয়ার অধীন। পরবর্তী আদালত তার উপস্থিতি এবং তদন্তের অগ্রগতি নির্ধারণ করবে। এই বিষয়টি দেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনার অংশ হিসেবে নজরে থাকবে।



