ইডি হাওয়ের অধীনে নিউক্যাসল টিম বক্সিং ডে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মুখোমুখি হতে চলেছে। এই ম্যাচের আগে কোচের মনোভাব ইতিবাচক, যদিও দলটি এই মৌসুমে জয়ী অবস্থান থেকে ১৩ পয়েন্ট হারিয়েছে এবং সব প্রতিযোগিতায় দশটি ম্যাচে শূন্য গোল রক্ষা করতে পারেনি।
সমর্থকরা টিমকে অনির্ভরযোগ্য বন্ধু হিসেবে দেখছেন; কখনো তারা উচ্চ তীব্রতার ম্যাচে উজ্জ্বল পারফরম্যান্স দেখায়, আবার কখনো গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে অনুপস্থিত থাকে। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধের গেম ম্যানেজমেন্টে অস্থিরতা দেখা গেছে, যা দলের সামগ্রিক ধারাকে প্রভাবিত করছে।
নিউক্যাসল এই ম্যাচে পুরনো ট্র্যাডিশনাল গ্লাসের অর্ধেক পূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখতে চায়। হাওয়ে উল্লেখ করেছেন, “আমাদের সমস্যাই নয়, শক্তিও আছে। এখন আমার গ্লাস বেশিরভাগই পূর্ণ। অন্যের মতামত ভিন্ন হতে পারে, তবে আমি মনে করি আমরা উন্নতি করছি।” এই মন্তব্য দলকে ইতিবাচক মনোভাব বজায় রাখতে উৎসাহিত করেছে।
বক্সিং ডে ম্যাচে জয় পেলে নিউক্যাসল তাদের দ্বিতীয় দূরবর্তী লিগ জয় অর্জন করবে। বর্তমানে দলটি ১১তম স্থানে রয়েছে এবং শীর্ষ চারের কাছাকাছি ছয় পয়েন্টের ফাঁক রয়েছে। তবে তারা ছয়টি লিগ ম্যাচের মধ্যে একবারই পরাজিত হয়েছে, যা তাদের অবস্থানকে স্থিতিশীল রাখে।
ক্লাবের ক্যালেন্ডার অত্যন্ত ব্যস্ত; কারাবাও কাপের সেমি-ফাইনালে ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে দুই লিগের লড়াই বাকি রয়েছে। একই সঙ্গে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট রাউন্ডে অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা দলের শারীরিক ও মানসিক চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
এই ব্যস্ত সূচি দলের ক্লান্তি বাড়িয়ে তুলেছে। গত শনিবার চেলসির বিরুদ্ধে প্রথমার্ধে তারা ২-০ লিড নিয়ে খেলায় আধিপত্য বজায় রাখলেও, শেষ পর্যন্ত ২-২ ড্র হয়ে গিয়েছে। হাওয়ে এই ফলাফলকে ক্লান্তির ফলাফল হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।
অতএব, সাম্প্রতিক সানডারল্যান্ডে ১-০ পরাজয়েও একই কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। হাওয়ের মতে, খেলোয়াড়দের শারীরিক অবস্থা এবং মানসিক চাপের ফলে তারা প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স দিতে পারেনি।
চার দিন আগে সানডারল্যান্ডের সঙ্গে ম্যাচে নিউক্যাসল কঠিন প্রতিপক্ষের সামনে ধীর গতি দেখিয়েছিল, যা তাদের সামগ্রিক ফর্মে প্রভাব ফেলেছে। এই ধারাবাহিকতা দলকে পরবর্তী ম্যাচে প্রস্তুতিতে অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
স্যান্ড্রো টোনালি এবং তার সঙ্গীরা কখনো কখনো মাঠে উপস্থিত না হওয়ার অভিযোগও উঠেছে। তবে হাওয়ের মতে, এই সমস্যাগুলো সাময়িক এবং দলটি সঠিক পথে অগ্রসর হচ্ছে।
নিউক্যাসল বর্তমানে লিগে ১১তম স্থানে রয়েছে, যদিও শীর্ষ চারের কাছাকাছি ছয় পয়েন্টের ফাঁক রয়েছে। এই অবস্থান থেকে তারা শীর্ষে ওঠার জন্য ধারাবাহিক জয় প্রয়োজন, বিশেষ করে বক্সিং ডে ম্যাচের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ হবে।
আগামী সপ্তাহে নিউক্যাসলকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সঙ্গে কঠিন লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে হবে, তারপরে কারাবাও কাপের সেমি-ফাইনাল এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগের পরবর্তী রাউন্ডের প্রস্তুতি নিতে হবে। এই সবই দলের ক্যালেন্ডারকে আরও জটিল করে তুলবে।
সারসংক্ষেপে, হাওয়ের দল ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রেখে ব্যস্ত সূচি এবং ক্লান্তি মোকাবেলা করার চেষ্টা করছে। বক্সিং ডে ম্যাচে ফলাফল নির্ধারণ করবে তারা কীভাবে এই চ্যালেঞ্জগুলোকে অতিক্রম করতে পারে এবং শীর্ষ চারের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে কিনা।



