বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, ১৭ বছরের বেশি সময়ের নির্বাসন শেষ করে দেশের মাটিতে পা রাখলেন। তিনি আজ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ফোনে কথা বললেন। তারেকের ফিরে আসা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
১৯০৩ সালে জন্মগ্রহণকারী তারেক রহমান, ২০০৮ সালের পর থেকে বিদেশে বাস করে আসা-যাওয়া সীমিত করছিলেন। দীর্ঘ সময়ের পর তিনি বাংলাদেশে ফিরে এসে, নিজের রাজনৈতিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার সংকেত দিয়েছেন। তারেকের এই পদক্ষেপ বর্ণনা করা হয়েছে যে, তিনি দেশের শীর্ষস্থানীয় বিরোধী দলের নেতৃত্বে ফিরে এসেছেন।
তারেকের দেশে ফেরার যাত্রা বিমানবন্দরের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। তিনি বাংলাদেশ বিমানের নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইট BZ-202, একটি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনারে চড়ে গিয়েছিলেন। ফ্লাইটটি সকাল ৯:৫৫ টায় সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে, সেখানে সংক্ষিপ্ত বিরতির পর ১১:১৩ টায় ঢাকা পথে রওনা হয়।
ঢাকায় পৌঁছানোর সময় ফ্লাইটটি সকাল ১১:৪৫ টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। অবতরণে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার অধীনে তারেককে স্বাগত জানানো হয়। তারেকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল, যা বিমানবন্দরের অফিসিয়াল বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিমানবন্দরে অবতরণ করার পর তারেকের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ফোনালাপ শুরু হয়। দুইজনের মধ্যে সংক্ষিপ্ত কথোপকথনে, ড. ইউনূসের স্বাস্থ্যের অবস্থা সম্পর্কে জানার জন্য তারেকের প্রশ্ন উঠে। তিনি ড. ইউনূসের সুস্থতা কামনা করে, প্রার্থনা করার অনুরোধ করেন।
কথোপকথনের মধ্যে তারেক তার পরিবার ও নিজের পক্ষ থেকে ড. ইউনূসের করা সকল নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য গৃহীত বিভিন্ন পরিকল্পনা তার এবং তার পরিবারের নিরাপদে দেশে ফিরে আসতে সহায়ক হয়েছে। এছাড়া তিনি প্রার্থনা ও শুভেচ্ছা জানিয়ে শেষ করেন।
ফোনালাপের শেষে ড. ইউনূস তারেকের নিরাপদ ফিরে আসা ও পরিবারের স্বাস্থ্যের জন্য শুভেচ্ছা জানিয়ে শেষ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, সরকার তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এই কথোপকথনটি সরকারী যোগাযোগের অংশ হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে।
তারেকের ফিরে আসা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন গতিবিধি সৃষ্টি করেছে। যদিও এখনো সরকারী পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি, তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যাপকতা থেকে বোঝা যায় যে, উচ্চ পর্যায়ের সমন্বয় করা হয়েছে।
বিএনপির চেয়ারম্যানের এই ভ্রমণ এবং ফোনালাপের তথ্য বাংলাদেশ বিমানের অফিসিয়াল রেকর্ড ও সরকারী যোগাযোগ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। উভয় পক্ষের বিবরণে কোনো বিরোধপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়নি।
এই ঘটনার পর, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে মন্তব্য করতে পারেন, তবে বর্তমান প্রতিবেদনে শুধুমাত্র ঘটনার সরাসরি তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।



