27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধমেইডুগুরিতে মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলা, পাঁচজন নিহত, ৩৫জন আহত

মেইডুগুরিতে মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলা, পাঁচজন নিহত, ৩৫জন আহত

মাইডুগুরি, বর্নো রাজ্যের রাজধানী শহরে সন্ধ্যা নামাজের সময় একটি আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরিত হয়। আল-আদুম মসজিদে ঘটিত এই হামলায় অন্তত পাঁচজন উপাসক প্রাণ হারিয়ে, ত্রিশপাঁচজন আহত হয়েছেন। স্থানীয় পুলিশ সূত্রে বোমাটির দায়িত্ব নেওয়া কোনো গোষ্ঠী এখনো প্রকাশ করেনি।

বোমা বিস্ফোরণটি সন্ধ্যা ছয়টায় ঘটেছে, যখন মসজিদে নামাজের সজ্জা চলছিল। উপস্থিতদের মধ্যে আতঙ্কের স্রোত বইয়ে যায়, এবং আহতদের দ্রুত মাইডুগুরি টিচিং হসপিটাল ও স্টেট স্পেশালিস্ট হসপিটালে নিয়ে যাওয়া হয়।

একজন বাজার নেতা, মাস্তা দালোরি, ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং বলেন, “কোনো স্পষ্ট তথ্য নেই, নামাজের সময় বোমা ফেটে গিয়েছে। আল্লাহর ইচ্ছা এভাবে ঘটেছে, তবে কীভাবে ঘটেছে তা কেউ জানে না।” তিনি ঘটনাটির অজানা প্রকৃতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

বর্নো রাজ্যের গভর্নর বাবাগানা জুলুম এই হামলাকে “অত্যন্ত নিন্দনীয়, বর্বর এবং অমানবিক” বলে নিন্দা করেন। তিনি ধর্মীয় স্থানে নিরাপত্তা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে, উৎসবের মরসুমে জনসমাগমের স্থানে সতর্কতা বজায় রাখতে নির্দেশ দেন।

গভর্নর জুলুমের বিবৃতিতে মৃতদের পরিবারকে সমবেদনা জানিয়ে, আহতদের দ্রুত সেরে ওঠার প্রার্থনা করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, “ধর্মীয় স্থানে আক্রমণ করা মানে পবিত্রতার অপমান, বিশেষ করে যখন মুসলিম সম্প্রদায় নামাজে লিপ্ত থাকে।”

পুলিশ সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, বোমা নিষ্কাশন দল দ্রুত ঘটনাস্থলকে নিরাপদ করে তুলেছে এবং বিস্ফোরণের পরপরই এলাকাটি ঘেরাও করা হয়েছে। বোর্নো স্টেট কমান্ডের মুখপাত্র কেনেথ ডাসো জানান, “বোমা নিষ্কাশন ইউনিটের চলমান তল্লাশি কাজ চলছে, এবং তদন্তের জন্য সব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

ডাসো আরও যোগ করেন, “বেসামরিকদের শান্ত ও সজাগ থাকতে অনুরোধ করা হচ্ছে, যাতে কোনো অতিরিক্ত ঘটনা রোধ করা যায়।” তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদেরকে শীতল মনের সঙ্গে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।

এই হামলা বর্ণো রাজ্যের উত্তরের নিরাপত্তা উদ্বেগকে আবারও তীব্র করে তুলেছে। গত ১৫ বছর ধরে বোকো হারাম ও তার আইএসডব্লিউএপি শাখা গোষ্ঠী এই অঞ্চলে সশস্ত্র হিংসা, মসজিদ ও বাজারে আক্রমণ চালিয়ে আসছে।

গত আগস্টে নর্থওয়েস্টের কাটসিনা রাজ্যের একটি মসজিদে গুলিবর্ষণ ঘটেছিল, যেখানে কমপক্ষে পঞ্চাশজনের মৃত্যু হয়েছিল। স্থানীয় কর্মকর্তারা ও বাসিন্দারা এই ঘটনাকে উল্লেখ করে, বর্তমান হামলাকে বৃহত্তর সন্ত্রাসী কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখছেন।

অধিক তদন্তের জন্য নিরাপত্তা বাহিনীর দলগুলো ইতিমধ্যে বিস্তৃত তল্লাশি চালু করেছে। বোমা ধ্বংসের পরপরই স্থানীয় পুলিশ ও সামরিক ইউনিটগুলো ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে, প্রমাণ সংগ্রহ এবং সন্দেহভাজনদের সনাক্তকরণের কাজ করছে।

স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো এই ধরনের আক্রমণ রোধে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তারা ধর্মীয় অনুষ্ঠান, বাজার ও জনসমাগমের স্থানে নিরাপত্তা বাড়াতে অতিরিক্ত গার্ড ও নজরদারি ব্যবস্থা স্থাপন করবে বলে জানিয়েছে।

এই ঘটনার পর, মাইডুগুরির বাসিন্দারা শোক প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে, ভবিষ্যতে এমন হিংসা রোধে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। স্থানীয় সম্প্রদায়ের নেতারা শান্তি বজায় রাখতে এবং পুনরায় এমন দুঃখজনক ঘটনা না ঘটতে পারার জন্য সমন্বিত প্রচেষ্টা চালানোর প্রতিজ্ঞা প্রকাশ করেছেন।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments