28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeখেলাধুলাখালেদ মাহমুদ নোয়াখালীর কোচের দায়িত্ব ত্যাগ, মাঠ ছেড়ে চলে গেলেন

খালেদ মাহমুদ নোয়াখালীর কোচের দায়িত্ব ত্যাগ, মাঠ ছেড়ে চলে গেলেন

সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের আউটার ফিল্ডে দুপুরের প্রশিক্ষণ চলাকালীন নোয়াখালি এক্সপ্রেসের বাস এসে পৌঁছায়। দলের খেলোয়াড়রা মাঠে অনুশীলন করছিল, তখনই জাতীয় দলের প্রাক্তন অধিনায়ক ও নোয়াখালীর প্রধান কোচ খালেদ মাহমুদ হঠাৎ করে মাঠ ছেড়ে হাঁটা শুরু করেন। উপস্থিত সাংবাদিকদের জিজ্ঞাসায় তিনি জানান, তিনি আর কোনোভাবে বিপিএল-এ অংশ নেবেন না।

খালেদ মাহমুদের এই অপ্রত্যাশিত পদক্ষেপের পেছনে তার কোচিং দায়িত্বের প্রতি অসন্তোষের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তিনি স্পষ্ট করে বলেছিলেন, নোয়াখালি এক্সপ্রেসের কোচের দায়িত্বে থেকে তিনি আর কাজ চালিয়ে যেতে চান না। তার এই মন্তব্যের পর দলীয় কর্মকর্তারা তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন, তবে কোনো ফলাফল না পেয়ে তিনি সিদ্ধান্তে অটল থাকেন।

প্রশিক্ষণ শেষে, কোচের সহকারী তালহা জুবায়েরের সঙ্গে তিনি স্টেডিয়াম থেকে বেরিয়ে যান। দুজনই সিএনজি গাড়িতে চড়ে স্টেডিয়ামের প্রবেশদ্বার থেকে দূরে সরে যান। এই ঘটনার ফলে দলের প্রশিক্ষণ সেশন অস্থায়ীভাবে থেমে যায় এবং মাঠে উপস্থিত অন্যান্য খেলোয়াড়দের মধ্যে বিভ্রান্তি দেখা যায়।

খালেদ মাহমুদের এই পদত্যাগের ফলে নোয়াখালি এক্সপ্রেসের কোচিং স্টাফে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে। দলীয় ব্যবস্থাপনা এখন তৎকালীন বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজতে বাধ্য, যাতে আসন্ন ম্যাচগুলিতে কোনো ধাক্কা না লাগে। যদিও এখনো নতুন কোচের নাম প্রকাশিত হয়নি, তবে দলের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা দ্রুত পদক্ষেপ নিতে ইচ্ছুক।

স্টেডিয়ামের আউটার ফিল্ডে অনুশীলনরত অন্যান্য খেলোয়াড়দের মতে, প্রশিক্ষণ চলাকালীন কোচের আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গিয়েছিল। তবে তারা কোচের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের বিস্তারিত আলোচনা করেনি। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল মাঠে শারীরিক প্রস্তুতি বজায় রাখা, যা কোচের প্রস্থান সত্ত্বেও চালু রাখা হয়।

নোয়াখালি এক্সপ্রেসের কর্মকর্তারা কোচের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে দলের মনোবল বজায় রাখার জন্য অতিরিক্ত সেশন আয়োজনের পরিকল্পনা করছেন। তারা উল্লেখ করেছেন, কোচের পরিবর্তন সত্ত্বেও খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ রুটিনে কোনো বড় পরিবর্তন হবে না। দলীয় ম্যানেজার বলছেন, নতুন কোচের নির্বাচন দ্রুত সম্পন্ন হবে এবং দলকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে।

খালেদ মাহমুদের এই পদত্যাগের পেছনে আর্থিক বা পারফরম্যান্স সংক্রান্ত কোনো স্পষ্ট কারণ প্রকাশিত হয়নি। তিনি শুধুমাত্র বলেছিলেন, তিনি আর কোনোভাবে বিপিএল-এ যুক্ত হতে চান না। এই বক্তব্যের পর দলীয় কর্মকর্তারা তার সিদ্ধান্তকে সম্মান করে, তবে ভবিষ্যতে তার সঙ্গে পুনরায় কাজ করার সম্ভাবনা নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

ক্লাবের ভক্তদের মধ্যে এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া মিশ্র। কিছু ভক্ত কোচের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে, আবার অন্যরা দলের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নতুন কোচের দ্রুত নিয়োগের দাবি জানায়। সামাজিক মাধ্যমে এই বিষয়ে বিভিন্ন মতামত প্রকাশ পেয়েছে, তবে সবই কোচের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মানজনক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখে।

প্রশিক্ষণ শেষে, কোচের সঙ্গে সহকারী কোচ তালহা জুবায়েরের দ্রুত প্রস্থান স্টেডিয়ামের নিরাপত্তা কর্মীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তারা দ্রুত গাড়ি বের করে এবং কোচকে স্টেডিয়াম থেকে দূরে নিয়ে যায়। এই ঘটনার পর স্টেডিয়ামের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা করা হয়, যাতে ভবিষ্যতে অনুরূপ পরিস্থিতি এড়ানো যায়।

নোয়াখালি এক্সপ্রেসের ব্যবস্থাপনা জানিয়েছে, কোচের পরিবর্তনের পর দলীয় কৌশল ও পরিকল্পনা পুনরায় মূল্যায়ন করা হবে। তারা জোর দিয়ে বলছে, খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি ও পারফরম্যান্সে কোনো প্রভাব না পড়ে, তাই প্রশিক্ষণ ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাবে। নতুন কোচের নাম প্রকাশের আগে দলীয় অভ্যন্তরীণ আলোচনা চলবে।

এই ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে, কোচিং পজিশন নিয়ে মতবিরোধ দলীয় পরিবেশে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তবে নোয়াখালি এক্সপ্রেসের নেতৃত্বের লক্ষ্য হল, এই অস্থায়ী অশান্তি কাটিয়ে দলকে আবার সঠিক পথে নিয়ে যাওয়া। তারা আশাবাদী যে শীঘ্রই নতুন কোচের নিযুক্তি হবে এবং দল আবার পূর্ণ শক্তিতে মাঠে ফিরে আসবে।

সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের এই ঘটনার পর, অন্যান্য দলও তাদের কোচিং স্টাফের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখার গুরুত্ব পুনর্বিবেচনা করতে পারে। কোচের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ফলে সৃষ্ট অস্থিরতা দলীয় পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলতে পারে, তাই ব্যবস্থাপনা স্তরে সঠিক যোগাযোগ ও সমঝোতা প্রয়োজন।

খালেদ মাহমুদের পদত্যাগের ফলে নোয়াখালি এক্সপ্রেসের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এখনো স্পষ্ট নয়, তবে দলীয় কর্মকর্তারা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছেন। নতুন কোচের নিয়োগের সময়সূচি ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও তথ্য শীঘ্রই প্রকাশিত হবে।

এই ঘটনার মূল বিষয় হল, কোচের সিদ্ধান্তের পেছনে তার নিজস্ব নীতি ও দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে, যা তিনি স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেছেন। নোয়াখালি এক্সপ্রেসের জন্য এখন নতুন নেতৃত্বের সন্ধান এবং দলের ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।

সর্বশেষে, নোয়াখালি এক্সপ্রেসের ভক্ত ও সংশ্লিষ্ট সকলকে জানানো হচ্ছে যে, কোচের পরিবর্তন সত্ত্বেও দলীয় প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতি অব্যাহত থাকবে, এবং নতুন কোচের নিযুক্তি নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দলীয় কার্যক্রমে স্বাভাবিকতা ফিরে আসবে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্রীড়া প্রতিবেদক
AI-powered খেলাধুলা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments