বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জ থেকে বেরিয়ে পূর্বনির্ধারিত বাসে চড়ে পুবাচলের ৩০০ ফুট এলাকায় অনুষ্ঠিত গণসংবর্ধনা সমাবেশের দিকে রওনা হলেন। তিনি সেখানে উপস্থিত কয়েক লাখ নেতাকর্মীর সামনে বক্তব্য রাখবেন।
সমাবেশস্থলটি পূর্বাচলের বিশাল জমিতে গঠিত, যেখানে তারেক রহমানের জন্য অপেক্ষা করছিলেন বহু নেতা ও কর্মী। তিনি সমাবেশে উপস্থিত সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে পার্টির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরবেন।
সমাবেশের পর তারেক রহমানের পরবর্তী গন্তব্য ছিল বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতাল, যেখানে বিএনপি’র চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া চিকিৎসাধীন আছেন। তিনি হাসপাতালের দরজা পার হয়ে জিয়ার সঙ্গে সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎ করবেন।
খালেদা জিয়া, যিনি দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বর্তমান বিএনপি চেয়ারপার্সন, দীর্ঘস্থায়ী রোগে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তারেক রহমানের সফরটি পার্টির উচ্চপদস্থ নেতাদের স্বাস্থ্য অবস্থা সম্পর্কে জানার এবং পার্টির অভ্যন্তরীণ সমন্বয় বজায় রাখার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।
হাসপাতাল পরিদর্শনের পর তারেক রহমান গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাড়িতে গিয়ে পার্টির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের সঙ্গে দেখা করবেন। এই সফরটি গুলশানের ঐতিহাসিক বাড়িতে পার্টির অভ্যন্তরীণ আলোচনার অংশ হিসেবে পরিকল্পিত।
বৃহস্পতিবার বিকেল প্রায় ১১টা ৪০ মিনিটে তারেক রহমান, তার স্ত্রী ও কন্যা সহ বাংলাদেশ বিমান সংস্থার ফ্লাইটটি ঢাকা বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এভাবে তিনি ১৭ বছর পর আবার দেশের মাটিতে পা রাখেন।
বিমানবন্দরে অবতরণের পর তারেক রহমানকে শাশুড়ি সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানু ফুলের মালা দিয়ে স্বাগত জানিয়ে বরণ করেন। এই অনুষ্ঠানটি পার্টির ঐতিহ্যবাহী স্বাগত প্রথা অনুসরণ করে পরিচালিত হয়।
স্বাগত অনুষ্ঠানে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন এবং নতুন সফরের গুরুত্ব ও পার্টির সংহতি সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন।
তারেক রহমানের দেশে ফিরে আসার আগে, একই দিনে সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে বাংলাদেশ বিমান সংস্থার নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইট বিজি-২০২ (বোয়িং ৭৮৭‑৯ ড্রিমলাইনার) সিলেট থেকে অবতরণ করে। ফ্লাইটটি সিলেট থেকে ঢাকা পর্যন্ত একটি সংক্ষিপ্ত বিরতির পর ১১টা ১৩ মিনিটে ঢাকা পথে রওনা হয়।
এই ফ্লাইটটি দেশের অভ্যন্তরে নিয়মিত বাণিজ্যিক সেবা প্রদানকারী একটি রুট, যা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে। তারেক রহমানের যাত্রা এই রুটের মাধ্যমে সিলেট থেকে ঢাকা পর্যন্ত সম্পন্ন হয়।
বিএনপি’র এই ধারাবাহিক সফর ও সমাবেশকে বিরোধী দলগুলো রাজনৈতিক সক্রিয়তা বাড়ানোর প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছে, যেখানে শাসনকর্তা দলও নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ইঙ্গিত দিয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, তারেক রহমানের এই সফরটি পার্টির নেতৃত্বের উপস্থিতি পুনরায় নিশ্চিত করে এবং দেশের রাজনৈতিক মঞ্চে বিএনপি’র সক্রিয় ভূমিকা পুনরায় জোরদার করে।



