বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগামী তিন দিনের ভ্রমণ ও কার্যক্রমের বিস্তারিত আজ গুলশানের বিএনপি চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশিত হয়েছে। গৃহীত তথ্য অনুযায়ী, তিনি বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা ৫০ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন এবং তারপরই দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের দ্বারা স্বাগত জানানো হবে।
বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বুধবার দুপুরে গুলশানের অফিসে সাংবাদিকদের সামনে এই সময়সূচি জানিয়ে বলেন, তারেক রহমানের সফরটি দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও স্মৃতিস্তম্ভের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। তিনি উল্লেখ করেন, শুক্রবারের পরিকল্পনায় জুমা জিয়াউর রহমানের মাজার ও সাভার স্মৃতিসৌধে ভ্রমণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যেখানে তিনি দলের প্রতিষ্ঠাতা নেতাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন।
শুক্রবারের সফরের পর, শনিবারের সূচিতে নির্বাচন কমিশনে এনআইডি (জাতীয় পরিচয়পত্র) সংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করার পর, তিনি শহীদ ওসমান হাদির কবরস্থানে জিয়া করবেন। এরপর তিনি পঙ্গু হাসপাতালে গিয়ে জুলাই মাসে গণ-অভ্যুত্থানে আহতদের দেখার পরিকল্পনা করেছেন। এই ভিজিটগুলোকে দলটি দেশের রাজনৈতিক ঐতিহ্য ও মানবিক দায়িত্বের সঙ্গে সংযুক্ত করার প্রচেষ্টা হিসেবে উপস্থাপন করেছে।
প্রেস কনফারেন্সে উল্লেখ করা হয় যে, তারেক রহমানের এই সফরটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দলের উপস্থিতি দৃঢ় করার পাশাপাশি আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দলটি বিশেষ করে শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের মতো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তার রাজনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এই ভ্রমণকে ব্যবহার করবে বলে জানায়।
বিএনপি দলের উচ্চপদস্থ সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং স্মৃতিস্তম্ভ পরিদর্শনের সময়, তারেক রহমানের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য বিশেষ গাড়ি ও নিরাপত্তা দল প্রস্তুত থাকবে। গন্তব্যস্থলগুলোতে স্থানীয় পার্টি কর্মীদের সমন্বয়ে স্বাগত জানানো হবে এবং উপস্থিত ভক্তদের সঙ্গে সংলাপের ব্যবস্থা করা হবে।
বিএনপি দলের এই ঘোষণার পর, বিরোধী দলগুলোর কাছ থেকে কোনো সরাসরি মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এই ধরনের পরিকল্পিত সফরগুলো নির্বাচনী সময়ে দলের ভিত্তি শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা যায়। বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে, এমন ভ্রমণগুলোকে জনমত গঠন ও সমর্থন বাড়ানোর একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
বিএনপি গুলশান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই সংবাদ সম্মেলনে দলটি ভবিষ্যৎ নির্বাচনের প্রস্তুতি ও দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে এই সফরের গুরুত্ব তুলে ধরেছে। দলের প্রতিনিধিরা বলছেন, এই ভ্রমণটি দেশের বিভিন্ন স্তরে দলের নীতি ও দৃষ্টিভঙ্গি পৌঁছে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
সামগ্রিকভাবে, তারেক রহমানের আগামী তিন দিনের কর্মসূচি দেশের রাজনৈতিক মঞ্চে একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ থেকে শুরু করে স্মৃতিস্তম্ভ পরিদর্শন, এনআইডি কার্যক্রম সমাপ্তি এবং আহতদের দেখার পর্যন্ত প্রতিটি ধাপকে দলটি দেশের ঐতিহাসিক ও মানবিক দায়িত্বের সঙ্গে সংযুক্ত করে উপস্থাপন করেছে। এই পরিকল্পনা দেশের রাজনৈতিক গতিপথে কী প্রভাব ফেলবে তা সময়ই প্রকাশ করবে।



