জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব মীর আরশাদুল হক বৃহস্পতিবার সকালে ফেসবুকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তিনি দলের জুলাই গণ‑অভ্যুত্থানের প্রতিশ্রুতি রক্ষায় ব্যর্থতা উল্লেখ করে, একই সঙ্গে ১৭ বছর পর দেশে ফিরে আসা বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমানকে স্বাগত জানিয়ে সমর্থন প্রকাশ করেন।
মীর আরশাদুল হক এনসিপিতে কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিবের পাশাপাশি নির্বাহী কাউন্সিলের সদস্য, মিডিয়া সেল ও শৃঙ্খলা কমিটির সদস্য, পরিবেশ সেলের প্রধান এবং চট্টগ্রাম মহানগরের প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি আসন্ন সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম‑১৬ (বাঁশখালী) আসনে দলের মনোনয়নও পেয়েছিলেন।
রাজনীতিতে প্রবেশের আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (ডুজা) সাবেক সহসভাপতি ছিলেন। ছাত্রজীবনে ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা ও বিভিন্ন আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক সচেতনতা গড়ে তোলেন।
জুলাই গণ‑অভ্যুত্থানের পর তিনি প্রথমে জাতীয় নাগরিক কমিটিতে যুক্ত হন এবং তরুণ নেতৃত্বের সঙ্গে এনসিপি গঠনে অংশ নেন। এরপর থেকে তিনি দলের বিভিন্ন স্তরে কাজ করে আসছেন।
তার পদত্যাগের পোস্টে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে তিনি চট্টগ্রাম‑১৬ আসনে এনসিপি’র তরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে আসা তারেক রহমানের স্বাগত জানিয়ে, “সুস্বাগতম” বলে প্রকাশ্যে সমর্থন জানান।
মীর আরশাদুল হক তার পোস্টে উল্লেখ করেন, এনসিপি প্রতিষ্ঠার সময় নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের প্রতিশ্রুতি নিয়ে দলটি গড়ে তোলা হয়েছিল, তবে গত দশ মাসের অভিজ্ঞতায় তিনি দেখেছেন যে দল ও নেতারা সেই প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, “যে স্বপ্ন ও সম্ভাবনা নিয়ে এনসিপিতে যোগ দিয়েছিলাম, তা আর অবশিষ্ট নেই; দল ও বড় অংশের নেতারা ভুল পথে আছে, তাই আমি আর সেই পথে চলতে পারি না।”
যদিও রাজনৈতিক সম্পর্ক শেষ করেছেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে দলের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখবেন এবং তাদের ভবিষ্যৎ জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তের পেছনে তিনি দেশের গণতন্ত্রে উত্তরণ এবং স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করা সবচেয়ে জরুরি বলে উল্লেখ করেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মীর আরশাদুল হকের ত্যাগ এনসিপি’র চট্টগ্রাম‑১৬ আসনের প্রার্থী নির্বাচনে অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে। তার প্রার্থী পদত্যাগের ফলে দলকে নতুন মুখ খুঁজতে হবে, যা নির্বাচনী প্রস্তুতিতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে। অন্যদিকে, তারেক রহমানের ফিরে আসা এবং মীর আরশাদুল হকের সমর্থন বিএনপি’র জন্য রাজনৈতিক শক্তি বাড়াতে পারে, বিশেষত চট্টগ্রাম অঞ্চলে।
বিএনপি’র অভ্যন্তরে মীর আরশাদুল হকের সমর্থনকে ইতিবাচক সিগন্যাল হিসেবে দেখা হচ্ছে। তারেক রহমানের ফিরে আসা ইতিমধ্যে পার্টির সংগঠনের পুনর্গঠনকে ত্বরান্বিত করেছে, এবং এই সমর্থন পার্টির ভিত্তি সম্প্রসারণে সহায়তা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পরবর্তী সময়ে দেশীয় রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন সমন্বয় দেখা যাবে। এনসিপি’র নেতৃত্বের মধ্যে অভ্যন্তরীণ পুনর্গঠন এবং নতুন প্রার্থীর নির্বাচন প্রক্রিয়া কীভাবে এগোবে, তা আসন্ন সংসদ নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলবে। একই সঙ্গে, বিএনপি’র পুনরুজ্জীবিত কৌশল এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে পার্টির অবস্থান কীভাবে শক্তিশালী হবে, তা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়ে যাবে।



