28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeবিনোদনবাংলাদেশের খ্রিস্টান সম্প্রদায়ে বড়দিনের শান্তি-সমৃদ্ধি উদযাপন

বাংলাদেশের খ্রিস্টান সম্প্রদায়ে বড়দিনের শান্তি-সমৃদ্ধি উদযাপন

ঢাকার খ্রিস্টান সম্প্রদায় ২৫ ডিসেম্বর, বৃহস্পতিবার, যিশু খ্রিস্টের জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে শান্তি ও সমৃদ্ধির কামনা করে বড়দিনের অনুষ্ঠান শুরু করেছে। রাতের আগের সময় থেকেই ঘরবাড়ি, হোটেল, মল সব জায়গায় উজ্জ্বল আলো ও সাজসজ্জা ছড়িয়ে পড়েছে।

বাড়িগুলোতে ছোট ছোট তারের স্টার, রঙিন বল, মিনি ক্রিসমাস গাছ এবং মোরিচ বাতি দিয়ে রঙিন পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটি গৃহে পরিবারগুলো প্রভাতের প্রার্থনা, শুভেচ্ছা বিনিময় এবং কেক‑পিঠা বানিয়ে একে অপরের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার রীতি পালন করে।

রাজধানীর উচ্চমানের হোটেল ও রেস্তোরাঁয় বিশেষ বড়দিনের প্রোগ্রাম চালু হয়েছে। সেখানে প্রার্থনা সেশন, আলোয় সজ্জিত ক্রিসমাস গাছ এবং সান্তা ক্লজের উপস্থিতি দর্শকদের আনন্দে ডুবিয়ে দেয়। কিছু শপিং মলেও সাদা চুলের সান্তা ক্লজ উপহারের ঝুলি নিয়ে শিশুদের সঙ্গে মেলামেশা করে।

চর্চিত ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলো রাতের আগের দিন থেকেই শুরু হয়, তবে মূল মিস ও প্রার্থনা বড়দিনের সকালের সময় অনুষ্ঠিত হয়। কাকরাইলের সেন্ট মেরি’স ক্যাথিড্রাল, তেজগাঁওয়ের হলি রোজারি, জাপা মলা রাণী গির্জা এবং ইস্কাটনের সেন্ট থমাস চার্চসহ রাজধানীর বিভিন্ন গির্জা আলোকসজ্জা, ক্রিসমাস গাছ এবং নেটিভিটি দৃশ্য দিয়ে সজ্জিত।

গির্জাগুলোর ভিতরে যিশু খ্রিস্টের জন্মের সময়ের গরু ও গাধা সহ নাটিভিটি মডেল স্থাপন করা হয়েছে, যা চার্চের আশেপাশের এলাকায় উৎসবের পরিবেশকে আরও সমৃদ্ধ করে। কাকরাইলের সেন্ট মেরি’স ক্যাথিড্রালে শীতের তুষারময় সকালে বিভিন্ন বয়সের মানুষ একত্রিত হয়ে প্রার্থনা করেন।

ফাদার আলবার্ট রোজারিও এই সমাবেশে জীবনের প্রেমময়তা ও পরস্পরের প্রতি ভালবাসা পূর্ণ হওয়ার কামনা প্রকাশ করেন। তিনি প্রভুকে বিশ্বজুড়ে শান্তি ফিরিয়ে দেওয়ার এবং শীঘ্রই পুনরায় উপস্থিতির জন্য প্রার্থনা করেন।

বড়দিনের মূল ভিত্তি হল দুই হাজার বছরেরও বেশি আগে, ২৫ ডিসেম্বর, ইসরায়েলীয় বেথলহেমে মেরি গর্ভে যিশু জন্ম নেওয়া। এই ঐতিহাসিক ঘটনার স্মরণে খ্রিস্টানরা ঈশ্বরের মহিমা প্রচার এবং মানবজাতিকে সত্য ও ন্যায়ের পথে পরিচালিত করার জন্য যিশুকে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন বলে বিশ্বাস করে।

ফাদার আলবার্ট উপস্থিত সকলকে স্মরণ করিয়ে দেন যে বড়দিনের প্রকৃত অর্থ হল পারস্পরিক ভালবাসা ও সহানুভূতি। তিনি বলেন, “পালিত হচ্ছে যিশুর জন্মদিন, সবার প্রতি সবার ভালোবাসাই বড়দিনের মূল সত্তা।”

এই বছরের বড়দিনের উদযাপনকে তিনি উল্লাসপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে বহু মানুষের উপস্থিতি দিয়ে চিহ্নিত করেন। যদিও অনেক পরিবার বাড়িতে একত্রিত হয়ে খাবার ভাগ করে, তবু জনসাধারণের স্থানগুলোতে আনন্দের ঢেউ দেখা যায়।

উৎসবের দিনটি সঙ্গীত, নৃত্য, উপহার বিনিময় এবং পারিবারিক খাবারের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়, যা শান্তি ও ঐক্যের বার্তা পুনরায় জোরদার করে।

সার্বিকভাবে, বাংলাদেশে বড়দিনের উদযাপন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানকে স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে মিশিয়ে একটি সুমধুর পরিবেশ তৈরি করেছে, যা সমাজের বিভিন্ন স্তরে শান্তি ও সমৃদ্ধির আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক
AI-powered বিনোদন content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments