ঢাকার আগারগাঁওতে বাংলাদেশ‑চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের সামনে চার দিনব্যাপী রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) আয়োজিত আবাসন মেলা গত বুধবার দুপুরে উন্মুক্ত হয়। প্রথম দিন থেকেই ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা যায়, যেখানে দেশীয় ও বিদেশি নির্মাতারা নতুন প্রকল্পের ফ্ল্যাট ও প্লট প্রচার করে।
মেলাটির মূল উদ্দেশ্য হল নতুন আবাসিক ও বাণিজ্যিক প্রকল্পের বিক্রয় ত্বরান্বিত করা, আর এজন্য অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো মূল্যছাড়সহ নানা সুবিধা প্রদান করে। শেল্টেক, দেশের শীর্ষস্থানীয় রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার, মেলায় ৭৬টি প্রকল্পের ফ্ল্যাট ও বাণিজ্যিক ইউনিট নিয়ে উপস্থিত হয়। এই প্রকল্পগুলো ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, মগবাজার, ইস্কাটন, সেগুনবাগিচা, বসুন্ধরা, উত্তরা, গুলশান, জলসিঁড়ি এবং চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ ও দক্ষিণ খুলশীসহ বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে আছে।
শেল্টেকের পোর্টফোলিওতে বিশেষভাবে জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের ২১টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত, যেখানে মোট ১৬৮টি ফ্ল্যাট রয়েছে। প্রতিটি ফ্ল্যাটের গড় আয়তন ২,৮০০ বর্গফুট, এবং প্রতি বর্গফুটের মূল্য ১০,০০০ থেকে ১৪,০০০ টাকা পর্যন্ত নির্ধারিত। এই দামের পরিসীমা বাজারের গড়ের তুলনায় প্রতিযোগিতামূলক, যা ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
শেল্টেকের উপদেষ্টা নওশাদ চৌধুরী মেলায় জানান, জলসিঁড়ি প্রকল্পে স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, মসজিদ, পার্ক ও লেকসহ সম্পূর্ণ অবকাঠামো রয়েছে, ফলে পরিবারিক জীবনযাত্রার সব প্রয়োজন এক জায়গায় পূরণ হয়। এ কারণে প্রকল্পের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, মেলায় ফ্ল্যাট বুকিং করলে সর্বোচ্চ ২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত মূল্যছাড় দেওয়া হবে, পাশাপাশি কিচেন ক্যাবিনেট বিনামূল্যে এবং অন্দরসজ্জার নকশা কম মূল্যে সরবরাহের ব্যবস্থা রয়েছে।
ট্রপিক্যাল হোমস, আরেকটি বৃহৎ রিয়েল এস্টেট সংস্থা, মেলায় তার আবাসিক ও বাণিজ্যিক প্রকল্প উপস্থাপন করে। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় কোম্পানির ১২টি প্রকল্প রয়েছে, যার মধ্যে তিনটি কনডোমিনিয়াম প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত। এই প্রকল্পগুলো ৫১, ২২ ও ২০ কাঠা জমিতে নির্মিত, এবং মোট ২৫০টি ফ্ল্যাটের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
ট্রপিক্যাল হোমসের ফ্ল্যাটের আয়তন ১,৮৫০ বর্গফুট থেকে ৩,৫০০ বর্গফুট পর্যন্ত বিস্তৃত, এবং প্রতি বর্গফুটের মূল্য ১১,৫০০ থেকে ১৭,৫০০ টাকা পর্যন্ত নির্ধারিত। এই দামের পরিসীমা উচ্চমানের ফিনিশ ও আধুনিক সুবিধা সমন্বিত, যা মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে লক্ষ্য করে। মেলায় কোম্পানির প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেন, বসুন্ধরা প্রকল্পের পাশাপাশি ঢাকার অন্যান্য এলাকায়ও নতুন প্রকল্পের পরিকল্পনা চলছে, যা ভবিষ্যতে বাজারে সরবরাহ বাড়াবে।
মেলাটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল বিভিন্ন আর্থিক সুবিধা ও পেমেন্ট পরিকল্পনা। উভয় সংস্থা ক্রেতাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী কিস্তি পরিকল্পনা, ব্যাংক লোনের সহজ শর্ত এবং প্রি-অফার হিসেবে অতিরিক্ত সেবা প্রদান করে। এসব সুবিধা প্রথমবারের ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষভাবে আকর্ষণীয়।
অবস্থানগত দিক থেকে মেলাটি আগারগাঁওয়ের কেন্দ্রস্থলে হওয়ায়, অংশগ্রহণকারীরা সহজে পৌঁছাতে পারেন। মেলাটির চার দিনব্যাপী সময়সূচি অনুযায়ী, প্রতিদিন নতুন প্রকল্পের উদ্বোধন ও বিশেষ অফার ঘোষণা করা হয়, যা ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের ধারাবাহিক আগ্রহ বজায় রাখে।
বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিবেশে রিয়েল এস্টেট সেক্টরের চাহিদা স্থিতিশীল, তবে সুদের হার ও মুদ্রাস্ফীতি প্রভাবিত করতে পারে। তাই ডেভেলপারদের মূল্যছাড় ও অতিরিক্ত সেবা প্রদান করা একটি কৌশলগত পদক্ষেপ, যা বিক্রয় দ্রুততর করতে সহায়তা করে।
শেল্টেক ও ট্রপিক্যাল হোমসের এই মূল্যছাড়মূলক অফারগুলো বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ পরিবার ও প্রথমবারের বাড়ি কেনার ইচ্ছুক ক্রেতাদের জন্য এই ধরনের প্রণোদনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মেলাটির শেষ দিন পর্যন্ত বিক্রয় ও বুকিং সংখ্যা প্রকাশ না করা সত্ত্বেও, প্রথম দিনেই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ফ্ল্যাট বুকিং হয়েছে বলে জানা যায়। এটি রিয়েল এস্টেট বাজারের স্বাস্থ্যের একটি ইতিবাচক সূচক হিসেবে বিবেচিত হবে।
সারসংক্ষেপে, রিহ্যাবের আবাসন মেলা ঢাকার রিয়েল এস্টেট সেক্টরে নতুন প্রকল্পের প্রচার, মূল্যছাড় এবং অতিরিক্ত সুবিধার মাধ্যমে ক্রেতা আকর্ষণ করেছে। শেল্টেক ও ট্রপিক্যাল হোমসের প্রস্তাবিত দামের পরিসীমা, ফ্ল্যাটের আকার ও সুবিধা বাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা ভবিষ্যতে বিক্রয় বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি করবে।



