বিপিএল (বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ) ২৬ ডিসেম্বর থেকে মাঠে নামবে, আর দলগুলো ইতিমধ্যে প্রশিক্ষণ‑মাঠে ঘাম ঝরিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে। নোয়াখালী দলে বিদেশি খেলোয়াড়ের যোগদান এবং সিলেট টাইটানসের নতুন শীর্ষ‑অর্ডার উভয়ই টুর্নামেন্টের আগেই দৃষ্টিগোচর হয়েছে।
নোয়াখালী দলে পাকিস্তানের ওপেনার মাজ সাদাকাত সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হিসেবে শীর্ষে। তিনি ১৭৭.৯৩ স্ট্রাইক রেটে ২৫৮ রান করেছেন এবং এই মৌসুমে দলের শীর্ষ ওপেনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একই দলে আফগান অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নবীর পুত্র হাসান ইশাখিলও যোগ দিয়েছেন; তিনি বাবার মতোই বড় শট খেলতে অভ্যস্ত এবং ওপেনিং ব্যাটিংয়ে দায়িত্ব নেবে।
পেস বোলিং ইউনিটে নোয়াখালী তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী। স্থানীয় পেসার হাসান মাহমুদ, মেহেদী হাসান রানা, মুশফিক হাসান এবং রেজাউর রহমানের সঙ্গে পাকিস্তানের দ্রুত বোলার ইহসানউল্লাহ খান ও আফগান পেসার বিলাল সামি যুক্ত হয়েছে। এই সংমিশ্রণ দলকে মাঝের ওভারগুলোতে চাপ বজায় রাখতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে মিডল অর্ডার ও স্পিন বিভাগে কিছু ঘাটতি রয়ে গেছে। জাকার আলী, মাহিদুল ইসলাম এবং শাহাদত হোসেন—তিনজনই একই ধরণের ব্যাটসম্যান, যারা মাঝের ওভারগুলোতে ইনিংস মেরামতে ব্যস্ত হলে রানের গতি ধীর হয়ে যেতে পারে। এই ফাঁক পূরণে মোহাম্মদ নবী ও জনসন চার্লসের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ, তবে নবী পুরো টুর্নামেন্টে দলকে সেবা দিতে পারবেন না। এই ঘাটতি পূরণে পাকিস্তান থেকে হায়দার আলি দলকে সমর্থন দেবে।
স্পিন আক্রমণেও প্রশ্ন চিহ্ন দেখা দিচ্ছে। বাঁহাতি স্পিনার আবু হাশিম জাতীয় লিগের টি‑২০তে ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন, তবে প্রথমবার বিপিএলে নিজেকে প্রমাণ করা সহজ হবে না। আরেকজন বাঁহাতি স্পিনার নাজমুল ইসলাম তার শীর্ষ ফর্মের বাইরে, আর আফগান রহস্য স্পিনার জহির খানও দলে থাকলেও সামগ্রিক স্পিন শক্তি দুর্বলই রয়ে গেছে। নবীর যোগদান এই ঘাটতি পুরোপুরি দূর করবে কিনা তা এখনও অনিশ্চিত।
সিলেট টাইটানসের ক্ষেত্রে শীর্ষ‑অর্ডার পারভেজ‑সাইমের সমন্বয় এবং নাসুম‑মঈনের স্পিনে আস্থা প্রকাশ পেয়েছে। টিমের অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই সংমিশ্রণ দলকে শক্তিশালী শুরুর প্ল্যাটফর্ম দেবে।
সিলেটের তরুণ ব্যাটসম্যান হাবিবুর রহমানের পারফরম্যান্সও দৃষ্টিগোচর। পূর্বের বিপিএল মৌসুমে ১৪ ম্যাচে সর্বোচ্চ ৪৩* এবং গড় ১৪.২২ থাকলেও, এইবার তিনি ৩৫ বলের সেঞ্চুরি তৈরি করে আত্মবিশ্বাসের নতুন মাত্রা অর্জন করেছেন। তার এই সাফল্য দলের শীর্ষ‑অর্ডারকে আরও শক্তিশালী করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই দলে বাবা‑ছেলের সমন্বয়ও নজরে এসেছে; নবীর পুত্র হাসান ইশাখিলের উপস্থিতি দলকে নতুন গতিশীলতা দেবে।
স্থানীয় খেলোয়াড়দের মধ্যে সৌম্য সরকার, হাবিবুর রহমান সোহান এবং অন্যান্য নামও দলে অন্তর্ভুক্ত, যারা অভিজ্ঞতা ও তরুণ শক্তি একসাথে নিয়ে টুর্নামেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
বিপিএল শুরুর আগে দলগুলো শেষ পর্যায়ের প্রশিক্ষণ সেশনে মনোযোগ দিচ্ছে, যাতে মাঠে প্রবেশের সময় শারীরিক ও কৌশলগত প্রস্তুতি সম্পূর্ণ থাকে। পরবর্তী ম্যাচের সূচি অনুযায়ী, নোয়াখালী ও সিলেট টাইটানসের প্রথম ম্যাচগুলো এক সপ্তাহের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে, এবং উভয় দলই শুরুর ম্যাচে জয় নিশ্চিত করতে চায়।
এই মৌসুমে দলগুলোর শক্তি, দুর্বলতা এবং বিদেশি খেলোয়াড়ের প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। নোয়াখালী পেস বোলিংয়ে শক্তিশালী হলেও স্পিন ও মিডল অর্ডারে উন্নতির প্রয়োজন, আর সিলেট টাইটানসের শীর্ষ‑অর্ডার ও তরুণ ব্যাটসম্যানের পারফরম্যান্স দলকে প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে। টুর্নামেন্টের অগ্রগতি দেখার সঙ্গে সঙ্গে এই দিকগুলো কীভাবে কাজ করে তা স্পষ্ট হবে।



