রনবীর কাপুরের প্রধান ভূমিকায় অভিনীত ‘অ্যানিমাল’ চলচ্চিত্রটি ২০২৬ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি জাপানের সিনেমা হলগুলোতে প্রদর্শিত হবে। এই চলচ্চিত্রের পরিচালক স্যান্ডিপ রেড্ডি ভাঙ্গা, আর প্রযোজনা সংস্থা ভদ্রকালী ফিল্মস। মূল মুক্তি ভারতের বাজারে ডিসেম্বর ২০২৩-এ ঘটেছিল, এবং এখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে।
ভদ্রকালী ফিল্মস টুইটারে (X) একটি বিশেষ পোস্টার প্রকাশ করে জাপানি দর্শকদের জন্য চলচ্চিত্রের প্রচার চালিয়ে গেছে। পোস্টারে রনবীরের তীব্র চরিত্র রনবিজয় সিংয়ের ছবি এবং জাপানি স্লোগান “この男は誰にも止められない” (এই মানুষকে কেউ থামাতে পারে না) যুক্ত করা হয়েছে। এই স্লোগানটি চলচ্চিত্রের অপ্রতিরোধ্য গতি ও উত্তেজনাকে তুলে ধরেছে।
‘অ্যানিমাল’ প্রথমবারের মতো ভারতীয় বাজারে ডিসেম্বর ২০২৩-এ মুক্তি পায় এবং তাৎক্ষণিকভাবে বিশাল সাফল্য অর্জন করে। দেশের মধ্যে শুদ্ধ আয় প্রায় ৫৫৩ কোটি রুপি রেকর্ড করা হয়েছে, যা বছরের অন্যতম বড় বক্স অফিস অর্জন।
বৈশ্বিক পর্যায়ে চলচ্চিত্রের মোট আয় প্রায় ৯১৫ কোটি রুপি, যা আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় চলচ্চিত্রের উচ্চমানের পারফরম্যান্সের উদাহরণ। এই পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে ‘অ্যানিমাল’ বিশ্বব্যাপী শীর্ষ গরিবার চলচ্চিত্রের তালিকায় স্থান পেয়েছে।
প্রাথমিক রিলিজের পর থেকে ‘অ্যানিমাল’ শীর্ষস্থানীয় ভারতীয় চলচ্চিত্রের মধ্যে গর্বের সঙ্গে দাঁড়িয়ে আছে। এখন জাপানে মুক্তি পেলে, বিশ্ববিক্রয় এক হাজার কোটি রুপি ছাড়ার সম্ভাবনা বাড়ছে।
একই সময়ে, আদিত্য ধর পরিচালিত ‘ধুরন্ধর’ চলচ্চিত্রটি রনবীরের টার্গেটকে অতিক্রম করেছে এবং বিশ্ববিক্রয়ে এক হাজার থেকে এক হাজার দশ কোটি রুপি পর্যন্ত পৌঁছানোর আশা করা হচ্ছে। এই প্রতিযোগিতা ‘অ্যানিমাল’কে নতুন উচ্চতায় পৌঁছানোর প্রেরণা দিচ্ছে।
জাপানীয় বাজারে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতীয় চলচ্চিত্রের চমৎকার পারফরম্যান্স দেখা গেছে। বিশেষ করে ‘আরআরআর’ চলচ্চিত্রটি জাপানে ২.৪ বিলিয়ন ইয়েনের বেশি আয় করে, যা প্রায় ১৫০ কোটি রুপির সমান। একইভাবে ‘কেজিএফ: চ্যাপ্টার ২’ ও শক্তিশালী বক্স অফিস ফলাফল অর্জন করেছে।
এই সাফল্যগুলো ‘অ্যানিমাল’কে জাপানে সমান বা তদূর্ধ্ব সাফল্য অর্জনের আশাবাদী করেছে। যদি জাপানি দর্শকরা চলচ্চিত্রের তীব্রতা ও গল্পের সঙ্গে সংযুক্ত হতে পারে, তবে তা বিশ্ববিক্রয়ে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি আনতে পারে।
‘অ্যানিমাল’ এর প্রধান কাস্টে রনবীরের পাশাপাশি রাশমিকা মন্দানা (ম্যান্ডানা)ও রয়েছে, যাঁর পারফরম্যান্সকে সমালোচকরা ইতিবাচকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। চলচ্চিত্রের গল্প, অ্যাকশন দৃশ্য এবং সঙ্গীতের সমন্বয় জাপানি দর্শকদের কাছে আকর্ষণীয় হতে পারে।
যদি ‘অ্যানিমাল’ জাপানে ‘আরআরআর’ ও ‘কেজিএফ’ এর মতোই সাফল্য পায়, তবে তা ভারতীয় সিনেমার আন্তর্জাতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে। বিশেষ করে জাপানীয় বাজারে সাফল্য অর্জন করা মানে হল এশিয়ার বৃহৎ দর্শকগোষ্ঠীর সঙ্গে সংযোগ স্থাপন।
‘অ্যানিমাল’ এর জাপানি মুক্তি কেবল একটি বাণিজ্যিক পদক্ষেপ নয়, বরং ভারতীয় চলচ্চিত্রের গ্লোবাল রিচ বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এই পদক্ষেপটি ভবিষ্যতে আরও ভারতীয় চলচ্চিত্রকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রবেশের পথ সুগম করবে।
সর্বশেষে, ‘অ্যানিমাল’ এর জাপানি রিলিজের মাধ্যমে বিশ্ববিক্রয় এক হাজার কোটি রুপি ছাড়ার সম্ভাবনা উন্মুক্ত হয়েছে, যা ভারতীয় চলচ্চিত্রের জন্য নতুন দিগন্তের সূচনা নির্দেশ করে।



