ব্রাজিলের মিডফিল্ডার রাফিনহা আলকান্তারা ৩২ বছর বয়সে পেশাদার ফুটবল থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। ২২ ডিসেম্বর তিনি সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে অবসরের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন, যা তার ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়কে চিহ্নিত করে।
রাফিনহা ২০২৪ গ্রীষ্মে কাতারের আল-আরাবি ক্লাব থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর এক বছরেরও বেশি সময় কোনো ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। দীর্ঘ বিরতির পর অবশেষে তিনি পেশাদার দুনিয়া থেকে বিদায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
লা মাসিয়া একাডেমি থেকে উঠে আসা রাফিনহা, বার্সেলোনার অন্যতম প্রতিশ্রুতিশীল মিডফিল্ডার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তার নিখুঁত বল কন্ট্রোল, দৃষ্টিনন্দন পাস এবং টেকনিক্যাল দক্ষতা তাকে দ্রুতই দলের মূল খেলোয়াড়ের মর্যাদা এনে দেয়।
বার্সেলোনার প্রথম দলে উঠে আসার পর রাফিনহা ক্লাবের সবচেয়ে সৃজনশীল ও দক্ষ মিডফিল্ডারদের একজন হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিলেন। তবে ধারাবাহিক ইনজুরি তার উজ্জ্বল উত্থানকে বাধাগ্রস্ত করে।
গুরুতর চোটের কারণে রাফিনহা বহু সময় মাঠ থেকে দূরে ছিলেন, যা তার পারফরম্যান্সে বড় প্রভাব ফেলেছিল। ইনজুরির সঙ্গে লড়াই করার পরেও তিনি বিভিন্ন ক্লাবে সুযোগ খুঁজে পেতে চেষ্টা করেন।
সেল্টা ভিগো এবং ইন্টার মিলানের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত সময় কাটানোর পর ২০২০ সালে রাফিনহা প্যারিস সেন্ট-জার্মেইনে যোগ দেন। পিএসজিতে এক মৌসুমের বেশি সময়ে ৩৯টি ম্যাচে অংশ নিলেও তিনি নিয়মিত স্টার্টিং লাইনআপে ফিরে আসতে পারেননি।
পিএসজি থেকে বেরিয়ে রাফিনহা কাতারের আল-আরাবি দোহার ক্লাবে পা রাখেন। দোহার মাটিতে তার শেষ পেশাদার ম্যাচগুলোই হয়ে থাকে, যেখানে তিনি শেষ পর্যন্ত পেশা ত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।
ক্লাব ক্যারিয়ারে রাফিনহা মোট ৩৮৬টি ম্যাচে ৫৫টি গোল এবং ৪৬টি অ্যাসিস্টের রেকর্ড গড়ে তুলেছেন। এই পরিসংখ্যান তার মাঠে সৃষ্ট প্রভাবের স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে।
তার সাফল্যের তালিকায় রয়েছে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন্স লিগের জয়, তিনটি লা লিগা শিরোপা, তিনটি কোপা দেল রে, একটি লিগ ১ এবং ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের ট্রফি। এসব বিজয় তার ক্যারিয়ারের উজ্জ্বল মুহূর্ত হিসেবে রয়ে যাবে।
ইনজুরির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ক্যারিয়ার সত্ত্বেও রাফিনহা তার অর্জিত শিরোপাগুলোকে গর্বের সঙ্গে স্মরণ করবেন। তার বিদায় ক্রীড়া জগতে এক যুগের সমাপ্তি নির্দেশ করে।
রাফিনহা আলকান্তারার অবসরের খবর ফুটবল প্রেমিকদের মধ্যে বিস্ময় ও সম্মিলিত শোকের স্রোত তৈরি করেছে। তার সৃজনশীলতা ও টেকনিক্যাল দক্ষতা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে রয়ে যাবে।
ব্রাজিলের এই মিডফিল্ডার, যিনি বার্সেলোনার লা মাসিয়া থেকে শুরু করে ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোতে খেলে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের ছাপ রেখে গেছেন, এখন নতুন জীবনের পথে পা বাড়াচ্ছেন।



