ইসরায়েলি নিরাপত্তা মন্ত্রিপরিষদ সম্প্রতি পশ্চিম তীরের দখলকৃত এলাকায় ১৯টি নতুন বসতি অনুমোদন করেছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে ১৪টি দেশ সমালোচনা করেছে। যুক্তরাজ্য, কানাডা, ডেনমার্ক, ফ্রান্সসহ বেলজিয়াম, জার্মানি, ইতালি, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, জাপান, মাল্টা, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, স্পেন এবং যুক্তরাজ্য একত্রে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করে ইসরায়েলের এই পদক্ষেপকে অবৈধ ও গাজা স্থগিত যুদ্ধের শান্তিচুক্তিকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে বলে উল্লেখ করেছে।
এই দেশগুলো জোর দিয়ে বলেছে যে ইসরায়েলের কাজ আন্তর্জাতিক আইনের বিরোধিতা করে এবং গাজায় চলমান স্থগিত যুদ্ধের নাজুক সমঝোতাকে ক্ষুণ্ণ করতে পারে, যেখানে মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যস্থতাকারীরা দ্বিতীয় পর্যায়ের শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধের ফলে প্রায় ৭১,০০০ ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছে, যা মানবিক সংকটকে তীব্র করে তুলেছে।
যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, “আমরা কোনো রূপের সংযুক্তিকরণ এবং বসতি সম্প্রসারণের বিরোধিতা করি” এবং ইসরায়েলকে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করার পাশাপাশি বসতি সম্প্রসারণ বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এছাড়া, ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে সমর্থন করার পাশাপাশি দুই-রাষ্ট্র সমাধানের ভিত্তিতে একটি ন্যায়সঙ্গত, স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
ইসরায়েলের ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচ রবিবার ঘোষণা করেন যে সরকার নতুন বসতি পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে, যা ভবিষ্যতে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের গঠন রোধের উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, “আমরা ফিলিস্তিনি সন্ত্রাসী রাষ্ট্রের গঠনকে মাটিতে থামাচ্ছি” এবং “আমাদের পূর্বপুরুষের ভূমিতে নির্মাণ ও বসতি স্থাপন অব্যাহত থাকবে”। স্মোত্রিচের মতে, ২০২২ সালের শেষ থেকে সরকার ৬৯টি নতুন বসতি অনুমোদন বা পূর্বে অনুমোদিত বসতিগুলোকে বৈধ করে তুলেছে।
ইউনাইটেড নেশনসের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে ইসরায়েলের বসতি সম্প্রসারণকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং এটি ফিলিস্তিনি জনগণের মানবিক অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করে। এই প্রসঙ্গে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমালোচনা বাড়ছে এবং ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে দায়বদ্ধ করা হচ্ছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন উত্তেজনা দেখা দেবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। গাজা অঞ্চলে স্থগিত যুদ্ধের শান্তিচুক্তি পুনরায় আলোচনার প্রয়োজন বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের ভূমিকা আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। পাশাপাশি, দুই-রাষ্ট্র সমাধানের দিকে অগ্রসর হওয়ার প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত হতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদী শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করবে।
ইসরায়েলি সরকার এই পদক্ষেপকে জাতীয় নিরাপত্তা ও ঐতিহাসিক অধিকার রক্ষার অংশ হিসেবে উপস্থাপন করছে, তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অধিকাংশ দেশ এটিকে অবৈধ বলে গণ্য করছে। ভবিষ্যতে, যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য প্রধান শক্তির অবস্থান কীভাবে গড়ে উঠবে, তা গাজা ও পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এই ঘটনায় দেখা যায়, আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্মান ও মানবিক নীতির মধ্যে পারস্পরিক সংঘর্ষের ফলে অঞ্চলীয় স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়েছে। গাজা ও পশ্চিম তীরের ভবিষ্যৎ শান্তি প্রক্রিয়ার সাফল্য নির্ভর করবে এই ধরনের বসতি সম্প্রসারণের বিরোধী আন্তর্জাতিক সমর্থনের দৃঢ়তা ও ইসরায়েলের নীতি পরিবর্তনের ইচ্ছার ওপর।



