28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিহোয়াইট হাউস ভেনেজুয়েলান তেল 'কোয়ারেন্টাইন'ে সামরিক দায়িত্ব সীমাবদ্ধ

হোয়াইট হাউস ভেনেজুয়েলান তেল ‘কোয়ারেন্টাইন’ে সামরিক দায়িত্ব সীমাবদ্ধ

ওয়াশিংটন থেকে প্রাপ্ত নির্দেশে মার্কিন সামরিক বাহিনীর কাজের পরিধি প্রায় সম্পূর্ণভাবে ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত ‘কোয়ারেন্টাইন’ কার্যকর করার দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সূত্র অনুযায়ী, এই পদক্ষেপটি অন্তত দুই মাসের জন্য বজায় থাকবে এবং অর্থনৈতিক চাপে জোর দিয়ে ভেনেজুয়েলার সরকারকে লক্ষ্য করবে।

সেই সূত্র জানিয়েছে, সামরিক বিকল্পগুলো এখনও বিদ্যমান থাকলেও, প্রথমে আর্থিক চাপের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগ করে হোয়াইট হাউসের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সি সময়ে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর প্রতি প্রকাশ্যভাবে স্পষ্ট লক্ষ্য প্রকাশ না করা সত্ত্বেও, অভ্যন্তরীণভাবে মাদুরোকে দেশ ত্যাগে প্ররোচিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। ট্রাম্পের মন্তব্যে মাদুরোর ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে বলে ইঙ্গিত করা হয়।

হোয়াইট হাউসের সূত্র অনুসারে, বর্তমান পর্যন্ত আরোপিত নিষেধাজ্ঞা মাদুরোর উপর বিশাল চাপ সৃষ্টি করেছে এবং জানুয়ারি শেষের দিকে ভেনেজুয়েলা আর্থিক সংকটে পড়তে পারে, যদি যুক্তরাষ্ট্রের চাহিদা পূরণ না করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন ভেনেজুয়েলাকে মাদক পাচারকারী হিসেবে অভিযুক্ত করে, এবং দক্ষিণ আমেরিকায় উৎপন্ন নৌকা ও জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে বোমা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এই ধরনের আক্রমণকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বেশিরভাগ দেশ অবৈধ হত্যাকাণ্ড হিসেবে নিন্দা করেছে।

ট্রাম্পের সরকার মাদক অবকাঠামোকে স্থলভাগে বোমা হামলার হুমকি দিয়েছে এবং ক্যারাকাসের বিরুদ্ধে গোপন সিআইএ কার্যক্রম অনুমোদন করেছে।

এই মাসে মার্কিন কোস্ট গার্ড ক্যারিবিয়ান সাগরে দুটি তেলবাহী জাহাজ আটক করেছে, যেগুলো সম্পূর্ণভাবে ভেনেজুয়েলীয় কাঁচা তেল বহন করছিল। তৃতীয় জাহাজের জন্য অতিরিক্ত সেনাবাহিনীর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে, যা রবিবার প্রথমে খালি নিষেধাজ্ঞা প্রাপ্ত জাহাজ বেলা-১-কে আটক করার প্রচেষ্টার অংশ ছিল।

ভেনেজুয়েলার জাতিসংঘ দূত স্যামুয়েল মনকাদা মঙ্গলবার একটি বিবৃতি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হুমকিকে ভেনেজুয়েলা নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের সরকারকে মূল হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি বলেন, “হুমকি ভেনেজুয়েলা নয়, যুক্তরাষ্ট্রের সরকার।”

হোয়াইট হাউসের প্রতিনিধিরা এই মন্তব্যে আরও বিশদে না গিয়ে কেবলমাত্র অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার নীতি পরিবর্তনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর নতুন নির্দেশনা অনুসারে, তেল রপ্তানির ওপর কোয়ারেন্টাইন বজায় রাখতে নৌবাহিনীর নজরদারি, তহবিলের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ এবং সংশ্লিষ্ট জাহাজের আটকসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

এই নীতি বাস্তবায়নের জন্য কোস্ট গার্ডের পাশাপাশি নৌবাহিনীর সহায়তা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সামরিক সম্পদ মোতায়েনের সম্ভাবনা উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, যদি ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রের চাহিদা মেনে না চলে, তবে অর্থনৈতিক সংকটের পরিসর বাড়তে পারে এবং দেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়তে পারে। তবে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এখনো স্পষ্ট কোনো সামরিক হুমকি প্রকাশ করা হয়নি।

ভেনেজুয়েলার সরকার এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক শাসন হিসেবে সমালোচনা করেছে, এবং জাতিসংঘে এই নীতির বিরোধিতা করে রেজোলিউশন প্রস্তাবের কথা জানিয়েছে।

পরবর্তী কয়েক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের তেল কোয়ারেন্টাইন নীতি কতটা কার্যকর হবে এবং ভেনেজুয়েলা কীভাবে সাড়া দেবে, তা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন গতিপথ নির্ধারণ করবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments