ঢাকার মগবাজার ফ্লাইওভারে ২৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যা প্রায় সাতটায় একটি ককটেল নিক্ষেপের ফলে ২১ বছর বয়সী সিয়াম নামের যুবক প্রাণ হারান। ঘটনাস্থলে তৎক্ষণাৎ পুলিশ ও সিটিটিসি (কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম) ইউনিট উপস্থিত হয়ে তদন্ত শুরু করে। ককটেলটি সরাসরি সিয়ামের মাথায় আঘাত হানার পর বিস্ফোরিত হয়ে তার জীবন শেষ করে দেয়।
সিয়াম মগবাজারের জাহিদ কার ডেকোরেশন শপে কাজ করতেন এবং সন্ধ্যাবেলা কাজের বিরতিতে নাস্তা নিতে বের হয়েছিলেন। চা দোকানে চা অর্ডার করার কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই ককটেলটি তার মাথার ওপর পড়ে বিস্ফোরিত হয়। শিকারের দেহকে দ্রুতই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে নিয়ে গিয়ে রাত নয়টায় ময়নাতদন্ত করা হয়।
শিকারের ছোট ভাই সিজান জানান, তার পরিবার মূলত খুলনা জেলার দৌলতপুর থানা এলাকার। সম্প্রতি তারা মগবাজারে বসবাস করছিলেন। সিজান উল্লেখ করেন, সিয়াম কাজের বিরতিতে চা চাওয়ার জন্য বের হয়েছিলেন, কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই তার মাথার ওপর ককটেল বিস্ফোরিত হয়।
ঘটনার পর মগবাজারের আশেপাশের এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা শীঘ্রই নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি লক্ষ্য করেন এবং ঘটনাস্থল থেকে দূরে সরে যান। পুলিশ ও সিটিটিসি কর্মীরা দ্রুতই এলাকায় গিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রমাণ সংগ্রহে কাজ শুরু করেন।
দুপুরের পরই সিটিটিসি ইউনিটের বোম্ব ডিসপোজাল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে শক্তিশালী ককটেল থেকে অবশিষ্ট উপাদান ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করে। সংগ্রহকৃত প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্তের পরিধি নির্ধারণ করা হবে।
তেজগাঁও বিভাগের উপ-প্রধান পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ইবনে মিজান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করেন। তিনি জানিয়েছেন, সিটিটিসি বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের কাজের সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ উচ্চতর কর্মকর্তারাও现场ে উপস্থিত ছিলেন এবং প্রাথমিক তদন্ত চালু হয়েছে।
মিজান আরও উল্লেখ করেন, এই ধরনের সন্ত্রাসী আক্রমণ রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট একত্রে কাজ করছে। অপরাধী চিহ্নিত করার জন্য ফৌজদারি তদন্ত, ফরেনসিক বিশ্লেষণ এবং নজরদারি ক্যামেরা রেকর্ডের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
সিটিটিসি ইউনিটের কর্মকর্তারা বলেন, ককটেল বিস্ফোরণের পেছনে গোপনীয়তা বজায় রেখে কাজ করা কোনো গোষ্ঠী থাকতে পারে এবং তাদের সনাক্তকরণে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানো হবে। বর্তমানে ঘটনাস্থলে কোনো সন্দেহভাজনের নাম প্রকাশ করা হয়নি, তবে তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ গার্ডি চায়। পুলিশ এই অনুরোধের প্রতিক্রিয়ায় এলাকায় রাউন্ড পার্টি বাড়িয়ে দেয় এবং রাতের সময় গমনাগমন কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করে।
এই ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সকল স্তর একত্রে কাজ করে অপরাধী সনাক্তকরণ ও বিচার প্রক্রিয়া দ্রুততর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের সন্ত্রাসী আক্রমণ রোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন ও জনসচেতনতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।



