প্রিমিয়ার লিগের কিছু শীর্ষ ক্লাবের খেলোয়াড়দের জন্য ব্যক্তিগত শেফ টমি কোলের কাজ ক্রিসমাসের দিনেও থেমে না। ফুলহ্যাম, চেলসি ও ব্রাইটনসহ বড় ক্লাবের ফুটবলারদের জন্য তিনি সারা বছর খাবার প্রস্তুত করেন, আর ছুটির দিনে তাদের ডাইনিং টেবিলে স্বাস্থ্যের দিকটি বিশেষ গুরুত্ব পায়।
টমি কোলের দায়িত্ব হল খেলোয়াড়দের শারীরিক ফিটনেস ও পুনরুদ্ধারকে সমর্থন করে এমন খাবার তৈরি করা। তিনি ক্লাবের পুষ্টিবিদদের সঙ্গে সমন্বয় করে, খেলোয়াড়দের পছন্দ ও অপ্রিয় খাবারগুলো জানেন এবং সেসব তথ্যের ভিত্তিতে মেনু গঠন করেন।
ক্রিসমাসের মূল খাবার প্রস্তুতে তিনি ঐতিহ্যবাহী রেসিপি বজায় রাখেন, তবে স্বাদে একটু অতিরিক্ত শোভা যোগ করে এবং পুষ্টিকর দিকটি বাড়িয়ে তোলেন। “রোস্ট পটেটোতে অতিরিক্ত তেল না দিয়ে, ক্রিস্পি রাখার চেষ্টা করি,” তিনি বলেন, যা খাবারকে হালকা রাখে এবং তেলজনিত অতিরিক্ত ক্যালোরি কমায়।
ফিলিংসের ক্ষেত্রেও তিনি একই নীতি অনুসরণ করেন। “ফিলিংসের জন্য তেল কম ব্যবহার করে, স্বাদ বজায় রাখার চেষ্টা করি,” তিনি যোগ করেন, ফলে মাংসের স্বাদ হারিয়ে না গিয়ে ক্যালোরি নিয়ন্ত্রণে থাকে।
মাংসের নির্বাচনেও টমি হালকা কাটকে অগ্রাধিকার দেন। টার্কি হল ক্রিসমাসের প্রধান মাংস, তবে তিনি বুকে অংশ ব্যবহার করেন, ডার্ক মিটের তুলনায় তা কম চর্বিযুক্ত এবং পেশীর পুনরুদ্ধারের জন্য উপযোগী।
সবজি ব্যবহারে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেন। বিভিন্ন রঙের সবজি সমৃদ্ধ করে, খাবারকে পুষ্টিকর ও ভিজ্যুয়াল আকর্ষণীয় করে তোলেন, যা খেলোয়াড়দের দৈনন্দিন ভিটামিন ও খনিজের চাহিদা পূরণে সহায়ক।
শেফের কাজের মূল অংশ হল ক্লাবের পুষ্টিবিদদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়। তারা খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত পুষ্টি পরিকল্পনা তৈরি করে, এবং টমি সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী খাবার প্রস্তুত করেন। “খেলোয়াড়দের পছন্দ ও অপ্রিয় বিষয় জানার পরই আমরা মেনু গঠন করি,” তিনি ব্যাখ্যা করেন।
এই পদ্ধতি নিশ্চিত করে যে প্রতিটি খাবার শুধু সুস্বাদু নয়, বরং খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্সের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে। ফলে তারা প্রশিক্ষণ ও ম্যাচের সময় সর্বোচ্চ শক্তি বজায় রাখতে পারে।
ক্রিসমাসের সময়সূচি বিশেষভাবে ব্যস্ত। ইংলিশ ফুটবলের শীতকালীন মাসে প্রিমিয়ার লিগের পাশাপাশি ইউরোপীয় প্রতিযোগিতা ও কাপের ম্যাচগুলো একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়। ফলে খেলোয়াড়দের শারীরিক চাহিদা বাড়ে এবং সঠিক পুষ্টি সরবরাহ অপরিহার্য হয়ে ওঠে।
ডিসেম্বরে ক্লাবগুলো অতিরিক্ত লিগ ম্যাচ, ইউরোপরা লিগের গেম এবং ক্যারাবাও কাপ ও এফএ কাপের টুর্নামেন্টে অংশ নেয়। এই সময়ে ম্যাচের ফ্রিকোয়েন্সি বাড়ে, যা খেলোয়াড়দের পুনরুদ্ধার সময় কমিয়ে দেয়।
বিশেষ করে চেলসি ও আর্মসেনের মতো ক্লাবগুলো ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত পনেরোটির বেশি ম্যাচের সূচি পায়। এ ধরনের ঘন ঘন গেমের মধ্যে শারীরিক শক্তি ও মানসিক সতেজতা বজায় রাখতে পুষ্টিকর খাবার অপরিহার্য।
টমি কোলের কাজ হল এই চ্যালেঞ্জের মুখে খেলোয়াড়দের জন্য সঠিক জ্বালানি সরবরাহ করা। “খেলোয়াড়দের গেমের পরিমাণ বেশি হলে, আমরা নিশ্চিত করি যে তারা যথেষ্ট পুষ্টি পায়,” তিনি উল্লেখ করেন। এভাবে ক্রিসমাসের উত্সবের আনন্দের সঙ্গে সঙ্গে পেশাদার ফুটবলের উচ্চমানের পারফরম্যান্স বজায় থাকে।
সারসংক্ষেপে, প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষ খেলোয়াড়দের জন্য টমি কোলের ক্রিসমাস মেনু ঐতিহ্যবাহী স্বাদকে আধুনিক পুষ্টি বিজ্ঞান সঙ্গে মিশিয়ে তৈরি। এই পদ্ধতি খেলোয়াড়দের শারীরিক ফিটনেস, পুনরুদ্ধার এবং গেমের সময় সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স নিশ্চিত করে, যদিও ছুটির দিনগুলোই সবচেয়ে ব্যস্ত।



