গিল্ডফোর্ডের মধ্যযুগীয় হাই স্ট্রিটের শীর্ষে অবস্থিত হোলি ট্রিনিটি গির্জা, ১৪শ শতাব্দী থেকে ধারাবাহিকভাবে উপাসনার স্থান হিসেবে কাজ করছে। ২০২৬ সালে আর্কিবিশপের পদে দায়িত্ব গ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া নতুন নেতা এবং গির্জার অভ্যন্তরে চলমান ধর্মীয় পরিবর্তন, দুটোই দেশের ধর্মীয় আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।
এই লাল ইটের গির্জা, জর্জিয়ান শৈলীর ভবন, স্টুয়ার্ট রাজবংশের সময়ের এক আর্কিবিশপের সমাধি ধারণ করে। গির্জার ইতিহাসে বহু শতাব্দী জুড়ে ধর্মীয় ও সামাজিক পরিবর্তনের সাক্ষী হয়েছে, এবং আজও তার প্রাচীন কাঠামো শহরের ঐতিহ্যের প্রতীক।
বড়দিনের আগে গির্জার প্রাঙ্গণে স্থানীয় চার্চ অফ ইংল্যান্ড স্কুলের শিশুরা ন্যাটিভিটি নাটক, গান ও নৃত্যের মাধ্যমে ঈশ্বরের জন্মের গল্প উপস্থাপন করে। এই ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠানটি গির্জার ঐতিহাসিক পরিবেশের সঙ্গে মিলে একটি শান্তিপূর্ণ দৃশ্য তৈরি করে।
এদিকে, হোলি ট্রিনিটি ও সেন্ট মেরির রেক্টর সাইমন বাটলার, চার্চ অফ ইংল্যান্ডের বর্তমান নীতি অনুসরণ না করে, পৃথকভাবে সমলিঙ্গ দম্পতিদের আশীর্বাদ প্রদান করছেন। এই আশীর্বাদগুলো স্বতন্ত্রভাবে, নিয়মিত সেবার অংশ হিসেবে নয়, বরং একক সেশনে সম্পন্ন হয়, যা গির্জার শাসন কাঠামোর সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি করে।
বাটলারের এই পদক্ষেপকে গির্জার সামগ্রিক অবস্থার প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে, বিশেষ করে লন্ডনের বিশপ সারা মুলালি ২৮ জানুয়ারি থেকে আর্কিবিশপের শীর্ষ দায়িত্ব গ্রহণের প্রস্তুতি নেয়ার সময়। মুলালির নতুন ভূমিকা গির্জার অভ্যন্তরে চলমান বিতর্কের সমাধান ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশ নির্ধারণের চাবিকাঠি হবে।
গত বছর জাস্টিন ওয়েলবি আর্কিবিশপের পদত্যাগের পেছনে মূল কারণ ছিল দেরি করে তথ্য প্রকাশের অভিযোগ, যেখানে মৃত জন স্মিথ, যিনি যুক্তরাজ্য ও জিম্বাবুয়েতে খ্রিস্টীয় শিবির পরিচালনা করতেন, তার বিরুদ্ধে গোপনীয় দুর্ব্যবহার প্রকাশ পায়নি। এই ঘটনা গির্জার নেতৃত্বে বিশ্বাসের সংকট তৈরি করে।
ওয়েলবির পদত্যাগের পর নতুন আর্কিবিশপের নির্বাচন প্রক্রিয়া দীর্ঘ সময় নেয়, তবে তা গির্জার নিয়ম অনুসারে সম্পন্ন হয়। নির্বাচিত নতুন নেতা বহু ধর্মীয় ব্যক্তির স্বীকৃতি পেয়েছেন, যদিও কিছু গোষ্ঠী এখনও সংশয় প্রকাশ করেছে।
নতুন নেতৃত্বের অধীনে গির্জার বহু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনও সমাধানহীন রয়ে গেছে। বিশেষ করে সমলিঙ্গ সম্পর্কের ওপর গির্জার নীতি, যা দশক ধরে বিতর্কের বিষয়, এখনো স্পষ্ট দিকনির্দেশ পায়নি। বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিচ্ছেন, মুলালি যখন ক্যান্টারবেরি ক্যাথেড্রালে শপথ নেবেন, তখন তিনি কঠিন সময়ের মুখোমুখি হবেন।
সমলিঙ্গ সম্পর্কের বিষয়ে গির্জার অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের শিকড় ১৯৫৭ সালের জন ওলফেনডেনের তদন্তে রয়েছে। ওলফেনডেনের দল, যদিও পুরুষের যৌন সম্পর্ক অবৈধ করার বিরুদ্ধে সুপারিশ করেছিল, তবু তা অল্প স্বীকৃতির সঙ্গে প্রকাশ পেয়েছিল। তার মন্তব্যে তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে সমাজের কিছু অংশ এখনও এই বিষয়কে সম্পূর্ণভাবে গ্রহণ করতে প্রস্তুত নয়।
আজকের গির্জা, ঐতিহাসিক ঐতিহ্য ও আধুনিক সামাজিক পরিবর্তনের সংযোগস্থলে দাঁড়িয়ে, কীভাবে সমলিঙ্গ দম্পতিদের স্বীকৃতি ও ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় নীতির মধ্যে সমন্বয় ঘটাবে, তা ভবিষ্যৎ ধর্মীয় নীতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। মুলালির শাসনামলে গির্জার অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও জনসাধারণের বিশ্বাস পুনর্গঠন করা সম্ভব হবে কিনা, তা এখনো অনিশ্চিত, তবে গিল্ডফোর্ডের হোলি ট্রিনিটি গির্জা এই পরিবর্তনের সূচনাস্থল হিসেবে নজরে রয়েছে।



