ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এবং সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ৩৬ জুলাই অনুষ্ঠিত বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের সমাবেশের জন্য ব্যাপক নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রয়োগ করেছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার লক্ষ্য ছিল সমাবেশের সকল অংশগ্রহণকারী ও আশেপাশের নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। এই উদ্যোগের পেছনে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকির প্রতিক্রিয়া রয়েছে।
ডিএমপি গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিএমপি সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, সাদা ইউনিফর্ম পরিহিত ১৫০ থেকে ২০০ জনের মধ্যে একটি বিশেষ দল সমাবেশের পুরো সময়কালে মোতায়েন থাকবে। এই দলটি গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে কাজ করবে।
বিমানবন্দরের ইয়োলো জোন থেকে শুরু করে তারেক রহমানের কনভয় পর্যন্ত সাদা ইউনিফর্ম পরিহিত ডিবি সদস্যরা উপস্থিত থাকবে। কনভয় চলাচলের সময় তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে যাতে কোনো অননুমোদিত হস্তক্ষেপ না ঘটে। এভাবে সমাবেশের আগে ও পরে নিরাপত্তা চেইন বজায় রাখা হবে।
৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়ে পথে সাদা ইউনিফর্ম পরিহিত গোয়েন্দা কর্মীরা বিশেষভাবে মোতায়েন করা হয়েছে। তারা এক্সপ্রেসওয়ের সব গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নজর রাখবে এবং কোনো অস্বাভাবিক কার্যকলাপ সনাক্ত হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে। এই পদক্ষেপটি সমাবেশের গতি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম ব্যবহার করে নিরাপত্তার কোনো ফাঁক না রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সিসিটিভি, ড্রোন, রেডার ও অন্যান্য আধুনিক সিস্টেমের মাধ্যমে সমাবেশের সব দিক পর্যবেক্ষণ করা হবে। ফলে সম্ভাব্য হুমকি দ্রুত শনাক্ত করে প্রতিক্রিয়া জানানো সম্ভব হবে।
বহু নিরাপত্তা সংস্থা একত্রে কাজ করছে। চেয়ারপার্সন সিকিউরিটি ফোর্স (সিএসএফ), মিরপুর সেনানিবাসের এয়ার ডিফেন্স আর্টিলারি ইউনিট, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৪৬ ব্রিগেড, বিভিন্ন গোয়েন্দা টিম, ডিএমপি, বিজিবির চৌকশ টিম, র্যাবের ইন্টেলিজেন্স উইং এবং ব্যাটালিয়ন আনসার সবই সমাবেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অংশগ্রহণ করছে।
এই দলগুলো বিমানবন্দর থেকে এভারকেয়ার হাসপাতাল এবং গুলশানের তারেক রহমানের বাসভবন পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করবে। প্রতিটি পর্যায়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুসারে গতি নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষা বজায় রাখা হবে। এভাবে সমাবেশের পুরো পথ নিরাপদ রাখা সম্ভব হবে।
কিছু নিরাপত্তা কর্মী উচ্চ-উচ্চ ভবনের ছাদে অবস্থান করে অতিরিক্ত নজরদারি চালাবে। ছাদ থেকে দৃশ্যমানতা বাড়িয়ে সম্ভাব্য হুমকি দ্রুত সনাক্ত করা যাবে। এই ব্যবস্থা সমাবেশের আশেপাশের এলাকায় অতিরিক্ত সুরক্ষা প্রদান করবে।
সমাবেশের মঞ্চের অবস্থান সাতবার পরিবর্তন করা হয়েছে। প্রতিটি পরিবর্তনের পেছনে স্নাইপার আক্রমণের সম্ভাবনা বিবেচনা করা হয়েছে। মঞ্চের নতুন অবস্থান নির্ধারণের সময় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
মঞ্চের চারপাশে বুলেটপ্রুফ গ্লাস স্থাপন করা হয়েছে এবং মঞ্চটি দুই স্তরে গঠিত। প্রথম স্তরটি সড়ক থেকে প্রায় আট ফুট উচ্চতায় নির্মিত, আর দ্বিতীয় স্তরটি অতিরিক্ত সাত ফুট উঁচুতে স্থাপন করা হয়েছে। ফলে মঞ্চের মোট উচ্চতা সড়ক থেকে পনেরো ফুটে পৌঁছেছে।
প্রতিটি মঞ্চ পরিবর্তনের সময় স্নাইপার প্রশিক্ষণ পরিচালিত হয়েছে। প্রশিক্ষণটি সম্ভাব্য স্নাইপার আক্রমণের মোকাবিলার জন্য বাস্তবিক দৃশ্যপটের উপর ভিত্তি করে চালানো হয়েছে। এভাবে নিরাপত্তা কর্মীরা জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে সক্ষম হয়েছে।
৩০০ ফুট লম্বা রোডের দুই পাশে অবস্থিত উচ্চ ভবনগুলোকে স্নাইপারের আক্রমণ কোণ থেকে দূরে রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এই ভবনগুলোকে নিরাপদ দূরত্বে রেখে মঞ্চের অবস্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে স্নাইপারের কার্যকরী পরিসীমা সীমিত করা সম্ভব হয়েছে।
সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিকল্পনায় সমাবেশের স্থান, কনভয়, বিমানবন্দর, হাসপাতাল এবং গুলশানের বাসভবন সবই অন্তর্ভুক্ত। প্রতিটি স্থানে নির্দিষ্ট নিরাপত্তা দল ও প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম মোতায়েন করা হয়েছে। এভাবে সমাবেশের পুরো প্রক্রিয়া নিরাপদে সম্পন্ন হবে।
ডিএমপি কর্তৃক গৃহীত এই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাজনৈতিক পরিবেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সমন্বিত কাজ সমাবেশের সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করবে এবং সম্ভাব্য অশান্তি রোধে সহায়তা করবে।
অধিকন্তু, নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সমাবেশের পরেও পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাবে। কোনো অননুমোদিত কার্যকলাপ বা নিরাপত্তা লঙ্ঘন ঘটলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এভাবে সমাবেশের পরবর্তী সময়েও শৃঙ্খলা বজায় থাকবে।
সারসংক্ষেপে, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলো তারেক রহমানের সমাবেশের জন্য সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে ব্যাপক নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে। সাদা ইউনিফর্মের বিশেষ দল, আধুনিক প্রযুক্তি, বহু সংস্থার সমন্বয় এবং স্নাইপার প্রশিক্ষণ—all together—সমাবেশকে নিরাপদে সম্পন্ন করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।



