বেকার্সডাল, জোহানেসবার্গের কাছাকাছি অবস্থিত একটি ট্যাভার্নে রবিবার রাত ১ টার (গ্রীনউইচ মানে ২৩:০০) সময় গুলিবিদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। গুলিবিদ্ধে মোট নয়জনের প্রাণ ত্যাগ করতে হয়েছে এবং স্থানীয় পুলিশ ১২ জন অপরিচিত গুলিবিদকে ধরার জন্য তৎক্ষণাৎ অনুসন্ধান চালু করে। অনুসন্ধানের ফলস্বরূপ আজ পর্যন্ত একাদশ সন্দেহভাজন গ্রেফতার করা হয়েছে।
প্রাদেশিক ডেপুটি কমিশনার ফ্রেড কেকানা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারকৃত সন্দেহভাজনের মধ্যে নয়জন লেসোথের নাগরিক, একজন মোজাম্বিকের এবং আরেকজন দক্ষিণ আফ্রিকান খনি শ্রমিক। অপরাধের সময় গুলিবিদরা ট্যাভার্নের গ্রাহকদের উপর গুলি চালিয়ে চলেছিলেন, ফলে কিছু মানুষ পালিয়ে যাওয়ার সময়ই গুলি মারা যায়। গুলিবিদ্ধের সময় দুজন অতিরিক্ত ব্যক্তি এবং একটি ট্যাক্সি চালকও নিহত হন, যিনি কাছাকাছি একজন যাত্রীকে নামিয়ে দিয়েছিলেন।
গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে অঅনুমোদিত অস্ত্র, যার মধ্যে একটি এ কে-৪৭ রাইফেল অন্তর্ভুক্ত, বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুমোদিত গুলির সংখ্যা প্রায় তিন মিলিয়ন, আর অবৈধ অস্ত্রের সংখ্যা সমান বা তার চেয়েও বেশি বলে অনুমান করা হয়। গুলিবিদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, এই হামলা অনধিকারিক খনি কার্যক্রমের টার্ফ যুদ্ধের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে, যদিও প্রথমে এটি অপ্রত্যাশিত বলে ধারণা করা হয়েছিল।
দক্ষিণ আফ্রিকায় অপরাধের হার বিশ্বে সর্বোচ্চের মধ্যে একটি, যেখানে বেশিরভাগ হত্যাকাণ্ডের পেছনে ব্যক্তিগত বিবাদ, ডাকাতি বা গ্যাং-সংক্রান্ত সংঘর্ষের ভূমিকা থাকে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ২০২০ সাল থেকে চারজন বা তার বেশি মানুষ নিহত বা আহত হওয়া ঘটনা বাড়ছে, যদিও ২০২৫ সালে রিপোর্টকৃত বৃহৎ গুলিবিদ্ধের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে। গবেষক ক্লেয়ার টেলর উল্লেখ করেন, ট্যাভার্ন ও অবৈধ পানীয় ঘর (শেবিন) এই ধরনের আক্রমণের প্রধান লক্ষ্যস্থল।
এই গুলিবিদ্ধের দুই সপ্তাহ আগে প্রিটোরিয়ার সলসভিল হোস্টেলে আরেকটি হামলা ঘটে, যেখানে এক তিন বছর বয়সী শিশু সহ একাদশ ব্যক্তি নিহত হন। উভয় ঘটনার মধ্যে সংযোগ স্থাপনের কোনো স্পষ্ট প্রমাণ না থাকলেও, নিরাপত্তা বাহিনীর উপর চাপ বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। বর্তমানে গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে গুলিবিদ্ধ, অবৈধ অস্ত্রের মালিকানা এবং সম্ভাব্য টার্ফ যুদ্ধের সঙ্গে যুক্ত অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্ত চলমান থাকায়, পরবর্তী আদালত শোনানির তারিখ ও আনুষ্ঠানিক অভিযোগের বিবরণ শীঘ্রই প্রকাশের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
অধিকন্তু, স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা গুলিবিদ্ধের পেছনের প্রেরণা ও সংগঠনের কাঠামো বিশ্লেষণ করতে বিশেষ তদন্ত দল গঠন করেছে। এই দলটি গুলিবিদদের পারস্পরিক সম্পর্ক, সম্ভাব্য গ্যাং সংযোগ এবং অবৈধ খনি কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত আর্থিক লেনদেনের ওপর আলোকপাত করবে। তদন্তের ফলাফল অনুসারে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত অভিযোগ যোগ করা হতে পারে।
দক্ষিণ আফ্রিকায় গুলিবিদ্ধের সংখ্যা হ্রাসের পরেও, বৃহৎ ক্ষতি ঘটানো আক্রমণের সংখ্যা বাড়ছে, যা নিরাপত্তা নীতি পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে। সরকার ও নাগরিক সমাজের বিভিন্ন গোষ্ঠী গুলিবিদ্ধের মূল কারণগুলো, বিশেষ করে অবৈধ খনি কার্যক্রম ও গ্যাং সংঘর্ষ, মোকাবিলার জন্য সমন্বিত পদক্ষেপের আহ্বান জানাচ্ছে।
এই ঘটনার পর, স্থানীয় জনগণ ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার জন্য অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করছে। ট্যাভার্ন ও শেবিনের মালিকদের কাছ থেকে নিরাপত্তা ক্যামেরা স্থাপন, প্রবেশদ্বার নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় পুলিশ সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর দাবি করা হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, বেকার্সডালের গুলিবিদ্ধের ফলে সৃষ্ট শোক ও ক্ষতি অপরিসীম, এবং তদন্তের অগ্রগতি, আদালতের শোনানি ও সংশ্লিষ্ট নীতিগত পরিবর্তনই ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধের মূল চাবিকাঠি হবে।



