ঢাকায় ১৮ ডিসেম্বর রাতের দিকে প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারের কারওয়ান বাজার সদর দফতরে সমন্বিত হিংসাত্মক হামলা সংঘটিত হয়। গোষ্ঠীভুক্ত দাঙ্গা দলগুলো অফিস ভাঙচুর, চুরি এবং অগ্নিকাণ্ড চালায়, ফলে সাংবাদিক ও কর্মচারীরা কয়েক ঘন্টা পর্যন্ত ভবনের ভিতরে আটকে থাকে।
হামলার পরপরই ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ৩১ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে, চিফ অ্যাডভাইজার শাফিকুল আলমের প্রেস সেক্রেটারি গতকাল জানিয়ে দেন যে, দুইটি জাতীয় দৈনিকের অফিসে আক্রমণকারী সকলকে আইনের আওতায় আনা হবে।
ডিএমপির প্রেস রিলিজে উল্লেখ করা হয়েছে, ক্যাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট এবং ডিবি সাইবার (উত্তর) বিভাগ আলাদা আলাদা অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার করেছে। সিটিটিসি দল জাকির হোসেন শান্তো (২৯) কে বেইলি রোড এলাকা থেকে, স্বপন মন্ডল (৩০) কে তঙ্গি, গাজীপুরের আবদুল্লাহপুর চৌরাস্তা থেকে এবং নিয়াজ মাহমুদ ফারহান (২১) কে ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলা থেকে আটক করেছে।
অন্যদিকে, রব-৩ ইউনিটের একটি অভিযানেও আজমির হোসেন আকাশ (২৭) কে তেজগাঁও এলাকায় ধরা পড়ে। রিলিজে বলা হয়েছে, আকাশ সরাসরি দ্য ডেইলি স্টার অফিসে সংঘটিত ধ্বংস ও অগ্নিকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। হামলার সময় চুরি হওয়া ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম, যার মধ্যে দুইটি মনিটর, একটি সিপিইউ, একটি হার্ড ড্রাইভ এবং কেবলস অন্তর্ভুক্ত, তার দখলে আকাশের কাছ থেকে পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারা ফারজানা হক আদালতে গ্রেফতারকৃতদের সামনে উপস্থিত হয়ে তিনজন—আকাশ, জাকির এবং নিয়াজ—কে জেল শাস্তি প্রদান করেন। আদালত গৃহীত আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট অপরাধের প্রমাণ উপস্থাপনের পর এই শাস্তি নিশ্চিত করা হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, এখন পর্যন্ত ৩১ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারের মধ্যে বেশ কয়েকজনের নাম ও বয়স প্রকাশ করা হয়েছে, তবে অন্যান্য গ্রেফতারের পরিচয় ও বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি। গ্রেফতারের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বিভিন্ন বয়সের তরুণ ও মধ্যবয়সী নাগরিক, যাদের বিভিন্ন স্থান থেকে ধরা পড়েছে।
হামলার পরিপ্রেক্ষিতে, দ্য ডেইলি স্টার ও প্রথম আলোর কর্মীরা অফিসে ক্ষতিগ্রস্ত সম্পদ পুনরুদ্ধার ও পুনর্নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।
ডিএমপির মুখপাত্রের মতে, তদন্ত চলমান এবং অতিরিক্ত সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার করা হতে পারে। সিটিটিসি ও ডিবি সাইবার (উত্তর) ইউনিটের সমন্বিত প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে, যাতে পুরো ঘটনার দায়িত্বশীলদের সম্পূর্ণভাবে আইনের আওতায় আনা যায়।
প্রেস সেক্রেটারির বিবৃতি অনুসারে, ভবিষ্যতে এ ধরনের হিংসাত্মক আক্রমণ রোধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি কঠোর পদক্ষেপ নেবে এবং মিডিয়া সংস্থার স্বাধীনতা রক্ষায় সকল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
এই ঘটনার পর, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাংবাদিক স্বাধীনতা সংক্রান্ত উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তবে, কর্তৃপক্ষের দ্রুত গ্রেফতার ও আদালতের শাস্তি প্রদানকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
হামলার সময় অফিসে আটকে থাকা সাংবাদিক ও কর্মচারীরা নিরাপদে বেরিয়ে আসার পর, তারা ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করা হয়। ক্ষতিগ্রস্ত সম্পদের তালিকা ও পুনরুদ্ধারকৃত সামগ্রীর তথ্য সংশ্লিষ্ট বিভাগে জমা দেওয়া হয়েছে।
অধিক তথ্যের জন্য, সংশ্লিষ্ট আইনগত ও তদন্তমূলক প্রক্রিয়ার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং নতুন কোনো উন্নয়ন ঘটলে তা জনসাধারণের জানাতে হবে।



