ডেটা সেন্টারগুলো এখন কেবল ব্যাকএন্ড অবকাঠামো নয়, বরং জনমত ও রাজনীতির কেন্দ্রে রয়েছে। গত বারো মাসে দেশব্যাপী বহু রাজ্যে প্রতিবাদ দেখা গেছে, যেখানে স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশগত সংগঠনগুলো নতুন সার্ভার ফার্মের নির্মাণের বিরোধিতা করছে।
পূর্বে অধিকাংশ আমেরিকান নাগরিকের ডেটা সেন্টার সম্পর্কে জ্ঞান সীমিত ছিল; এগুলোকে অদৃশ্য কিন্তু অপরিহার্য ইন্টারনেটের মেরুদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হতো। প্রযুক্তি শিল্পের বাইরে এই অবকাঠামোর কোনো রাজনৈতিক প্রভাব দেখা যেত না।
কিন্তু ২০২৫ সালের শেষের দিকে পরিস্থিতি বদলে গেছে। ডেটা সেন্টার বিরোধী আন্দোলন পর্যবেক্ষণকারী একটি সংস্থা অনুযায়ী, বর্তমানে ২৪টি রাজ্যে ১৪২টি স্বতন্ত্র গ্রুপ সক্রিয়ভাবে এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে কাজ করছে। এই গোষ্ঠীগুলো বিভিন্ন রূপে প্রতিবাদ, জনসচেতনতা ক্যাম্পেইন এবং আইনগত চ্যালেঞ্জের মাধ্যমে তাদের মতামত প্রকাশ করছে।
অ্যাক্টিভিস্টদের উদ্বেগের মূল বিষয়গুলো হল পরিবেশগত ক্ষতি, সম্ভাব্য স্বাস্থ্যের ঝুঁকি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার। তাছাড়া, নতুন ডেটা সেন্টারগুলো বিদ্যুৎ গ্রিডে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে, যা স্থানীয় বিদ্যুৎ বিলের বৃদ্ধি ঘটাতে পারে।
এই উদ্বেগগুলো স্বাভাবিক, কারণ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এআই ও ক্লাউড কম্পিউটিং শিল্পের দ্রুত বিস্তার ঘটেছে। এআই মডেলগুলোকে প্রশিক্ষণ ও চালানোর জন্য বিশাল পরিমাণে গণনা ক্ষমতা প্রয়োজন, যা সরাসরি ডেটা সেন্টারের চাহিদা বাড়িয়ে দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্সাস ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সাল থেকে ডেটা সেন্টার নির্মাণে ব্যয় ৩৩১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই অগ্রগতি শত শত বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগকে নির্দেশ করে, যা দেশের প্রযুক্তি অবকাঠামোর সবচেয়ে দ্রুতগতির বৃদ্ধি হিসেবে চিহ্নিত।
বিনিয়োগের পরিমাণ বিশাল হলেও, বাস্তবে কতগুলো প্রকল্প সম্পন্ন হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রস্তাবিত বহু ডেটা সেন্টার এমন অবস্থায় রয়েছে যে সেগুলো বাস্তবায়ন করা কঠিন, অথবা সম্পূর্ণই অসম্ভব হতে পারে।
তবু, শিল্পের গতি ধীর হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। বড় বড় প্রযুক্তি কোম্পানি এবং বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এখনও নতুন ডেটা সেন্টার নির্মাণে বিশাল তহবিল বরাদ্দ করছে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় স্কেলের অবকাঠামো গড়ে তুলবে।
গুগল, মেটা, মাইক্রোসফট এবং অ্যামাজনসহ প্রধান টেক জায়ান্টগুলো আগামী অর্থবছরে উল্লেখযোগ্য মূলধন ব্যয় পরিকল্পনা করেছে। এই ব্যয়ের বেশিরভাগই ডেটা সেন্টার ও এআই ইনফ্রাস্ট্রাকচার উন্নয়নে যাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
ডেটা সেন্টার নির্মাণের ত্বরান্বিত গতি কেবল সিলিকন ভ্যালি নয়, ওয়াশিংটন ডিসি-র নীতিনির্ধারকদেরও প্রভাবিত করছে। ফেডারেল স্তরে এআই ও ক্লাউড পরিষেবার নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনার অংশ হিসেবে ডেটা সেন্টারের ভূমিকা বাড়ছে।
বৈদ্যুতিক গ্রিডে অতিরিক্ত লোডের ফলে স্থানীয় বিদ্যুৎ সরবরাহের স্থিতিশীলতা ও খরচে প্রভাব পড়তে পারে। পরিবেশগত দৃষ্টিকোণ থেকে, ডেটা সেন্টারগুলোকে চালাতে প্রয়োজনীয় শক্তি প্রায়ই ফসিল ফুয়েল ভিত্তিক, যা কার্বন নির্গমন বাড়ায়।
এই বাস্তবতা স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে বিদ্যুৎ বিলের বৃদ্ধি ও পরিবেশগত অবনতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে। ফলে, ডেটা সেন্টার নির্মাণের অনুমোদন প্রক্রিয়ায় পরিবেশগত মূল্যায়ন ও সামাজিক প্রভাব বিশ্লেষণকে বাধ্যতামূলক করা নিয়ে আলোচনা তীব্রতর হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, ডেটা সেন্টার শিল্পের দ্রুত সম্প্রসারণ এবং তার সঙ্গে যুক্ত সামাজিক-পরিবেশগত চ্যালেঞ্জগুলো একসাথে মোকাবেলা করা প্রয়োজন। ভবিষ্যতে প্রযুক্তি ও নীতি নির্ধারকদের সমন্বিত প্রচেষ্টা ছাড়া এই অবকাঠামোর টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।
এই প্রবণতা দেখায় যে, ডেটা সেন্টারগুলো এখন কেবল প্রযুক্তিগত সুবিধা নয়, বরং জনসাধারণের জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। তাই, শিল্পের বৃদ্ধি ও জনমতের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার জন্য নীতি, প্রযুক্তি ও সম্প্রদায়ের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য।



