19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিমার্কো রুবিও ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপীয় প্রযুক্তি গবেষকদের প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে

মার্কো রুবিও ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপীয় প্রযুক্তি গবেষকদের প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ঘোষণা করেছে যে পাঁচজন ইউরোপীয় প্রযুক্তি গবেষককে, যার মধ্যে প্রাক্তন ইউরোপীয় কমিশনার থিয়েরি ব্রেটনও অন্তর্ভুক্ত, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি বাতিল করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি সামাজিক মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ ও অনলাইন বিষয়বস্তু সম্পর্কিত চলমান বিরোধের প্রেক্ষাপটে নেওয়া হয়েছে।

ব্যানের তালিকায় থিয়েরি ব্রেটন, যিনি পূর্বে ইউরোপীয় কমিশনার হিসেবে অভ্যন্তরীণ বাজার ও ডিজিটাল সেবা বিভাগে দায়িত্ব পালন করেছেন, পাশাপাশি সেন্টার ফর কাউন্টারিং ডিজিটাল হেট (CCDH) এর ইমরান আহমেদ, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য সচিব রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়র, এবং যুক্তরাজ্যের গ্লোবাল ডিজইনফরমেশন ইনডেক্সের ক্লেয়ার মেলফোর্ড অন্তর্ভুক্ত। তালিকায় আরও অ্যানা-লেনা ভন হোডেনবার্গ এবং জোসেফি নামের দুজন গবেষক উল্লেখ রয়েছে, যদিও তাদের পদবী ও সংস্থা স্পষ্ট করা হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র সচিব মার্কো রুবিও এই নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে মন্তব্য করে বলেন, “ইউরোপে দীর্ঘদিন ধরে কিছু মতাদর্শিক গোষ্ঠী আমেরিকান প্ল্যাটফর্মকে আমাদের মতামত দমন করতে চাপিয়ে আসছে। এই ধরনের বহির্গামী সেন্সরশিপ আর সহ্য করা যাবে না।” রুবিওর এই বক্তব্যের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারী নীতি যুক্ত হয়েছে যে, বিদেশি সংস্থা ও ব্যক্তিরা আমেরিকান ডিজিটাল সেবার ওপর অযৌক্তিক প্রভাব বিস্তার করতে পারে।

থিয়েরি ব্রেটনকে ইউরোপীয় ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্ট (DSA) এর মূল স্থপতি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। DSA ইউরোপীয় ইউনিয়নের অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্য নতুন নিয়মাবলী নির্ধারণ করে, যার লক্ষ্য অনলাইন হেট স্পিচ, মিথ্যা তথ্য এবং অবৈধ বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণ করা। রুবিওর অধীনস্থ উপ-পররাষ্ট্র সচিব সারা রজার্সের মতে, ব্রেটন ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতের আগে ইলন মাস্ককে X (পূর্বে টুইটার) প্ল্যাটফর্মের DSA লঙ্ঘনের সম্ভাবনা ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে সতর্ক করে ছিলেন। এই সতর্কতা ছিল প্ল্যাটফর্মের অবৈধ বিষয়বস্তু ও মিথ্যা তথ্যের বিরুদ্ধে চলমান তদন্তের প্রেক্ষাপটে।

ইমরান আহমেদ, যিনি CCDH-তে কাজ করেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অ্যান্টি-ভ্যাকসিন গোষ্ঠীর সদস্যদের প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে ফেলতে আহ্বান জানিয়েছিলেন। রুবিওর সরকার এই আহ্বানকে বিদেশি হস্তক্ষেপের উদাহরণ হিসেবে দেখেছে এবং তাই আহমেদের প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। একই সময়ে রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়র, যিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, তাকে এই তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে, যদিও তার নির্দিষ্ট ভূমিকা স্পষ্ট করা হয়নি।

ক্লেয়ার মেলফোর্ডের নেতৃত্বাধীন গ্লোবাল ডিজইনফরমেশন ইনডেক্স অনলাইন প্ল্যাটফর্মে হেট স্পিচ পর্যবেক্ষণ করে এবং তা রিপোর্ট করে। মেলফোর্ডের দলকে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সংস্থা “ডিজিটাল হেট” মোকাবেলায় সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। অ্যানা-লেনা ভন হোডেনবার্গ এবং জোসেফি নামের দুজন গবেষকও একই ধরনের উদ্বেগের ভিত্তিতে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিকোণ থেকে এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হল ইউরোপীয় সংস্থার দ্বারা আমেরিকান ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বহির্গামী নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা থামানো। রুবিও উল্লেখ করেন, “আমাদের প্ল্যাটফর্মে বিদেশি আইনি কাঠামো প্রয়োগ করা আমাদের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন।” তিনি আরও যোগ করেন, “এই নিষেধাজ্ঞা আমাদের ডিজিটাল নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।”

ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা এখনো এই নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে কোনো সরকারি মন্তব্য প্রকাশ করেননি, তবে বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে এই সিদ্ধান্ত ইউরোপ-আমেরিকা প্রযুক্তি সহযোগিতায় নতুন উত্তেজনা তৈরি করতে পারে। DSA-র কার্যকর বাস্তবায়ন ও ইউরোপীয় ডিজিটাল নীতির আন্তর্জাতিক সমর্থন এখনো অনিশ্চিত হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভবিষ্যতে এই নিষেধাজ্ঞা কী প্রভাব ফেলবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। একদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সরকার দাবি করে যে এটি বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে রক্ষা করবে, অন্যদিকে ইউরোপীয় দেশগুলো এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইন ও দ্বিপাক্ষিক চুক্তির লঙ্ঘন হিসেবে দেখতে পারে। যদি এই বিরোধ বাড়ে, তবে ইউরোপীয় ডিজিটাল নীতি ও আমেরিকান প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর মধ্যে সহযোগিতা কঠিন হয়ে পড়তে পারে, যা শেষ পর্যন্ত ব্যবহারকারীদের জন্য সীমিত সেবা ও উচ্চতর নিয়ন্ত্রক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

এই নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের ডিজিটাল নীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের নতুন মোড় নির্দেশ করে। সরকারী সূত্রে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে আরও কঠোর নিয়মাবলী ও প্রবেশ সীমাবদ্ধতা আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে, বিশেষ করে যখন ইউরোপীয় সংস্থা ও গবেষকরা আমেরিকান প্ল্যাটফর্মে বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে সংলাপের প্রয়োজনীয়তা বাড়বে, যাতে উভয় পক্ষের স্বার্থ ও ডিজিটাল স্বাধীনতা রক্ষা করা যায়।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Engadget
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments