ঢাকা – চিফ অ্যাডভাইজার মুহাম্মদ ইউনুসের সভাপতিত্বে চিফ অ্যাডভাইজারের অফিসে গতকাল অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে বর্তমান অর্থবছর ২০২৫-২৬ এর জন্য সংশোধিত বাজেট অনুমোদিত হয়েছে। মোট ব্যয় ৭.৮৮ লক্ষ কোটি টাকা নির্ধারিত হয়েছে, যা পূর্বে ঘোষিত ৭.৯০ লক্ষ কোটি টাকার তুলনায় ২,০০০ কোটি টাকা কম।
বৈঠকে বাজেটের মূল কাঠামো পুনর্বিবেচনা করা হয় এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ৩০,০০০ কোটি টাকা হ্রাস করে ২ লক্ষ কোটি টাকায় সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। এই পরিবর্তনগুলো সরকারের আর্থিক ভারসাম্য রক্ষার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
প্রেস সেক্রেটারি শফিকুল আলমের মতে, সংশোধিত বাজেটের কার্যকরী তারিখ আগামী বছরের ১ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান অর্থবছরে রাজস্ব সংগ্রহের গতি বৃদ্ধি পেয়েছে; জুলাই-অক্টোবর সময়কালে সংগ্রহের বৃদ্ধি ২৬.৪ শতাংশে পৌঁছেছে, যা গত বছরের একই সময়ে ২৪.১ শতাংশের তুলনায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি।
এই প্রবণতাকে ধরা দিয়ে রাজস্ব লক্ষ্য ৫.৮৮ লক্ষ কোটি টাকা নির্ধারিত হয়েছে, যা পূর্বের ৫.৬৪ লক্ষ কোটি টাকার লক্ষ্য থেকে ২৪,০০০ কোটি টাকা, অর্থাৎ ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। লক্ষ্য অর্জনের জন্য নন-এনবিআর করের সংগ্রহ ২০,০০০ কোটি টাকা থেকে ১৯,০০০ কোটি টাকায় বাড়ানো হয়েছে।
অন্যদিকে, নন-ট্যাক্স রাজস্বের লক্ষ্য ৬৫,০০০ কোটি টাকা নির্ধারিত হয়েছে, যা পূর্বের ৪৬,০০০ কোটি টাকার তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। ন্যাশনাল বর্ডার রেভিনিউ (এনবিআর) নিজস্ব লক্ষ্য ৫.০৩ লক্ষ কোটি টাকা করে বাড়িয়ে ৪.৯৯ লক্ষ কোটি টাকার পূর্বের মান অতিক্রম করেছে।
বাজেটের ঘাটতি ৩.৩ শতাংশ জিডিপি পর্যন্ত কমিয়ে আনা হয়েছে, যা আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত। শফিকুল আলম উল্লেখ করেন যে, চিফ অ্যাডভাইজার জাতীয় স্বনির্ভরতা বাড়াতে বাজেটকে কেন্দ্রিক করেছেন এবং বিদেশি ঋণ দিয়ে পরিচালিত প্রকল্পগুলো ধীরে ধীরে কমিয়ে দেশীয় সম্পদ দিয়ে অর্থায়ন করার নির্দেশ দিয়েছেন।
বাজেটের মূল দিকনির্দেশে শিক্ষা, গ্রামীণ উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন, যুব উদ্যোগ এবং স্বাস্থ্য খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এই ক্ষেত্রগুলোতে অতিরিক্ত তহবিল বরাদ্দের মাধ্যমে সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার পরিকল্পনা সরকার প্রকাশ করেছে।
মুদ্রাস্ফীতি হ্রাসের লক্ষ্যে ৭ শতাংশের নিচে নামার প্রত্যাশা করা হচ্ছে, আর জিডিপি বৃদ্ধির হার বর্তমান অর্থবছরে ৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এই পূর্বাভাসগুলো অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের সংকেত হিসেবে বিশ্লেষকরা গ্রহণ করছেন।
বাজেট সংশোধনের পরবর্তী ধাপ হিসেবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে নির্ধারিত তহবিলের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবং স্বনির্ভরতা বাড়াতে প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে বলা হয়েছে। সরকার এই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় রাখতে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠন করার পরিকল্পনা করেছে।



