পাকিস্তানি অলরাউন্ডার খুশদিল শাহ, যিনি গত আট‑নয় বছর ধরে বাংলাদেশি ক্রিকেটে অংশ নিচ্ছেন, রংপুর রাইডার্সের সঙ্গে নতুন বিসিএল মৌসুমে ফিরে এসেছেন। তিনি পূর্বে দুই মৌসুম কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের জন্য খেলেছেন এবং প্রথম মৌসুমেই চমৎকার পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। গত মৌসুমে কুমিল্লা থেকে দূরে থাকলেও রাইডার্সের সঙ্গে তার সম্পর্ক দৃঢ়, এবং নিলামের আগে থেকেই দল তাকে নিশ্চিত করেছে।
খুশদিলের রংপুর রাইডার্সের জন্য গত মৌসুমের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তিনি দশটি ম্যাচে গড়ে প্রায় ষাট রান করেছেন এবং তার স্ট্রাইক রেট ১৭৫.২৯। বল হাতে তিনি প্রতি ওভারে মাত্র ছয় দশমিক শূন্য তিন রান দিয়ে ১৭টি উইকেট নেন। এমন বহুমুখী পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে দল তাকে পুনরায় বেছে নেওয়া স্বাভাবিক।
রাইডার্সের সঙ্গে প্রথম প্রশিক্ষণ সেশনের ফাঁকে খুশদিল মিডিয়ার সামনে বললেন, “বাংলাদেশে আট‑নয় বছর ধরে আসছি, এখানে খেলতে পছন্দ করি। যদি না পছন্দ হতো, তবে হয়তো ফিরে যেতাম না।” তিনি আরও যোগ করেন, “বিপিএল আমার জন্য সৌভাগ্যের সুযোগ, গত বছরও ভালো পারফরম্যান্সের ফলে পাকিস্তান দলের দলে ফিরে যেতে পেরেছি। এই বছরও দলকে জয়ী করতে পারফরম্যান্স বজায় রাখব।”
এশিয়া কাপের পরে সেপ্টেম্বর মাসে তিনি কোনো সীমিত‑ওভার ম্যাচে অংশ নেননি। তবে অক্টোবর‑নভেম্বর মাসে পাকিস্তানের ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির টুর্নামেন্ট কায়েদ‑ই‑আজম ট্রফিতে তিনি আক্রমণাত্মক খেলা চালিয়ে গেছেন। সেখানে তিনি ২০৬ বলে ২৫৭ রান, ১৫৯ বলে ১৫০ রান এবং আরেকটি ম্যাচে ৯৫ বলে ১০৯ রান করেছেন, যা তার আক্রমণাত্মক শৈলীর প্রমাণ। এই ফর্মকে তিনি বিসিএল-এ পুনরায় আনার লক্ষ্য প্রকাশ করেছেন।
টি‑টোয়েন্টি ফরম্যাটে খুশদিল প্রধানত ফিনিশার হিসেবে কাজ করেন। দল বিপদে পড়লে তিনি দ্রুত স্কোর বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করেন, যদিও এই ভূমিকা চ্যালেঞ্জিং। তবু তিনি এই চ্যালেঞ্জকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “যে কোনো ফরম্যাটে, ক্লাব, ঘরোয়া বা আন্তর্জাতিক, আমার লক্ষ্য পারফর্ম করা। আমি ঘরোয়া ক্রিকেটে ডাবল সেঞ্চুরি, দেড়শ, পঞ্চাশের ইনিংস করেছি, তাই আত্মবিশ্বাসী যে যেকোনো সুযোগে দলের জন্য অবদান রাখতে পারব।”
রংপুর রাইডার্সের সঙ্গে তার পুনরায় যুক্ত হওয়া দলকে অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার যোগ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তার ব্যাটিং গড় ও উচ্চ স্ট্রাইক রেট টিমের মাঝারি ও শেষ ওভারে দ্রুত রান তৈরি করতে সহায়তা করবে, আর তার বোলিং গতি ও নিয়মিত উইকেট নেওয়ার ক্ষমতা মধ্যম ওভারগুলোকে নিয়ন্ত্রণে রাখবে। কোচিং স্টাফের মতে, খুশদিলের বহুমুখিতা দলকে ব্যালান্সড অপশন দেবে, বিশেষ করে টার্নওভারের সময়।
বিসিএলের নতুন মৌসুমের সূচি শীঘ্রই প্রকাশিত হবে, এবং রাইডার্সের প্রথম ম্যাচে খুশদিলের উপস্থিতি দর্শকদের প্রত্যাশা বাড়িয়ে দেবে। তিনি উল্লেখ করেছেন, “যে দলেই খেলি না কেন, পারফর্ম করা আমার মূল লক্ষ্য। এই মৌসুমে আবারও দলকে জয়ী করতে সবকিছু দেব।” তার এই দৃঢ়সংকল্প এবং পূর্বের সাফল্যকে বিবেচনা করে রাইডার্সের ভক্তরা তার পারফরম্যান্সকে ঘনিষ্ঠভাবে অনুসরণ করবেন।
খুশদিলের বাংলাদেশি ক্রিকেটে দীর্ঘমেয়াদী উপস্থিতি এবং রাইডার্সের সঙ্গে তার পুনরায় চুক্তি, দেশের টি‑টোয়েন্টি লিগকে আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড়ের সঙ্গে সমৃদ্ধ করে তুলবে। তার ব্যাটিং ও বোলিং উভয় দিকের দক্ষতা, পাশাপাশি তার ইতিবাচক মনোভাব, দলকে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সমর্থন করবে। ভক্তদের প্রত্যাশা, মিডিয়ার মনোযোগ এবং দলের কৌশলগত পরিকল্পনা—all একসাথে খুশদিলের নতুন মৌসুমকে আকর্ষণীয় করে তুলবে।
সারসংক্ষেপে, খুশদিল শাহের রংপুর রাইডার্সে ফিরে আসা, তার চমৎকার পরিসংখ্যান এবং সাম্প্রতিক ঘরোয়া টুর্নামেন্টে আক্রমণাত্মক পারফরম্যান্স, তাকে বিসিএল‑এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অলরাউন্ডার করে তুলেছে। তার লক্ষ্য স্পষ্ট: পারফর্ম করা, দলকে জয়ী করা এবং বাংলাদেশি ক্রিকেটের মঞ্চে নিজের ছাপ রেখে যাওয়া।



