মালি, বুর্কিনা ফাসো ও নাইজার তিনটি দেশ সাম্প্রতিক দুই দিনের সেহেল রাষ্ট্রসমূহের জোট (AES) শীর্ষ সম্মেলনের সমাপ্তিতে একত্রে প্রায় ৫,০০০ সৈন্য নিয়ে গঠিত একটি যৌথ সেনাবাহিনী চালু করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। এই সিদ্ধান্তটি বামাকোতে অনুষ্ঠিত শীর্ষ সম্মেলনের শেষ দিনে নেওয়া হয়, যেখানে নিরাপত্তা পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় উগ্র গোষ্ঠী ও সন্ত্রাসী সংগঠনের আক্রমণ বাড়ছে।
সম্মেলনে যৌথ সেনাবাহিনীর মূল কাজ হিসেবে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান এবং সীমান্ত রক্ষা করা নির্ধারিত হয়েছে। ত্রয়ী দেশ এই উদ্যোগকে সেহেলের দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তা সংকটের সমাধান হিসেবে তুলে ধরেছে, যেখানে আল-কায়েদা ও আইএসআইএল (ইসিস) সংযুক্ত গোষ্ঠী সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
বুর্কিনা ফাসোর নেতা ইব্রাহিম ত্রোরে জোটের প্রধান হিসেবে নির্বাচিত হন এবং তিনি আগামী দিনগুলোতে বৃহৎ পরিসরের যৌথ অভিযান চালু করার কথা জানান। ত্রোরে উল্লেখ করেন যে এই অভিযানগুলো সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সমন্বিতভাবে কাজ করবে এবং সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করবে।
নাইজারের সামরিক সরকার প্রধান ওমর তচিয়ানি জোটের ঘোষণার পর মন্তব্য করে বলেন, AES তাদের দেশ থেকে সব বিদেশি দখলকারী বাহিনীর অবসান ঘটিয়েছে এবং আর কোনো দেশ বা স্বার্থের গোষ্ঠী তাদের স্বায়ত্তশাসন নির্ধারণ করতে পারবে না। এই বক্তব্যটি জোটের স্বনির্ভরতা ও আঞ্চলিক স্বার্থ রক্ষার সংকল্পকে তুলে ধরে।
সম্মেলনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা হল AES টেলিভিশনের সূচনা, যা সরকারী যোগাযোগের মাধ্যমে মিথ্যা তথ্যের মোকাবেলা এবং সেহেল অঞ্চলের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি প্রচারের উদ্দেশ্যে গৃহীত হয়েছে। টেলিভিশনটি ভবিষ্যতে আঞ্চলিক সংবাদ, বিশ্লেষণ ও সংস্কৃতি বিষয়ক প্রোগ্রাম সম্প্রচার করবে বলে জানানো হয়েছে।
বুর্কিনা ফাসোর প্রেস বিবৃতি অনুসারে, জোটের সদস্য দেশগুলো বাস্তবায়ন রিপোর্ট পর্যালোচনা করবে, অর্জিত সাফল্যকে সংহত করার জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে এবং ব্লকের মুখোমুখি প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো সমাধানের জন্য পদক্ষেপ নেবে।
গত কয়েক বছর ধরে ত্রয়ী দেশ তাদের ঐতিহ্যবাহী নিরাপত্তা অংশীদার ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রকে দেশ থেকে বের করে নিয়েছে। ফরাসি সৈন্যদের দীর্ঘদিনের উপস্থিতি শেষ হয়ে গেছে, আর নাইজার থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১,০০০ সৈন্যের অবসর এবং আফ্রিকায় সর্ববৃহৎ ড্রোন ঘাঁটি অপসারণের পরিপ্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপগুলো নেওয়া হয়েছে।
এই নিরাপত্তা পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে, যৌথ সেনাবাহিনীর গঠন এবং AES টেলিভিশনের চালু হওয়া সেহেল অঞ্চলের রাজনৈতিক ও সামরিক দৃশ্যপটকে নতুন দিকনির্দেশনা দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, সমন্বিত বাহিনীর মাধ্যমে সীমান্তে অবৈধ অস্ত্র প্রবাহ ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর চলাচল কমে আসতে পারে, তবে বাস্তবায়নের জন্য যথাযথ তহবিল, প্রশিক্ষণ ও আন্তর্জাতিক সমর্থন প্রয়োজন হবে।
আসন্ন মাসগুলোতে জোটের সদস্য দেশগুলো যৌথ প্রশিক্ষণ, সরঞ্জাম ভাগাভাগি এবং কৌশলগত সমন্বয় বাড়াবে বলে জানিয়েছে। এছাড়া, AES টেলিভিশনের মাধ্যমে আঞ্চলিক জনগণের মধ্যে সঠিক তথ্য পৌঁছানোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে, যাতে মিথ্যা খবরের প্রভাব কমে এবং জনগণের নিরাপত্তা সচেতনতা বৃদ্ধি পায়।
সেহেল অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনো অস্থির, তবে এই নতুন যৌথ উদ্যোগ এবং মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ত্রয়ী দেশ একসঙ্গে কাজ করে দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা অর্জনের পথে অগ্রসর হতে পারে।



